প্রফেসর শফিকুর রহমান : NCPতে কিছুটা বিদ্রোহের আভাস দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ৮ দলীয় ঐক্যজোটের সাথে NCPর নির্বাচনী ঐক্য চূড়ান্ত হওয়ার পর কেউ কেউ বিদ্রোহের আভাস দিয়েছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (সংক্ষেপে এনসিপি) হলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি কর্তৃক বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক করে ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম ছাত্র-নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল।
এই NCP ১২৫ আসনে নমিনেশন ও দিয়েছিল। কিন্ত শহীদ হাদীর হত্যাকাণ্ডের পর তারা বুঝতে পারলেন ফ্যাসিবাদী শক্তি ২৪ এর গন অভ্যুত্থানএর নেতৃত্ব দানকারীদের টার্গেট করে হত্যার খেলায় মেতে উঠেছে। বিভিন্ন গনমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় যে দশ জনের হিটলিস্ট প্রকাশিত হয়েছে, তাতে জুলাই গন অভ্যুত্থানের সমুখ সারির নেতা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের নাম রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
এদিকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে NCPর রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটেছে। একদিকে বিএনপি যেমন তাদেরকে জোটে নিতে আগ্রহ দেখায়নি, অন্যদিকে জামায়াত তাদের জন্যে আসন ছাড় দিতে রাজী হয়েছে। যদিও বিএনপির পক্ষে NCPকে আসন ছাড় না দেয়ার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। বড় দল হিসেবে তাদের একটি আসনে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। একজনকে নমিনেশন দিলে অন্যরা বিদ্রোহ করে বসছে। তাই তাদের পক্ষে NCPকে সম্মান জনক আসন ছাড় দেয়া কঠিন। NCP যদি জামায়াতের সঙ্গে যোগ দিয়ে সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রশক্তি দিয়ে ফ্যাসিবাদী ও আধিপত্তবাদীদের শক্ত হাতে মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে একা নির্বাচন করলে NCP উল্লেখযোগ্য আসন নাও পেতে পারে, সেই ঝুঁকিও রয়েছে। এদিকে জামায়াত ও NCP দুই দলের মধ্যে একটি মিল রয়েছে। সংস্কার ও গণভোট প্রসঙ্গে দুই দলই ঐকমত পোষণ করে।
কিন্ত একটি গুরুতর সমস্যা হোল, NCP যাদেরকে ১২৫ আসনে মনোনয়ন দিয়েছিল, তাদের অনেকেই নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলেন। এখন জামাতের সাথে সমঝোতার ফলে তাদের প্রায় ৯৫ জন প্রার্থীকে নির্বাচনী দৌড় থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে তারা সামাজিকভাবে একটু বেকায়দায় পড়বেন। সেকারণেই তাদের কেউ কেউ দলত্যাগ করতে চাচ্ছেন। তাহলে যারা দল ত্যাগ করতে চাচ্ছেন, দলের প্রতি তাদের কমিটমেন্ট কোথায়? অন্যদিকে জামায়াতের যে সকল আসনে NCP নেতাদের নমিনেশন দেয়া হয়েছে এবং এক বছরের বেশী সময় ধরে যারা ঐ সমস্ত আসনে নিজ নিজ এলাকায় দলীয় প্রচারণা চালাচ্ছেন, তারা হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন।
সুতরাং সামগ্রিক বিবেচনায় নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে NCPর নেতৃবৃন্দ আট দলীয় জোটে যুক্ত হওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা তাদের জন্যে আশীর্বাদ না অভিশাপ, সেটা নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলসে। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে যোগদান NCPর জন্যে আশীর্বাদই হবে। তবে, চূড়ান্ত ফলাফল দেখার জন্যে আমাদেরকে আরও ছয় সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।