ভারত -অন্ধত্ব একটি সামাজিক রোগ

মোহাম্মদ আলম ফরিদ: যারা ভারত-অন্ধ, তাদের চোখে হাজার নিরীহ মানুষের রক্তও ধরা পড়ে না। কারণ অন্ধত্বটা চোখে নয়—চিন্তায়, বিবেকে এবং বিশ্বাসে। তাদের হাতে যতই সত্যের চশমা তুলে দেওয়া হোক না কেন, তারা মানতে রাজি হবে না যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ভারত শুধু মিত্র হিসেবেই নয়, বহু মানুষের দৃষ্টিতে একটি জটিল, বিতর্কিত এবং কখনো কখনো বৈরী শক্তি হিসেবেও উপস্থিত ছিল।

সেই কারণেই কিছু প্রশ্ন বারবার ফিরে আসে। সময় বদলায়, সরকার বদলায়, রাজনৈতিক ভাষ্য বদলায়; কিন্তু প্রশ্নগুলো হারিয়ে যায় না।

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—সে কখনো পুরোপুরি অতীত হয়ে যায় না। রাষ্ট্র যদি তার অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেয়, ইতিহাস সেগুলোকে বারবার বর্তমানের দরজায় ফিরিয়ে আনে। তাই এই প্রশ্নগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; এগুলো রাষ্ট্র, ক্ষমতা এবং ইতিহাসকে বোঝার প্রশ্ন।

শহীদ ওসমান হাদীকে কে হত্যা করেছিল? কেন? মেজর জলিল প্রতিবাদ করেছিলেন—তার পরিণতি কী হয়েছিল? প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন ভারতকে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখেছিলেন, তার পরিণতি কী হয়েছিল? শেখ মুজিবুর রহমানের পতনের পেছনে কী কী কারণ কাজ করেছিল? একটি রাষ্ট্র যখন তার নিজস্ব সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে সমান্তরাল একটি সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলে, তখন তার পরিণতি কী হয়?

রক্ষীবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অসংখ্য বিতর্ক, অভিযোগ, স্মৃতিচারণ এবং বেদনাদায়ক বর্ণনা ছড়িয়ে আছে। ইতিহাসের নানা বয়ানে এমন ঘটনাও উঠে এসেছে যেখানে ভয়াবহ নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে—এমনকি ছেলের মাথার খুলি দিয়ে বাবাকে ফুটবল খেলতে বাধ্য করার মতো নিষ্ঠুরতার বিবরণও বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বর্ণনা রক্ষীবাহিনীকে ঘিরে গড়ে ওঠা জনস্মৃতির একটি অংশ। একই সঙ্গে বিভিন্ন লেখক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমকালীন বয়ানে রক্ষীবাহিনীর গঠন ও পরিচালনায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা থাকার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। এসব দাবি নিয়ে মতভেদ থাকলেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।

রক্ষীবাহিনীকে ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু কেবল তাদের অস্তিত্ব নয়; বরং রাষ্ট্রক্ষমতার চরিত্রও। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য বিদ্যমান সাংবিধানিক বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত একটি সমান্তরাল সশস্ত্র কাঠামো গড়ে তোলে, তখন রাষ্ট্র ও দলের সীমারেখা ধীরে ধীরে অস্পষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে। ইতিহাসের বহু দেশেই এই ধরনের পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অস্থিরতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় সংকটকে আরও গভীর করেছে। বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাও সেই বৃহত্তর আলোচনার বাইরে নয়।

এখান থেকেই আরেকটি বড় প্রশ্ন উঠে আসে—ভারত বাংলাদেশের বন্ধু ছিল, নাকি ধীরে ধীরে নতুন এক প্রভাবশালী প্রভুতে পরিণত হয়েছিল?

এই প্রশ্নের উত্তর “হ্যাঁ” অথবা “না” দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ রাষ্ট্রের সম্পর্ক কখনো স্থির থাকে না; সময়, স্বার্থ, ভূরাজনীতি এবং ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গে তা বদলে যায়। একটি রাষ্ট্র একই সময়ে সহযোগীও হতে পারে, আবার নিজের কৌশলগত স্বার্থে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও করতে পারে। তাই ইতিহাসের বিচার করতে হলে আবেগ নয়, বরং ঘটনাপ্রবাহ, দলিল, নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব—সবকিছুকে একসঙ্গে দেখতে হয়।

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু আবেগ দিয়ে দেওয়া যায় না। আবার একক কোনো রাজনৈতিক বয়ান দিয়েও এর সমাধান হয় না। স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশের বাস্তবতা ছিল বহুমাত্রিক। সেখানে যেমন ছিল ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তার ইতিহাস, তেমনি ছিল লুটপাটের অভিযোগ, সীমান্তপারের অর্থনৈতিক প্রভাব, জালনোট, চোরাচালান, শিল্পকারখানার যন্ত্রাংশ স্থানান্তরের অভিযোগ এবং রাষ্ট্রের ভেতরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা এক জটিল ক্ষমতার রাজনীতি।

