বৈশ্বিক রাজনীতিতে ইরানের কৌশলগত উত্থান

আয়াজ আহমদ বাঙালি -আসাম, ভারত: বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ক্ষমতার একটি অলিখিত নিয়ম চলে আসছে।রাজনৈতিক টেবিলে সাধারণত শক্তিশালী পক্ষই নির্ধারণ করে দেয় কোথায় ও কী বিষয়ে আলোচনা হবে, আর দুর্বল পক্ষ বাধ্য হয় তা মেনে নিতে। দীর্ঘদিনের এই চিত্রকে অনেকেই স্বাভাবিক বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিয়েছেন। তবে ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক ঘটনা সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। দশকের পর দশক নিষেধাজ্ঞার ভারে জর্জরিত এবং বিশ্বমঞ্চে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন ইরান পৃথিবীর পরাশক্তিকে নিজ শর্তে আলোচনায় বসিয়েছে। কূটনীতির ইতিহাসে এটি এক বিরল ঘটনা।

প্রথমেই যে প্রশ্নটি উঠে আসে — কে চেয়েছিল এই যুদ্ধবিরতি? পশ্চিমা গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ প্রথমদিকে এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করেছিল, যেন ইরান চাপে পড়ে আলোচনায় সম্মত হয়েছে। কিন্তু পরে নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো প্রভাবশালী পত্রিকাও এই বয়ান সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হলো, ইরান যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আদৌ আগ্রহী ছিল না। উদ্যোগটি এসেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিক থেকে। পাকিস্তানের কাঁধে ভর দিয়ে তিনি ইরানকে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। একটু ভেবে দেখুন — দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিধর দেশের রাষ্ট্রপতিকে তৃতীয় একটি দেশের মধ্যস্থতায় প্রতিপক্ষকে টেবিলে আনতে হচ্ছে। এই একটি তথ্যেই বোঝা যায়, এই কূটনৈতিক নাটকে আসল কলকাঠি কে নাড়ছিল।

আলোচনার তত্ত্বে একটি মূলনীতি আছে যাকে বলা হয় দরকষাকষির সুবিধাজনক অবস্থান। যে পক্ষের কাছে শক্তিশালী বিকল্প থাকে, সে পক্ষই টেবিলে বেশি শক্তিশালী — কারণ তার ছাড় দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কম। ইরান এই নীতিটি নিখুঁতভাবে প্রয়োগ করেছে। তারা এমন একটি অবস্থান নিয়েছিল যেখান থেকে স্পষ্ট বোঝানো গেছে — আলোচনা না হলেও তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন নয়। এই মনোভাব প্রতিপক্ষের মধ্যে একটি অনিশ্চয়তা তৈরি করে, আর সেই অনিশ্চয়তাই কূটনীতির আসল হাতিয়ার।

পারমাণবিক হুমকি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি কার্যকর মনস্তাত্ত্বিক হাতিয়ার। অতীতে দেখা গেছে এই হুমকির সামনে দুর্বল পক্ষ মাথা নুইয়ে দিয়েছে। কিন্তু এবার ইরান সেই হুমকির সামনে দাঁড়িয়েও তার অবস্থান এক বিন্দু নড়ায়নি। তারা একটি স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দিয়েছিল — ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে ইরানের দশ দফা দাবির ভিত্তিতে আলোচনার ঘোষণা দিতে হবে, তবেই তারা আলোচনায় যোগ দেবে। যে আমেরিকা কূটনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষের শর্তে সাড়া দেওয়াকে দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে সেই দেশটিই শেষমেশ ইরানের বেঁধে দেওয়া কাঠামো মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। এটি আধুনিক কূটনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা।

তবে ইরানের কূটনৈতিক বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি ছিল সূক্ষ্ম বিষয়গুলোতে তাদের অসাধারণ মনোযোগ। টুইটে ব্যবহৃত শব্দ এবং বার্তার ভাষা নির্বাচন পর্যন্ত বিষয়গুলো নিয়েও তারা দর-কষাকষিতে লিপ্ত হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এটিকে অহেতুক সূক্ষ্মতা মনে হতে পারে। ইতিহাসের অভিজ্ঞ পাঠক জানেন—রাজনীতিতে শব্দই এক ধরনের অস্ত্র, যার প্রভাব দশকের পর দশক টিকে থাকে।

১৯৬৭ সালে ছয় দিনের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ২৪২ নম্বর রেজুলেশন গ্রহণ করে। রেজুলেশনের ইংরেজি পাঠে ইসরায়েলের সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কিন্তু ইংরেজি ভাষায় “withdrawal from occupied territories” এবং “withdrawal from the occupied territories” — এই দুটি বাক্যাংশ আইনগত দিক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন অর্থ বহন করে। “The” যুক্ত হলে বোঝায় সমস্ত দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে হবে। “The” না থাকলে ব্যাখ্যার সুযোগ থেকে যায়। আমেরিকা ও ইসরায়েল কৌশলে সেই “The” শব্দটিকে ইংরেজি খসড়া থেকে বাদ দিয়েছিল। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েল পশ্চিম তীরে তার দখলদারিত্বের পক্ষে সেই রেজুলেশনের অস্পষ্ট ভাষাকেই ব্যবহার করে আসছে। মাত্র একটি ইংরেজি শব্দের অনুপস্থিতিতে গোটা জাতির ন্যায়বিচার আজও ঝুলন্ত। ইরান এই ইতিহাস জানে এবং মনে রেখেছে। সে কারণেই তারা টুইটের প্রতিটি শব্দের জন্যও লড়ছে।

