ব্রিজবেনে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সুপ্রভাত সিডনি রিপোর্ট : এক অদ্ভুত নীরবতা, ভারী হৃদয় আর অশ্রুসিক্ত চোখে শুরু হয় বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল।

প্রবাসের মাটিতে দাঁড়িয়েও সবার মন পড়ে ছিল স্বদেশ বাংলাদেশে। কারণ, সেদিন যেন বাংলাদেশের ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। চলে গেছেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক সাহসী প্রতীক, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

তার স্মরণে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ব্রিজবেনে বিএনপি কুইন্সল্যান্ডের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে মরহুম নেত্রীর রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়। পুরো হলজুড়ে ছিল গভীর শোকের আবহ, অনেকের চোখে অশ্রু, অনেকের কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে আবেগে।

ব্রিজবেনের অক্সফোর্ড রোডে অবস্থিত ওইইএস হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে পেশাজীবী বাঙালি, প্রবীণ সদস্য, নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী, গৃহিণী ও নারী সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

শোকসভা পরবর্তী আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন,  নৈরাজ্যের অবসান এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সহনশীলতা, আপসহীনতা ও গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল প্রতীক। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন।

আলোচনায় বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, জীবনের শেষ পর্যায়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্মম নির্যাতন, অবহেলা ও অসুস্থতার মধ্যেও তিনি দেশের কথা ভেবেছেন। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিএনপির চেয়ারপারসনকে যেভাবে একটি পরিত্যক্ত কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল, তা ইতিহাসে এক নির্মম ও বর্বর অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তবুও তিনি প্রতিশোধের ভাষা নয়, বরং শান্তি, সহনশীলতা ও সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে ডা. মোহাম্মদ ইসলাম জামান ও ডা. কবিদ বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে তৎকালীন সরকারের চরম অবহেলা ও নিষ্ঠুর আচরণের বিবরণ তুলে ধরেন। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ডা. ইমরান, আনোয়ার হোসেন এবং বিএনপি কুইন্সল্যান্ডের নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বিএনপি কুইন্সল্যান্ডের আহ্বায়ক সাঈদ চৌধুরী বলেন “আজ শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে হারাইনি আমরা। আজ আমরা হারিয়েছি একজন মা, একজন অভিভাবক। বাংলাদেশের রাজনীতির এক সাহসী হৃদস্পন্দন আজ থেমে গেছে।

নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কিংবা অসুস্থতার কথা না ভেবে তিনি আজীবন দেশ, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। কারাগারের অন্ধকারে কাটানো অসংখ্য রাত, সহ্য করা অপমান ও নির্যাতন কোনো কিছুই তাকে মাথা নত করতে পারেনি। এই সংকটময় সময়ে বাংলাদেশের তাকে ভীষণ প্রয়োজন ছিল।”

কুইন্সল্যান্ড বিএনপির  জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো স্থিতিশীলতা। আর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমেই সেই স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

বক্তারা সর্বসম্মতভাবে বলেন, একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আলোচনা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বনি তুষি, সালাম ভাই এবং মাওলানা সাহেবকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *