এপস্টাইন একজন নরখাদক ছিলেন !

সুপ্রভাত সিডনি প্রতিবেদন: ২০২৪ সালের শুরুর দিকে নিউ ইয়র্কের একটি আদালতের নির্দেশে কয়েকশ গোপন নথি প্রকাশ করা হয়, যা জনসমক্ষে “এপস্টাইন লিস্ট” বা “এপস্টাইন ফাইলস” নামে পরিচিতি পায়। এই ফাইলের মূল বিষয় এবং কারা এতে জড়িত ছিলেন তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপ নিচে দেওয়া হলো:

এই ফাইলে আসলে কী আছে?

এগুলো কোনো “হিট লিস্ট” বা অপরাধীদের তালিকা নয়। বরং এগুলো হলো ভার্জিনিয়া জুফ্রে নামক এক নারীর করা মামলার অংশ। তিনি এপস্টাইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। এই নথিগুলোতে এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে যারা:

  • এপস্টাইনের বন্ধু বা পরিচিত ছিলেন।
  • এপস্টাইনের ব্যক্তিগত বিমানে যাতায়াত করেছেন।
  • এপস্টাইনের বাড়িতে অতিথি হিসেবে গিয়েছেন।
  • অথবা যারা এই মামলার সাক্ষী ছিলেন।

জেফ্রি এপস্টাইন একজন নরখাদক (Cannibal) ছিলেন—এই দাবিটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

 তবে এই ধারণাটি কেন তৈরি হয়েছে বা কেন লোকে এমনটি ভাবেন, তার পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ আছে:

  • ১. কিউঅ্যানন (QAnon) ষড়যন্ত্র তত্ত্ব

অনলাইনে ‘QAnon’ নামক একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করে আসছে যে, বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা একটি গোপন চক্র চালায় যারা শিশুদের রক্ত পান করে বা মাংস খায় (যাকে তারা ‘Adrenochrome’ সংগ্রহ করা বলে দাবি করে)। এপস্টাইন যেহেতু শিশু পাচারের সাথে জড়িত ছিলেন এবং ক্ষমতাধরদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাই তাকে এই তত্ত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে বসানো হয়েছে। তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলো এর কোনো প্রমাণ পায়নি।

  • ২. এপস্টাইন দ্বীপের গুজব

এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ ‘লিটল সেন্ট জেমস’-এ একটি নীল-সাদা ডোরাকাটা মন্দির সদৃশ ভবন ছিল। স্থানীয়রা এবং কিছু ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক দাবি করেছিলেন যে, ওই ভবনের নিচে গোপন সুড়ঙ্গ আছে যেখানে বীভৎস সব আচার (Rituals) পালন করা হতো। যদিও তল্লাশিতে সেখানে কোনো নরমাংস ভক্ষণের প্রমাণ মেলেনি, তবুও মানুষের মনে এই ভীতি রয়ে গেছে।

  • ৩. “চিংড়ি মাছের” সেই কুখ্যাত ইমেইল

২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি নথিতে দেখা গেছে, এপস্টাইন মেয়েদের বিষয়ে একটি ইমেইলে লিখেছিলেন “মাথা ফেলে দাও, শরীরটা রাখো (যেমনটা চিংড়ি মাছের ক্ষেত্রে করা হয়)”। এটি মূলত যৌন শোষণের ক্ষেত্রে তার চরম অমানবিক মানসিকতার পরিচয় দেয়, কিন্তু অনেকে একে আক্ষরিক অর্থে ধরে নিয়ে নরখাদক হওয়ার তত্ত্বে বিশ্বাস করতে শুরু করেন।

  • ৪. বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও ট্রান্সহিউম্যানিজম

এপস্টাইন দীর্ঘায়ু লাভ এবং বিজ্ঞানের ওপর খুব আগ্রহী ছিলেন। তিনি নিজের শুক্রাণু ব্যবহার করে “সুপার হিউম্যান” তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। তার এই অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক শখগুলো অনেক সময় মানুষের মনে এমন ধারণা তৈরি করেছে যে তিনি হয়তো কোনো বীভৎস বা নিষিদ্ধ আচারের সাথেও যুক্ত ছিলেন।

কারা এতে জড়িত বা কাদের নাম এসেছে?