এরপর আসে সেই ঘটনা যেটি এই পুরো কূটনৈতিক পর্বের সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায়। ইরান আগে থেকেই অনুমান করে রেখেছিল, ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতিকে মেনে নেবে না এবং লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। তাই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মাধ্যমে যে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তাতে সুনির্দিষ্টভাবে লেবাননের নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়ে নেওয়া হয়। ইসরায়েল সত্যিই প্রথম দিন লেবাননে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যায়। কিন্তু যেহেতু লেবাননের নাম আগেই নথিভুক্ত হয়ে গিয়েছিল, তাই ইরান সেই লঙ্ঘনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একটি শক্তিশালী নৈতিক অবস্থান নিতে পেরেছে। ভবিষ্যতের চাল আগে থেকেই অনুমান করে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সাজিয়ে রাখার এই দক্ষতা সত্যিকারের রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয়।

এরপর এলো সেই মুহূর্ত যেটি আধুনিক কূটনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন আলোচিত হবে। মার্কিন প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে এসে অপেক্ষা করলেও ইরান তখনও তেহরান থেকে যাত্রা শুরু করেনি। তারা জানিয়ে দিয়েছিল, দুটি শর্ত পূরণ না হলে তারা আসবে না। প্রথমত, লেবাননে সত্যিকারের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইরানের জমে থাকা বৈদেশিক সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ মুক্ত করতে হবে। সেই দৃশ্যটি একবার মনের চোখে আঁকুন — আমেরিকার প্রতিনিধিরা বসে আছেন, আর ইরান তার দাবি পূরণের অপেক্ষায় নিজের দেশে। শেষমেশ নমনীয় হয়েছে আমেরিকা। ইসরায়েলের ওপর প্রভাব খাটিয়ে লেবাননে বোমা হামলা বন্ধ করিয়ে লেবানন সরকারের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনায় বসিয়েছে এবং ইরানি গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী ছয় বিলিয়ন ডলারের জমাট তহবিল মুক্ত করতেও সম্মত হয়েছে। আলোচনার টেবিলে পৌঁছানোর আগেই ইরান যে অর্জন করেছে, তা ব্যতিক্রমী।

এই সাফল্যের আলোয় অতীতের আরব কূটনীতির দিকে তাকালে বড়ই বেদনার ছবি ভেসে ওঠে। ১৯৯৩ সালে নরওয়ের রাজধানী অসলোতে যে শান্তি আলোচনা হয়েছিল, সেখানে ইয়াসির আরাফাতের নেতৃত্বাধীন পিএলও প্রতিনিধিরা মূলত অপ্রস্তুত অবস্থায় টেবিলে বসেছিল। আন্তর্জাতিক আইনের জটিলতা ও চুক্তির ভাষাগত কূটকৌশল সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। তাই আমেরিকা ও ইসরায়েল নিজেদের পছন্দমতো খসড়া তৈরি করে গেছে, আর ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা বুঝতেও পারেননি কোথায় কোথায় তাদের ভবিষ্যৎ সমাহিত হয়ে গেছে। ইতিহাস সাক্ষী, অসলোর সেই চুক্তি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা আনেনি। আজ তিন দশক পরে গাজার ধ্বংসস্তূপ সেই আলোচনার সবচেয়ে মর্মান্তিক পরিণতি। ১৯৬৭ সালের রেজুলেশনের সেই “The” বাদ পড়ার ঘটনাও তো আলাদা উদাহরণ নয় — এটি একই ধারার প্রকাশ। যারা শব্দের রাজনীতি বোঝে না এবং ভাষার ভেতরে লুকানো ফাঁদ দেখতে পায় না, তারা আলোচনার টেবিলে জিততে পারে না — সেই টেবিলে তারা স্বাক্ষর করতে যায়, অন্যের লেখা দলিলে। বাংলায় যেমন বলে, “অন্ধের হাতি দেখা” — পুরো চিত্রটা না দেখলে যেকোনও অংশকেই সত্য মনে হয়। আরব কূটনীতির বারবার পরাজয়ের মূলে ছিল এই অসম্পূর্ণ দৃষ্টি।

