ড. (মুফতি) ইউসুফ সুলতান ও মুহাম্মদ মিযানুর রহমান: ওয়াকফ দারিদ্র বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা। মানবকল্যাণ ও সমাজসেবায় ওয়াকফের ভূমিকা বহুমুখী। জনকল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি ওয়াকফের পরকালীন সোয়াব আর প্রতিদান নিরবিচ্ছিন্ন। এজন্য ওয়াকফকে বলা হয়েছে সর্বোত্তম দান। স্থাবর (জমি) এবং অস্থাবর (নগদ ক্যাশ) ওয়াকফ দুই পদ্ধতিতেই ওয়াকফ বৈধ রয়েছে। মাকাসিদে শরিয়াহ আলোকে এবং সময়ের প্রয়োজনে নগদ ক্যাশ হয়ে উঠেছে অতিব প্রয়োজনীয় ওয়াকফ। রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জামানায় ক্যাশ ওয়াকফের প্রচলন না থাকলেও পরবর্তী সময়ে মাযহাবের ফকীহগন তার বৈধতার রায় দিয়েছেন । বর্তমান সময়ে মানুষের জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে জমি ও স্থাবর সম্পত্তি দিন দিন কমতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে নগদ ক্যাশের ওয়াকফের আলোচনা খুব প্রয়োজন। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল ধনীর পাশাপাশি একজন গরিব মানুষ, সাধারণ নারী, যেকোনো পেশার মানুষ ওয়াকফের মত মহৎ কাজের শরিক হতে পারে। ক্যাশ ওয়াকফের মোটাদাগে সুবিধা হল-
১. ক্যাশ ওয়াকফ দ্বারা বিনিয়োগের লাভের অংশ সদকা করা।
২. লভ্যাংশের টাকা করযে হাসানা হিসেবে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়া।
সমাজে বিদ্যমান এনজিওগুলোর সুদী ব্যবস্থা আমাদের নির্মূল করে দিচ্ছে। এমন সময়ে ক্যাশ ওয়াকফ হতে পারে এর সর্বোত্তম অল্টারনেটিভ। ক্যাশ ওয়াকফকারীরা একটি তহবিল গঠন করে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে ওয়াকফ করবেন। তারপর নির্দিষ্ট শর্ত মোতাবেক কাঙ্খিত জায়গায় সেটা খরচ করা হবে। ওসমানী খেলাফত আমলে ক্যাশ ওয়াকফ হয়েছিল খুব জনপ্রিয় দান । বুসরা, আঙ্কারা ইত্যাদি শহরে উন্নয়নের ১০% খরচ বহন করা হত ক্যাশ ওয়াকফ ফান্ড থেকে। ক্যাশ ওয়াকফ এই সার্টিফিকেট চালু করে কর, ট্যাক্স ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। যার মাধ্যমে সমাজের দুর্নীতি এবং পুজির অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে।
ক্যাশ ওয়াকফ ও ইতিহাসের সুলুক সন্ধান
হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দীতে ক্যাশ ওয়াকফ উদ্ভাবন হলেও ব্যাপকভাবে চর্চিত হতে সময় লেগেছিল। সেই সময় মানুষের কাছে জমি কিংবা অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি বেশি থাকায় নগদ অর্থ ওয়াকফের প্রয়োজন অনুভূত হয়নি। পরবর্তী সময়ে উসমানি ফুকাহা ও শাসকগণ মিলে এসবের প্রচলন শুরু করেন (Al-Arnaout, 2010) উসমানী আমলে ক্যাশ ওয়াকফ সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল। তুরস্কের বিভিন্ন শহরে এই পদ্ধতিতে অসংখ্য দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল।
ইস্তাম্বুলে প্রথম ক্যাশ ওয়াকফ মডেল:
তুরস্কে সর্বপ্রথম ক্যাশ ওয়াকফের মডেল পাওয়া যায় ১৪৬৪ খ্রি. সালে। এখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীগণও ওয়াকফ করতেন। খাদীজা বিনতে মাহমুদ পাশা ১৫২৪ খ্রি. আগস্টে দুটি ওয়াকফ করেন। একটিতে ছিল একতলা দুটি ঘর, কয়েকটি দোকান, কক্ষ, আস্তাবল; দ্বিতীয়টি ছিল ১৬,০০০ আকজি (উসমানী আমলের মুদ্রা)। ওয়াকফটি ১০% মুরাবাহা চুক্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল (Al-Arnaout, 2010; Bayliji, 2010)।
দরবিশ আগার নগদ ওয়াকফ:
দরবিশ আগা ১৫৯৩ সালে বসনিয়ার মোস্তার শহরে ১ লাখ ৩০ হাজার আকিজা ওয়াকফ করেন। তিনি এটি বিনিয়োগ করতেন এবং সময়মতো টাকা ফেরত দিতেন। বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত ১০% লাভ দিয়ে তিনি এক মসজিদ নির্মাণ করান এবং মসজিদের যাবতীয় খরচ বহন করতেন (Al-Arnaout,)2010.