নথিতে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে। তবে মনে রাখা জরুরি যে, কারো নাম তালিকায় থাকা মানেই তিনি অপরাধী নন। উল্লেখযোগ্য কিছু নাম হলো:

  • প্রিন্স অ্যান্ড্রু: ব্রিটেনের রাজপরিবারের এই সদস্যের বিরুদ্ধে সরাসরি যৌন শোষণের অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা তিনি অস্বীকার করেন এবং পরে আদালতের বাইরে মীমাংসা করেন।
  • বিল ক্লিনটন: যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। নথিতে উল্লেখ আছে যে এপস্টাইন তাকে পছন্দ করতেন, তবে ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কোনো অবৈধ কাজের প্রমাণ এই ফাইলে নেই।
  • ডোনাল্ড ট্রাম্প: তার নামও নথিতে এসেছে পরিচিত হিসেবে, তবে কোনো অনৈতিক কাজের সরাসরি অভিযোগ নেই।
  • গিসলেন ম্যাক্সওয়েল: এপস্টাইনের প্রধান সহযোগী, যিনি বর্তমানে পাচারের দায়ে জেল খাটছেন।
  • স্টিফেন হকিং ও ডেভিড কপারফিল্ড: বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং এবং জাদুকর ডেভিড কপারফিল্ডের নামও নথিতে দেখা গেছে, মূলত এপস্টাইনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কারণে।

ভারত

ভারতের রাজনীতি ও ব্যবসা জগতের বড় কিছু নাম এই ফাইলে এসেছে, যা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে:

  • নরেন্দ্র মোদি: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম একটি ইমেইল রেফারেন্সে এসেছে। এতে ২০১৭ সালে তার ইসরায়েল সফরের প্রসঙ্গ ছিল। তবে ভারত সরকার একে “আবর্জনাপূর্ণ ভাবনা” বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং জানিয়েছে এর কোনো ভিত্তি নেই।
  • অনিল আম্বানি: ভারতীয় ধনকুবের অনিল আম্বানির সাথে এপস্টাইনের ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং মোদির সফরের সময় লবিংয়ের বিষয়ে নথিতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
  • হারদীপ সিং পুরি: ভারতের একজন শীর্ষ মন্ত্রীর নামও নথিতে দেখা গেছে। ২০১৪ সালের দিকে জনৈক বিনিয়োগকারীর ভারত সফরের বিষয়ে এপস্টাইনের সাথে তার ইমেইল আদান-প্রদান হয়েছিল বলে জানা গেছে।

অন্যান্য এশীয় ব্যক্তিত্ব ও অঞ্চল

  • দালাই লামা: তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাই লামার নাম নথিতে ১৫০ বারেরও বেশি এসেছে। মূলত এপস্টাইন তার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চেয়েছিলেন এমন প্রেক্ষাপটে তার নাম এসেছে।
  • আনোয়ার ইব্রাহিম: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নামও নথিতে আসার খবর পাওয়া গেছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।
  • সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম: দুবাইয়ের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের (DP World) চেয়ারম্যানের সাথে এপস্টাইনের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য মিলেছে। এমনকি তিনি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপেও গিয়েছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ আছে।
  • চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া: প্রিন্স অ্যান্ড্রু যখন ব্রিটিশ বাণিজ্য দূত ছিলেন, তখন তিনি সিঙ্গাপুর, হংকং এবং ভিয়েতনাম সফরের গোপন নথিপত্র এপস্টাইনকে পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া এপস্টাইন চীনে ভিসার জন্য তার অপরাধের তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও ফাইলে জানা গেছে।

জেফ্রি এপস্টাইন ফাইলের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক কোনো একক তথ্য নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত এবং ক্ষমতাধর ‘ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’ বা অপরাধ জগতের নেটওয়ার্ককে উন্মোচন করেছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে কয়েক দফায় প্রকাশিত ৩০ লাখের বেশি নথিপত্র এবং ভিডিও থেকে যে দিকগুলো সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করে তুলেছে, সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. নাবালিকাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও “অবজেক্টিফিকেশন”

