সুপ্রভাত সিডনি রিপোর্ট: গত ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রবিবার বাংলাদেশী সিনিয়র সিটিজেন অব অস্ট্রেলিয়া ইনকের উদ্যোগে আরেকটি সফল ও জমকালো পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিডনির ইস্ট হিলস পার্কের নয়নাভিরাম ও মনোরম পরিবেশে সারাদিনব্যাপী এ আনন্দমেলা সকল বয়সী উপস্থিতির জন্য ছিল বিশেষভাবে উপভোগ্য।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পার্কটিতে শিশুদের খেলাধুলার চমৎকার ব্যবস্থা, ছোট-বড় একাধিক শেড বা ছাউনি, এবং পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট্ট একটি নদী পুরো আয়োজনের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠান কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও দূর-দূরান্ত থেকে সংগঠনের নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ঢল নামে। অনুষ্ঠান শুরু হয় ছোট্ট বন্ধু মোহাম্মদ আয়মান সিহাদ মোল্লাহর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর সংগঠনের বিগত দিনের সফল কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন হোসেন আরজু। পর্যায়ক্রমে বক্তব্য রাখেন কেম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি মেয়র ও বর্তমান কাউন্সিলর ইব্রাহিম খলিল মাসুদ, মনজুরুল আলম বুলু এবং মোজাম্মেল হোসেন ভূঁইয়া।
এরপর বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে একটি মতামত জরিপ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপস্থিত প্রায় সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করেন, তারা কেমন সরকার প্রত্যাশা করেন সে বিষয়ে। প্রাণবন্ত এ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে সুন্দর মতামতের জন্য দু’জনকে পুরস্কৃত করা হয়।

পরবর্তী পর্বে ছিল ব্যতিক্রমধর্মী পারফরম্যান্স আয়োজন। একটি কাপড়ের ব্যাগ থেকে অংশগ্রহণকারীরা লটারির মাধ্যমে পারফরম্যান্স বিষয় নির্বাচন করেন, কেউ কবিতা, কেউ বক্তৃতা, কেউ হাস্যরসাত্মক, কেউ নাগিন নাচ উপস্থাপনা করেন। পুরো পর্বটি দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে। এ প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। এ পর্যন্ত অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল্লাহ ইউসুফ শামীম। উল্লিখিত দুটি পর্বে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন আইকনিক সিঙ্গার আপেল মাহমুদ, মুফাজ্জাল হোসেন ভূঁইয়া এবং ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস।


এরপর মহিলা ও শিশু-কিশোরদের বিশেষ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডক্টর ফজলে রাব্বী। বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়েদের কোরআন তিলাওয়াত ও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়, যার বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বৃষ্টির কারণে আউটডোর ইভেন্ট বাদ দিয়ে পার্কের বিশাল শেডের নিচেই সুন্দরভাবে পুরো অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। পরে “সিনিয়র সিটিজেন অব দ্য ইয়ার” ঘোষণা করা হয় আইকনিক সিঙ্গার আপেল মাহমুদ এবং মুফাজ্জাল হোসেন ভূঁইয়াকে। তাঁদের হাতে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন কেম্বেলটাউন হাসপাতালের জেরিয়াট্রিক বিভাগের চিফ ডক্টর মুহাম্মদ ইলিয়াস এবং কাউন্সিলর ইব্রাহিম খলিল মাসুদ।


জোহরের নামাজের বিরতির পর শুরু হয় রকমারি খাবারের আয়োজন। এর আগে স্যান্ডউইচ, মাফিন ও চা দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। দুপুরের খাবারের পর বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার তুলে দেন “সিনিয়র সিটিজেন অব দ্য ইয়ার” আপেল মাহমুদ ও মুফাজ্জাল হোসেন ভূঁইয়া।


অনুষ্ঠান সেচ্ছাসেবক হিসেবে সহযোগিতা করেন জুয়েল, কাজী ও সালেহ বাবু। বিশেষ সহায়তা প্রদান করে রান্নাঘর রেস্তরা (ল্যাকেম্বা), শাপলা সুইটস, ওয়ান এজেন্সি, দারুসসালাম ওয়েলফেয়ার সেন্টার লিমিটেড এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা সুপ্রভাত সিডনি।