সিনান পাশা ও কাচানিক ওয়াকফ:
উসমানী খেলাফত আমলের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে (এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ) ওয়াকফ ব্যবস্থাপনা ছড়িয়ে দিতে সিনান পাশা বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৫৮৬ সালে তিনি কাচানিক ওয়াকফ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি কাচানিক শহরের জন্ম ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি দুর্গ, জামে মসজিদ, বিদ্যালয়, তকিয়া, হাম্মাম, দুইটি খান বা কারাভানসারাই নির্মাণ করেন (Al-Arnaout, 2010).।
দেশে দেশে প্রচলিত ক্যাশ ওয়াকফ
ইন্দোনেশিয়া ক্যাশ ওয়াকফ
ইন্দোনেশিয়ায় ক্যাশ ওয়াকফ গত কয়েক বছরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এটি শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০০৪ সাল থেকে কার্যকরভাবে ক্যাশ ওয়াকফ কার্যক্রম চালু রয়েছে এবং এর মাধ্যমে সমাজে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার ওয়াকফ বোর্ড (BWI) ২০১৯ সালের রিপোর্টে জানায় যে, ক্যাশ ওয়াকফ সংগ্রহের জন্য নিবন্ধিত নাজির বা মুতাওয়াল্লি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২২৪টি। তাদের হিসাব অনুযায়ী, ক্যাশ ওয়াকফ থেকে সম্ভাব্য বার্ষিক অর্থনৈতিক সুবিধা প্রায় ১৮০ ট্রিলিয়ন রুপিয়া। (Nur Fauziah, 2022, p. 204)
এই তহবিল সংগ্রহ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় দাতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে। ক্যাশ ওয়াকফের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক অবকাঠামো এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ফলে দাতাদের অর্থ শুধু সংরক্ষিত থাকে না, বরং উৎপাদনশীল প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়।
নিউজিল্যান্ডের ক্যাশ ওয়াকফ
নিউজিল্যান্ডে ক্যাশ ওয়াকফ ব্যবস্থাপনা শুরু হয় ২০১১ সালে। এখানে Awqaf New Zealand নামের একটি সংস্থা এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের পদ্ধতি প্রচলিত ক্যাশ ওয়াকফের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। তারা সরাসরি দান সংগ্রহ না করে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যেখানে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই স্থায়ী দানের অংশীদার হতে পারে।
এই ব্যবস্থায় ওমরাহ ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর সাথে চুক্তির মাধ্যমে ওমরাহ প্যাকেজের মধ্যে একটি ছোট অংশ ক্যাশ ওয়াকফ ফান্ড হিসেবে যুক্ত করা হয়। ওমরাহকারীরা আগেই জানেন যে তাদের প্রদত্ত অর্থের একটি অংশ স্থায়ী ওয়াকফ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ফলে আলাদা করে দান সংগ্রহের প্রয়োজন হয় না এবং স্বচ্ছতার সাথেই তহবিল গঠন হয়।
সিঙ্গাপুরে ক্যাশ ওয়াকফের হালচাল
সিঙ্গাপুর একটি অমুসলিম প্রধান দেশ হলেও সেখানে ক্যাশ ওয়াকফ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি লাভ করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং মুসলিম কমিউনিটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হচ্ছে।
Mosque Building and Mendaki Fund (MBMF) এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। সিঙ্গাপুরের মুসলিম কর্মচারীদের বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে Central Provident Fund (CPF) বোর্ডের মাধ্যমে MBMF তহবিলে জমা হয়। ফলে আলাদা করে তহবিল সংগ্রহের প্রয়োজন হয় না।