বিপরীতে পাকিস্তানে যাওয়া ইরানের ৮৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের গঠনটি লক্ষ করুন। সংসদের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পাশাপাশি আছেন পারমাণবিক বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক, আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। এই বিন্যাসটি নিছক আনুষ্ঠানিকতার জন্য নয়। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞকে রাখা হয়েছে কারণ আলোচনার প্রতিটি স্তর আলাদা ধরনের জ্ঞান দাবি করে। পারমাণবিক বিষয়ে কেউ প্রযুক্তিগত তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে বিজ্ঞানীরা সেটা ঠেকাবেন। চুক্তির ভাষায় আইনি ফাঁকফোকর রাখার চেষ্টা হলে আইনজ্ঞরা সেটা চিহ্নিত করবেন। অর্থনৈতিক শর্তের হিসাব-নিকাশে ঘুরপথে ঠকানোর চেষ্টা হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান সেটা ধরে ফেলবেন। এটি একটি দলের আলোচনায় যাওয়া নয় — এটি একটি রাষ্ট্রের সমস্ত জ্ঞান ও সক্ষমতাকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়া।

এই প্রস্তুতির তুলনায় অসলোতে পিএলও প্রতিনিধি দলের গল্পটি যেন দুই ভিন্ন যুগের দুটি ছবি। সেখানে বিশেষজ্ঞদের অনুপস্থিতি এবং প্রস্তুতির ঘাটতি এতটাই প্রকট ছিল যে আমেরিকান মধ্যস্থতাকারীরা নিজেরাও পরে স্বীকার করেছেন, চুক্তির খসড়াগুলো মূলত ইসরায়েলের পক্ষ থেকেই তৈরি হতো। ফলাফল হয়েছে বিপর্যয়কর।

এই গোটা প্রেক্ষাপটে আমেরিকার ইতিহাসটাও মনে রাখা দরকার। ২০১৫ সালে ইরানের সাথে বহুপক্ষীয় পারমাণবিক চুক্তি জেসিপিওএ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়েছিল, বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেলেন। ইরান সেই বিষয়টি ভোলেনি। এবারের আলোচনায় তারা এসেছে সেই তিক্ত স্মৃতিকে সাথে নিয়ে, তবে এমনভাবে এসেছে যে যদি আমেরিকা পুনরায় প্রতিশ্রুতি ভাঙে তবে নৈতিক দায়ের পুরো ভার আমেরিকার কাঁধেই বর্তাবে।

ইংরেজিতে বলে, “Once bitten, twice shy।” একবার ঠকে গেলে দ্বিতীয়বার সতর্ক থাকতে হয়। ইরান সতর্ক থেকেই ক্ষান্ত হয়নি; সতর্কতাকে কৌশলে পরিণত করেছে। প্রতিটি বিভাগের সেরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নেওয়ার কারণও এটাই। যেন কোনও কূটকৌশলী শব্দজাল বা প্রযুক্তিগত বিভ্রান্তি দিয়ে তাদের আর ঠকানো না যায়।

এই আলোচনার ভবিষ্যৎ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে — সেটা সময়ই বলবে। আমেরিকার অতীত আচরণ দেখলে নিশ্চিন্ত হওয়ার কারণ কম। তবে এবারের ইরান সেই অনিশ্চয়তার জন্যও প্রস্তুত। তারা এমন কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না যা পরে তাদের পায়ে শিকল হয়ে পড়বে। তারা এমন কোনও শব্দ মেনে নেবে না যা ভবিষ্যতে ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ দেয়। ইরান জানে, ১৯৬৭ সালের “The” হারানোর গল্প কীভাবে পাঁচ দশকের অন্যায়কে বৈধতা দিয়েছে।

মুসলিম বিশ্বের সামনে এই ঘটনাটি একটি স্পষ্ট দর্পণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফিলিস্তিন, মায়ানমারের রোহিঙ্গা ও উইঘুরদের মতো নিপীড়িত মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমস্যার মূলে রয়েছে একটি সাধারণ ঘাটতি। সেটি হলো শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় কাঠামো, প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত চিন্তাভাবনা। আবেগ মানুষকে যুদ্ধে নামায়, কিন্তু জয় নির্ধারণ করে না। জিততে হলে বিজ্ঞান, আইন ও অর্থনীতির পাশাপাশি সবচেয়ে জরুরি নিজের অধিকার সম্পর্কে দৃঢ় ও পরিষ্কার ধারণা।

যে জাতি পারমাণবিক হুমকির মুখেও শর্ত আরোপ করতে পারে, প্রতিপক্ষকে অপেক্ষায় রেখে নিজের দাবি আদায় করে তারপর টেবিলে বসে এবং টুইটের ভাষাকেও ভবিষ্যতের ঢাল হিসেবে গড়ে নেয়; সেই জাতি আলোচনা জয়ের পাশাপাশি মানসিকতা ও মর্যাদার লড়াইয়েও বিজয় অর্জন করেছে এবং ইতিহাসে নিজের পক্ষে একটি দৃঢ় অধ্যায় রচনা করতে সক্ষম হয়েছে।

অধিকার ভিক্ষায় মেলে না। প্রস্তুতি, জ্ঞান, কৌশল এবং সর্বোপরি নিজের উপর অটুট আস্থা দিয়ে অধিকার আদায় করতে হয় । ইরান সেই পথটি দেখিয়েছে। বাকিটা শিখে নেওয়ার দায় আমাদের নিজেদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *