হাফেজ মাওলানা ডা.মো. ইমাম হোসাইন: হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্যে সিয়ামের বিধান দেওয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার- (বাকারা-১৮৩)
সিয়াম তথা রোযার সন্নিকটে আমরা অবস্থান করছি। সিয়াম সাধনায় মহান আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনে গোটা মুসলিম জাতি সদা তৎপর এবং তাকওয়াপূর্ণ জীবনের পথচলার পরমানন্দ মানুষকে অনুপ্রেরণা যোগায়।
আমরা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় এবং পবিত্র মাহে রমাদান মাসে সিয়াম পালন করে যে শিক্ষা গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকি তার বাস্তব প্রতিফলন আমাদের ব্যক্তিগত, পারবারিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক জীবনে অবহেলিত ও অনুপস্থিত।
সম্ভবত এই উদাসীনতার মৌলিক কারণ আমরা কি করছি এবং কেনইবা কাজটি করছি তার অনুভব ও অনুধাবণ আমাদের অন্তর রাজ্যের প্রজা নয়; ফলশ্রুতিতে ধর্মীয় বিশ্বাসের খুঁটি খুবই নড়বড়ে বা আবেগের অবগাহন মাত্র।
পৃথিবী ও পরকালীন মহা জীবনে শান্তি ও শাস্তি, জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতিবিম্ব যখনই আমাদের অন্তরে জীবন্ত জাগরুক এবং সদা সচল গতিময় অবস্থায় বিরাজমান রবে, কেবল তখনই আমি আপনি গোনাহ মুক্ত জীবন পরিচালনায় কুরআন – সুন্নাহের কষ্টিপাথরের আলোকে, তাকওয়ার অবলম্বন, সংরক্ষণ এবং প্রভাব জীবনের পরতে পরতে উজ্জীবিত হয়ে উঠবে।
তাই পবিত্র মাহে রমাদান মাসে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি কুরআনের সাথে পরিকল্পিত ভাবে আমাদের সম্পর্ক মজবুতি আনয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো দরকার। আমার মহান মালিক আল্লাহ তায়ালা আমাকে কি জীবন পরিচালনায় কি দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন এটা জানা জরুরী, অথচ আমি আপনি আমরা সবাই জীবনের কতো অসাধ্য কর্ম সাধন করলেও আমার মালিক, যিনি আমার প্রতিপালক, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর আদেশ – নিষেধ সম্বলিত মহা গ্রন্থ আল কুরআন শিক্ষা গ্রহণ, অধ্যয়ন ও অনুধাবণে আমরা গাফিলতির সাগরে নিমজ্জিত, এ বিষয়ে নিজেকে প্রশ্ন করলেই তার হিসাব গ্রহণ সহজেই অনুমেয়!
তাই আমরা সচেষ্ট হইবো কুরআনের সাথে সম্পর্ক মজবুত ও সুদৃঢ়করনে কুরআন তিলাওয়াত এবং তরজমা পড়ে নিজেকে পরিশীলিত ও প্রকৃত মুমিন মুত্তাকী মুসলিম হতে। আল্লাহ বলেন,
কেউ কোন ভাল কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে আর কেউ কোন মন্দ কাজের সুপারিশ করলে তাতে তার অংশ থাকবে। আল্লাহ্ সর্ববিষয়ে নজর রাখেন। (আন নিসা – ৮৫)
সুতরাং আমরা একে অপরকে দাওয়াতি কাজের মাধ্যমে কুরআন অধ্যয়ন ও তাকওয়া অর্জনে চেষ্টা করে যাবো। আল্লাহ বলেন,
রামাযান মাস, এতে মানুষের দিশারী এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যারা এই মাস পাবে তারা যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। এবং কেউ পীড়িত থাকলে কিংবা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ্ তোমাদের জন্যে যা সহজ তা চান আর যা তোমাদের জন্যে কষ্টকর তা চান না এজন্যে যে, তোমরা সংখ্যা পূর্ণ করবে আর তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করানোর কারণে তোমরা আল্লাহ্ র মহিমা ঘোষণা করবে এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার। (সূরা বাকারা-১৮৫)
সিয়াম নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্যে। তোমাদের মধ্যে কেউ পীড়িত হলে বা সফরে থাকলে অন্য সময় এই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। এটা যাদেরকে সাতিশয় কষ্ট দেয় তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদ্য়া- একজন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দান করা। যদি কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৎকাজ করে তবে তা তার পক্ষে অধিক কল্যাণকর। আর সিয়াম পালন করাই তোমাদের জন্যে অধিকতর কল্যাণপ্রসূ যদি তোমরা জানতে। (সূরা বাকা-১৮৪)
★ শপথ ভংগে ও কাফফারা প্রদানে সিয়াম পালন :
তোমাদের বৃথা শপথের জন্যে আল্লাহ্ তোমাদেরকে দায়ী করবেন না, কিন্তু যেসব শপথ তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে কর সেই সকলের জন্যে তিনি তোমাদেরকে দায়ী করবেন। এরপর এর কাফ্ফারা দশজন দরিদ্রকে মধ্যম ধরনের আহার্য দান, যা তোমরা তোমাদের পরিজনদের খেতে দাও, বা তাদেরকে বস্ত্রদান, কিংবা একজন দাস মুক্তি এবং যার সামর্থ্য নেই তার জন্যে তিনদিন সিয়াম পালন। তোমরা শপথ করলে এটাই তোমাদের শপথের কাফ্ফারা, তোমরা তোমাদের শপথ রক্ষা কর। এইভাবে আল্লাহ্ তোমাদের জন্যে তাঁর বিধানসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর। (আল মায়িদাহ-৮৯)
হে মু’মিনগণ! ইহরামে থাকাকালে তোমরা শিকার-জন্তু হত্যা কর না; তোমাদের মধ্যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এটা হত্যা করলে যা সে হত্যা করল তার বিনিময় হচ্ছে অনুরূপ গৃহপালিত জন্তু, যার ফয়সালা করবে তোমাদের মধ্যে দু’জন ন্যায়বান লোক-কা‘বায় পাঠানো কুরবানীরূপে। বা এর কাফ্ফারা হবে দরিদ্রকে খাদ্য দান করা কিংবা সমসংখ্যক সিয়াম পালন করা, যাতে সে আপন কৃতকর্মের ফল ভোগ করে। যা গত হয়েছে আল্লাহ্ তা ক্ষমা করেছেন। কেউ এটা পুনরায় করলে আল্লাহ্ তার শাস্তি দিবেন এবং আল্লাহ্ পরাক্রমশ…[1:47 pm, 01/02/2026] Imam Mawlana Hossain Brunei Writer: সূরা: আত-তাওবাহ, আয়াত: 72
وَعَدَ اللّٰهُ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ الْمُؤْمِنٰتِ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا وَ مَسٰكِنَ طَیِّبَةً فِیْ جَنّٰتِ عَدْنٍ١ؕ وَ رِضْوَانٌ مِّنَ اللّٰهِ اَكْبَرُ١ؕ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ۠
অর্থ : এ মুমিন পুরুষ ও নারীকে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাদেরকে তিনি এমন বাগান দান করবেন যার নিম্নদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহমান হবে এবং তারা তার মধ্যে চিরকাল বাস করবে। এসব চির সবুজ বাগানে তাদের জন্য থাকবে বাসগৃহ এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, তারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করবে। এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য।