২০২৫ সালে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীদের মাধ্যমেই প্রায় 49.7 মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার সংগ্রহ হয়েছে এবং অন্যান্য উৎসসহ মোট তহবিল প্রায় 49.8 মিলিয়ন ডলার। এই অর্থ মূলত মসজিদ নির্মাণ ও উন্নয়ন, শিক্ষা, সামাজিক প্রকল্প এবং মুসলিম কমিউনিটির উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
সিঙ্গাপুরের এই মডেলটি ধনী-নির্ভর নয়; বরং জনসম্পৃক্ত ও অংশগ্রহণমূলক। এর সফলতার অন্যতম কারণ হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। MBMF-এর আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিত সরকারি প্রতিবেদন ও গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, ফলে মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। (Karim, S., 2016)
বাংলাদেশে ক্যাশ ওয়াকফের ইতিহাস
বাংলাদেশে ক্যাশ ওয়াকফের আধুনিক ধারণা প্রবর্তনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত আছেন ড. এম. এ. মান্নান। তিনি এ বিষয়ে গবেষণা করে ক্যাশ ওয়াকফকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন। ১৯৯৫ সালে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক তার গবেষণা গ্রন্থ Structural Adjustments and Islamic Voluntary Sector with Special Reference to Waqf in Bangladesh প্রকাশ করে। এতে তিনি মিসর ও তুরস্কসহ মুসলিম বিশ্বের ওয়াকফ প্রশাসনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখান যে স্থায়ী ওয়াকফের পাশাপাশি ক্যাশ ওয়াকফও দারিদ্র বিমোচন ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যদিও মুসলিম খিলাফত আমলে ক্যাশ ওয়াকফের প্রচলন ছিল, তবে ড. মান্নান এটিকে আধুনিক ব্যাংকিং পদ্ধতির মাধ্যমে নতুনভাবে চালু করেন। তার প্রতিষ্ঠিত সোশ্যাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড ১৯৯৮ সালে প্রথম Cash Waqf Certificate চালু করে। পরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০০৪ সালে Mudaraba Waqf Cash Deposit Account চালু করে।
বর্তমানে বাংলাদেশে বেশিরভাগ ইসলামী ব্যাংকগুলো ক্যাশ ওয়াকফ সার্টিফিকেট চালু করছে।
বাংলাদেশ ক্যাশ ওয়াকফ সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে চালু হলেও আশ্চর্যজনকভাবে সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারেনি এই উত্তম দান ব্যবস্থাটি। ব্যাংকগুলোর সংগ্রহীত অর্থের পরিমাণ খুবই সামান্য। বিভিন্ন দেশের প্র্যাকটিসের সাথে মিলিয়ে দেখার পর আমাদের সামনে বাংলাদেশের যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত হয়েছে-
১) জনসচেতনতার ঘাটতি
২) গভর্নেন্স ও ব্যবস্থাপনার নীতিগত অস্পষ্টতা
৩) আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সীমাবদ্ধতা
৪) প্রযুক্তিগত ও অপারেশনাল দুর্বলতা
৫) আর্থিক ঝুঁকি ও ধারাবাহিক আয়ের অনিশ্চয়তা
৬) ব্যাংক ও ওয়াকফ বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব
ক্যাশ ওয়াকফে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা-
বাংলাদেশে ক্যাশ ওয়াকফের বেশিরভাগ কাজ ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে হয়। কিন্তু অনেক মানুষ ব্যাংকের বাইরে সরাসরি, সহজ এবং সরকারি বা বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে করতে চান। এই চাহিদা পূরণ করার জন্য লক্ষ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্যাশ ওয়াকফ সচেতনতা ফাউন্ডেশন (BCWEF) নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের। এই ফাউন্ডেশনের কাজ হবে মানুষকে ক্যাশ ওয়াকফ সম্পর্কে জানানো, উদ্বুদ্ধ, জনসচেতনতা তৈরি করা এবং সরাসরি ক্যাশ ওয়াকফের তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত করা।