নথিগুলোতে প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা গেছে এপস্টাইন নাবালিকা মেয়েদের মানুষ হিসেবে নয়, বরং পণ্যের মতো বিবেচনা করতেন। একটি ভয়ংকর ইমেইলে তিনি মেয়েদের “চিংড়ি মাছের” (Shrimp) সাথে তুলনা করে লিখেছিলেন— “মাথা ফেলে দাও, শরীরটা রাখো” (Throw away the head, keep the body)। এটি তার বিকৃত মানসিকতা এবং চরম শোষণের চিত্র তুলে ধরে।

২. উচ্চবিত্ত সমাজের যোগসাজশ ও বিচারহীনতা (Impunity)

সবচেয়ে ভীতিজনক দিক হলো, এপস্টাইন যে শিশু পাচার এবং যৌন অপরাধের সাথে জড়িত, তা বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং গোয়েন্দা সংস্থা (যেমন FBI) অনেক আগে থেকেই জানত। তা সত্ত্বেও:

  • ভিআইপি সুরক্ষা: প্রভাবশালী বন্ধুদের কারণে তিনি বছরের পর বছর ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।
  • ক্ষমতার ব্যবহার: প্রিন্স অ্যান্ড্রু, বড় বড় রাজনৈতিক নেতা এবং বিলিয়নেয়ারদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা তাকে একটি আইনি “সুরক্ষাকবচ” দিয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে।

৩. “এপস্টাইন দ্বীপ” এবং সুপরিকল্পিত পাচার ব্যবস্থা

নথিতে দেখা গেছে, এপস্টাইন তার ব্যক্তিগত দ্বীপে (Little St. James) এবং বিভিন্ন বাসভবনে মেয়েদের আনার জন্য একটি বিশাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন। তিনি ভুক্তভোগী মেয়েদের টাকা দিয়ে প্রলুব্ধ করতেন যেন তারা তাদের পরিচিত আরও মেয়েদের নিয়ে আসে। এভাবে তিনি একটি “চেইন সিস্টেম” তৈরি করেছিলেন যাতে ভিকটিমরা নিজেরাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও পাচারকারীতে পরিণত হতো।

৪. গোপন নজরদারি এবং ভিডিও ফুটেজ

২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এপস্টাইন তার বাড়িতে আসা প্রভাবশালী অতিথিদের গোপন ভিডিও রেকর্ড করতেন। ধারণা করা হয়, এই ভিডিওগুলো তিনি ব্ল্যাকমেইল বা প্রভাব বিস্তারের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি কেবল যৌন অপরাধ নয়, বরং একটি বড় ধরণের রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল চক্র ছিল।

৫. অদ্ভুত এবং বীভৎস কিছু দাবি

নথিগুলোর মধ্যে কিছু অপ্রমাণিত কিন্তু অত্যন্ত ভয়ংকর অভিযোগও উঠে এসেছে। যেমন:

  • এক ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, এপস্টাইনের ইয়টে শিশুদের ওপর কিছু “রিচুয়াল” বা আচার পালন করা হতো।
  • যদিও এগুলোর কোনো ফরেনসিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে নথিতে এমন অভিযোগের উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে সেই পরিবেশটি কতটা অন্ধকার ও ভীতিকর ছিল।

মূল বিতর্কটি কী?

মূল বিতর্কটি হলো ক্ষমতার অপব্যবহার। জেফ্রি এপস্টাইন একজন ধনাঢ্য বিনিয়োগকারী ছিলেন যিনি বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে বন্ধুত্ব করতেন এবং সেই প্রভাব খাটিয়ে অল্পবয়সী মেয়েদের পাচার ও শোষণ করতেন। ২০১৯ সালে জেলখানায় তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। এই ফাইলগুলো প্রকাশের মাধ্যমে জনসমক্ষে এটি পরিষ্কার হয়েছে যে, উচ্চবিত্ত সমাজে তার নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত ছিল।

