
সুপ্রভাত সিডনি রিপোর্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের অন্যতম মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে ল্যাকেম্বা সর্বজনবিদিত। এখানকার ল্যাকেম্বা মুসল্লাও (কোরানিক সোসাইটি) দেশটির মুসলিম কমিউনিটির কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। যখন এই এলাকায় কেবল ইমাম আলী বিন আবী তালিব মসজিদ (ল্যাকেম্বা বড় মসজিদ) ছিল, তখনই এই মুসল্লার পথচলা শুরু হয়। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে এটি ‘মুসল্লা’ নামে পরিচিত হলেও বর্তমানে এটি পূর্ণাঙ্গ একটি মসজিদ।



উৎসব ও আয়োজনের নেপথ্যে :
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ল্যাকেম্বা মুসল্লার প্রবাসী বাংলাদেশি মুসল্লিদের উদ্যোগে এক আনন্দঘন ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনে ইসলামিক মূল্যবোধ ও সুস্থ সংস্কৃতি বজায় রেখে কীভাবে উৎসব করা যায়, তার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিল এই আয়োজন। ল্যাকেম্বার প্যারি পার্কে অনুষ্ঠিত এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে ছোট-বড় সবার জন্যই ছিল বিশেষ আকর্ষণ।

শিশুদের আনন্দ ও পারিবারিক আবহ :
অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছিল শিশুদের নির্মল বিনোদনের কথা মাথায় রেখে। সেখানে ছিল:
জাম্পিং ক্যাসল ও মেহেদী উৎসব।
হাওয়াই মিঠাই ও আকর্ষণীয় গিফট ব্যাগ।
রকমারি সুস্বাদু খাবারের আয়োজন।
ঈদের পরদিন বেশ কিছু পরিবার একত্রিত হয়ে এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। আয়োজকদের মতে, সন্তানরা খুশি থাকলে মা-বাবার মনেও প্রশান্তি আসে।


পর্দা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ :
অনুষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল চমৎকার পর্দার ব্যবস্থা। নারীদের জন্য পৃথক স্থান, প্রবেশপথ ও খাবারের ব্যবস্থা থাকায় অত্যন্ত শালীনতার সাথে সবাই অনুষ্ঠানটি উপভোগ করতে পেরেছেন। আয়োজকদের অফুরন্ত ভালোবাসা, দ্বীনি ইলম এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলেই এই সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
আয়োজক ও ব্যবস্থাপনা :
পুরো ইভেন্টের মূল সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আরিফ খান। তার সহযোগিতায় ছিলেন কমিউনিটির পরিচিত মুখ মাওলানা হিরু আজাদ, আব্দুল করিম, মাহমুদ বাবু (জাপান), তাজুল ইসলাম, রায়হান (প্রকৌশলী) ও মনিরুজ্জামানসহ আরও অনেকে। দ্বীনি দায়বদ্ধতা এবং প্রবাসে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই তারা এই সুস্থ বিনোদনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সমাপনী ও দোয়া :
দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের পর অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক আরিফ খান ও এম এ ইউসুফ শামীম সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। সবশেষে মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা হিরু আজাদ।
উপস্থিত সুধীজনরা মনে করেন, বর্তমান সময়ের নানা প্রতিকূলতার মাঝেও মুষ্টিমেয় কিছু পরিবারের এমন উদ্যোগ অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অভাবনীয় ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। সুন্দর স্মৃতি নিয়ে বিকেলে সবাই ঘরে ফিরে যান।