রূপরেখা
BCWEF কোন টাকা উত্তোলন করবে না। বরং তার প্রশিক্ষিত অ্যাম্বাসাডররা মসজিদ, মাদরাসা, গ্রামের বাজার, শহরের অফিস বা বাড়িতে গিয়ে সহজ ভাষায় বোঝাবেন যে অল্প টাকা দিয়েও চিরকালীন সওয়াব সম্ভব। দাতাকেক্যাশ ওয়াকফের তত্ত্বাবধায়ক প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রেরণ করবে। তারা হবে ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লাইসেন্সধারী। তারা নিজেরা টাকা পরিচালনা করবে, বরং দাতার টাকা গ্রহণ করে একটি সার্টিফিকেট দেবে, যাতে তার দানের প্রমাণের নিশ্চয়তা পায়। তাদের দুইটা বোর্ড গঠিত হবে।
১. ব্যবস্থাপনা
২. শরিয়াহ বোর্ড
ব্যবস্থাপনা কমিটি বিনিয়োগ, লাভ, ক্যাশ ওয়াকফের আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই, ইত্যাদি করবে। শরিয়াহ বোর্ড বিনিয়োগে শতভাগ শরিয়া নিশ্চিত করবে ও প্রচার প্রচারণায় থাকবে। নাজির (তত্ত্বাবধায়ক) টাকা নিরাপদে শরিয়াহ-সম্মত হালাল উপায়ে বিনিয়োগ করবেন — যেমন হালাল ব্যবসা, সুকুক বা অন্যান্য নিরাপদ খাতে। মূল টাকা কখনো খরচ হবে না, শুধু বিনিয়োগ থেকে আসা লাভ ব্যবহার হবে। লাভের বণ্টন হবে এভাবে: ১০% নাজিরের জন্য ব্যবস্থাপনা খরচ ও পারিশ্রমিক হিসেবে, আর ৯০% দাতার নির্ধারিত উদ্দেশ্যে — অর্থাৎ মাওকুফ আলাইহ-এর জন্য। BCWEF তাদের খরচ বহন করবে ফরম বিক্রি করে। যেসব ক্যাশ ওয়াকফকারী এক লক্ষ টাকার নিচে দান করবে তাদের ফরমের দাম পাঁচ হাজার।আর এক লক্ষ টাকার উপরে হলে ১৫ হাজার টাকা দিবে। আর বিনিয়োগের লাভ দিয়ে সমাজের বিভিন্ন কাজ হবে। যেমন মসজিদ বা মাদরাসার রক্ষণাবেক্ষণ, কবরস্থানের যত্ন, গরিবদের চিকিৎসা, শিক্ষার্থীদের স্কলারশিপ, দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প, চাকরি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ ইত্যাদি।
এই প্রকল্প থেকে সফলতা লাভ করতে হলে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। সরকারি প্রশাসকের কার্যালয় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে, লাইসেন্স থাকবে, সার্টিফিকেট থাকবে। পাশাপাশি BCWEF অ্যাম্বাসাডররা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতি মাসে ইন্টার্নাল অডিট রিপোর্ট করবে। কোন অসংগতি পেলে সরাসরি দেশের শীর্ষস্থানীয় অভিজ্ঞ ফকিহ, অর্থনীতিবিদদের গঠিত শরিয়াহ বোর্ডে জানাবে। যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ৫-১০ বছরের মধ্যে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিবে আশা করি। ক্যাশ ওয়াকফের ফান্ড অনেক গুণ বাড়বে। সমাজে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনে স্থায়ী অবদান রাখা যাবে। ইনশাআল্লাহ, এই সহজ ও স্বচ্ছ পদ্ধতি বাংলাদেশে ক্যাশ ওয়াকফকে একটি জনপ্রিয় ইবাদতে পরিণত করবে। প্রত্যেক মুসলিম পরিবার এতে অংশ নিয়ে সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখবে।
লেখক: ড. (মুফতি) ইউসুফ সুলতান: ভিজিটিং লেকচারার, ইউনিভার্সিটি সাইন্স ইসলাম মালয়েশিয়া; প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, আদল অ্যাডভাইজরি, মালয়েশিয়া।
এবং
মুহাম্মদ মিযানুর রহমান: সেন্টার ফর ইসলামিক ইকোনমি স্টাডিজ।