জেফ্রি এপস্টাইনের মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্ব গত কয়েক বছরের অন্যতম আলোচিত বিষয়। ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউ ইয়র্কের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত জেলখানায় (Metropolitan Correctional Center) তার মৃতদেহ পাওয়া যায়। সরকারিভাবে একে “নিছক আত্মহত্যা” বলা হলেও, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করেন তাকে হত্যা করা হয়েছে

কেন অনেকেই মনে করেন এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা “অ্যাসাসিনেশন”? এর পেছনে বেশ কিছু শক্তিশালী যুক্তি ও কাকতালীয় ঘটনা রয়েছে:

১. সিসিটিভি ক্যামেরার রহস্যজনক বিকল হওয়া

এপস্টাইন যে সেলে ছিলেন, তার বাইরের দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিক সেই রাতেই বিকল হয়ে গিয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ জানায় যে কারিগরি ত্রুটির কারণে ওই রাতের কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। একটি উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন জেলে এমন ঘটনাকে অনেকেই “পরিকল্পিত” মনে করেন।

২. নিরাপত্তারক্ষীদের অস্বাভাবিক আচরণ

এপস্টাইন তখন “সুইসাইড ওয়াচ” বা আত্মহত্যার ঝুঁকির তালিকায় ছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৩০ মিনিট পর পর রক্ষীদের তাকে দেখার কথা ছিল। কিন্তু সেই রাতে দুই রক্ষীই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তারা লগবইয়ে (Logbook) মিথ্যা তথ্য লিখেছিলেন যে তারা তাকে পাহারা দিয়েছেন।

৩. ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও হাড় ভাঙা

এপস্টাইনের ঘাড়ের ‘হাইড বোন’ (Hyoid bone) ভাঙা পাওয়া গিয়েছিল। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুলে আত্মহত্যা করলে এই হাড়টি খুব কমই ভাঙে; বরং গলা টিপে হত্যা (Strangulation) করলে এই হাড়টি ভাঙার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এপস্টাইনের পরিবারের নিয়োগ করা বিখ্যাত প্যাথলজিস্ট ড. মাইকেল ব্যাডেন সরাসরি বলেছিলেন যে, এই আলামতগুলো আত্মহত্যার চেয়ে হত্যাকাণ্ডের দিকেই বেশি নির্দেশ করে।

৪. প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেইলের ভয়

এপস্টাইনের কাছে বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তির (রাজনীতিবিদ, রাজপরিবারের সদস্য এবং বিলিয়নেয়ার) গোপন ভিডিও এবং তথ্য ছিল। অনেকেই মনে করেন, যদি এপস্টাইন আদালতে মুখ খুলতেন, তবে অনেক বড় বড় মানুষের ক্যারিয়ার ধ্বংস হয়ে যেত। তাই তাকে “মুখ বন্ধ রাখতে” সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন ধারণা অত্যন্ত প্রবল।

৫. ২০২৬ সালের নতুন তথ্যের প্রেক্ষাপট

২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশিত কিছু নথিতে দেখা গেছে, এপস্টাইন তার মৃত্যুর কিছুদিন আগে তার আইনজীবীদের বলেছিলেন যে তিনি জেলের ভেতর হুমকির মুখে আছেন এবং তাকে আক্রমণ করা হতে পারে। এই তথ্যটি তার মৃত্যুরহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।

আদালতের সিদ্ধান্ত কী ছিল?

মার্কিন বিচার বিভাগ এবং এফবিআই (FBI) তদন্ত শেষে জানিয়েছে যে এটি আত্মহত্যাই ছিল এবং জেলের অব্যবস্থাপনার কারণে তিনি সুযোগটি পেয়েছিলেন। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে “Epstein Didn’t Kill Himself” (এপস্টাইন নিজে আত্মহত্যা করেননি) এই বাক্যটি একটি বৈশ্বিক স্লোগানে পরিণত হয়েছে।

উপসংহার

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এপস্টাইন ফাইলের সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো এটি প্রমাণ করেছে যে— টাকা এবং ক্ষমতা থাকলে বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের অপরাধ করেও কীভাবে দশকের পর দশক পার পাওয়া যায়। এটি বিশ্বজুড়ে বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ক্ষমতাবানদের মধ্যকার এক অন্ধকার আঁতাতকে নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *