দুদকের সাবেক উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ কেন গ্রেপ্তার হচ্ছেন না?

সুপ্রভাত সিডনি রিপোর্ট: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আলোচিত জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা (IO) ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশীদ। গত ৫ আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি লাপাত্তা। বর্তমানে তিনি গ্রেপ্তার এড়িয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভূমিকা ও রাজনৈতিক সুবিধা

হারুন-অর-রশীদের ক্যারিয়ারে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা ও তদন্ত নিয়ে:

  • মামলা ও তদন্ত: ২০০৮ সালে ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা এবং ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার তদন্তভার তাঁর হাতেই ছিল। বিএনপি এই মামলাগুলোকে সবসময়ই ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে।
  • এয়ারবাস দুর্নীতি মামলা: শুধু সাম্প্রতিক সময়ে নয়, ১৯৯৭ সালেও আওয়ামী লীগ শাসনামলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘এয়ারবাস দুর্নীতি মামলা’ করেছিলেন হারুন।
  • পুরস্কার ও দাপট: অভিযোগ রয়েছে, বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা সাজানোর “পুরস্কার” হিসেবে গত সাড়ে ১৫ বছর তিনি পদোন্নতিসহ নানা অনৈতিক সুবিধা ভোগ করেছেন। তাঁর দাপট এতটাই ছিল যে তৎকালীন মন্ত্রী-এমপিরাও তাঁকে সমীহ করতেন। এমনকি চাকরি থেকে অবসরের (PRL) সময়েও তিনি সরকারি সুবিধায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন।

তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর হয়রানি

হারুন-অর-রশীদের রোষানল থেকে রেহাই পাননি বিএনপির স্থানীয় নেতারাও। রাজধানীর বাড্ডা থানা বিএনপির সহ-সভাপতি মনির হোসেনের বৈধ সম্পদকে অবৈধ দেখিয়ে মামলা দায়ের করে তাঁকে দীর্ঘকাল কারাবাস করানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিএনপি সমর্থক বা নেতাদের টার্গেট করে ফাঁসানোই ছিল তাঁর অন্যতম কৌশল।

বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন

দীর্ঘ সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে হারুন-অর-রশীদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল বিত্ত-বৈভব গড়ে তুলেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বর্তমানে তাঁর নিজের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য জোরালো দাবি উঠছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও আইনি পদক্ষেপ

২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই হারুন লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেছেন। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের মে মাসে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগে জনৈক ‘হারুনুর রশিদ’ (মামলার বাদী) দুদকের সাবেক তিন চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে সিআইডি-কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সারসংক্ষেপ: ক্ষমতার পালাবদলের পর হারুন-অর-রশীদের মতো প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—তিনি কি দেশের বাইরে পালিয়েছেন নাকি দেশেই আত্মগোপনে আছেন?

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *