
সন্ধ্যা যখন নেমে আসে নরম ডানা মেলে,
একগুচ্ছ কাঠগোলাপের ধোঁয়াটে সুবাস
থমকে থাকে ব্রহ্মপুত্রের শিশিরভেজা চরে।
এখানে যেন কেউ নেই—
বহুদূর থেকে ফিরে আসা রূপসী বাংলার আলো
জয়নুল আবেদিন পার্কের শাল-মহুয়ায় রূপোলি শাড়ি এলিয়ে দিয়েছে।
যেন অনেক শতাব্দী ধরে হাঁটছি একা;
আকাশ্চুম্বী নক্ষত্রলোক থেকে নদীপথের ধুলোবালি—
সবখানেই দেখেছি বিষাদের এক ম্লান লাবণ্য।
কাঠগোলাপের ওই হলদে-সাদা পাপড়িগুলো
জানে কেবল স্থির হয়ে মুছে যাওয়ার নিঃশব্দ ব্যাকুলতা।
পৃথিবীর সব রঙ যখন ধূসর হয়ে আসে,
পার্কের প্রাচীন ছায়াবৃত্তে
তুমি এসে দাঁড়াও যেন কোনো চিরচেনা রূপসী—
হাতে তোমার একমুঠো কাঠগোলাপের স্তব্ধ গন্ধ,
আর চোখে পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের শেষ মায়া।