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময় নিয়ে বিভিন্ন স্মৃতিকথা, গবেষণা, রাজনৈতিক বয়ান ও লেখায় অভিযোগ করা হয়েছে যে যুদ্ধশেষে প্রায় দুইশো ওয়াগন রেলগাড়ী ভর্তি অস্ত্র ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ধান, চাল, গম, পাট, ত্রাণসামগ্রী, যুদ্ধাস্ত্র, ঔষধ, মাছ, গরু, বনজ সম্পদসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ সীমান্ত অতিক্রম করে চলে যাওয়ার কথাও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। এসব অভিযোগকে কেউ রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে দেখেন, আবার কেউ সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শিরা-উপশিরায় গভীর আঘাতের দলিল হিসেবে মূল্যায়ন করেন।

বাংলাদেশের শিল্পকারখানা থেকে যন্ত্রাংশ সরিয়ে আগরতলায় নতুন পাটকল স্থাপনের অভিযোগও বহুদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। একইভাবে যুদ্ধের পর সীমান্তের দশ মাইল এলাকা বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণার ফলে যে চোরাচালাননির্ভর অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল, তা দেশের সম্পদ পাচারের পথকে আরও সহজ করে দিয়েছিল বলে সমালোচকেরা দাবি করেন।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় ভারতে বাংলাদেশি জাল টাকা ছাপার অভিযোগ। সমালোচকদের মতে, এটি শুধু মুদ্রাব্যবস্থাকে দুর্বল করেনি; দেশের অর্থনৈতিক ভিতকেও নড়বড়ে করে দিয়েছিল। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নামে প্রচলিত একটি উদ্ধৃতি—“জালনোট আমাদের অর্থনীতি ধ্বংস করিয়া দিয়াছে”—প্রায়ই এই আলোচনায় উল্লেখ করা হয়। উদ্ধৃতিটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এটি দীর্ঘদিন ধরে জনপরিসরে আলোচিত হয়ে আসছে। ফলে বিষয়টি কেবল সীমান্তনীতি বা কূটনীতির প্রশ্ন নয়; অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার প্রশ্নও বটে।

এখানেই আলোচনা শেষ হয়ে যায় না। মেজর রফিকুল ইসলামসহ একাধিক সামরিক কর্মকর্তা, লেখক ও প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতিচারণে চাল, পাট ও অন্যান্য সম্পদ সীমান্ত অতিক্রম করে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। সেখানে সীমান্তের ওপারে সম্পদ স্থানান্তরের বিবরণ যেমন আছে, তেমনি রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলার সাধারণ মানুষের নিঃস্ব হয়ে পড়ার করুণ চিত্রও। একই আলোচনায় অবাঙালিদের ফেলে যাওয়া সম্পত্তির হরিলুট, ফারাক্কা বাঁধকে ঘিরে ভবিষ্যৎ মরুকরণের আশঙ্কা এবং সীমান্ত-বাণিজ্যের আড়ালে ভারতের নিম্নমানের পণ্যের বাজার তৈরি হওয়ার অভিযোগও স্থান পেয়েছে। সমালোচকদের দৃষ্টিতে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সদ্যস্বাধীন একটি রাষ্ট্রের ওপর বহুমুখী অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও রাজনৈতিক চাপের বহিঃপ্রকাশ।

জয়দেবপুর অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি থেকে অস্ত্রনির্মাণ-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ভারতে স্থানান্তরের অভিযোগও এই বৃহত্তর আলোচনার অংশ। একটি রাষ্ট্রের সামরিক-শিল্প সক্ষমতা যদি স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে সেটিকে কেবল বাইরের কোনো শক্তির কর্মকাণ্ড দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সুবিধাবাদ এবং তৎকালীন আঞ্চলিক শক্তির জটিল সমীকরণ।

ইতিহাসের একটি মৌলিক শিক্ষা হলো—কোনো বাইরের শক্তি একা একটি রাষ্ট্রকে দুর্বল করতে পারে না, যদি না সেই রাষ্ট্রের ভেতরে দুর্বলতা, বিভক্তি কিংবা সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়। বাইরের প্রভাব সব সময় ভেতরের বাস্তবতার ওপর ভর করেই কাজ করে। তাই বাংলাদেশের যুদ্ধ-পরবর্তী সংকট বিশ্লেষণ করতে হলে শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভূমিকাই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং ক্ষমতার সংস্কৃতিকেও সমানভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

এ কারণেই মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসকে খণ্ডিতভাবে পড়লে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো খুব সহজ। কেউ যদি শুধু ভারতের সহযোগিতার দিকটিই তুলে ধরেন, তাহলে লুটপাট, পাচার, জালনোট, অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং শিল্প-সম্পদ স্থানান্তরের অভিযোগগুলো আড়ালে থেকে যায়। আবার কেউ যদি শুধু ক্ষোভের জায়গা থেকে একমুখী বক্তব্য উপস্থাপন করেন, তাহলেও ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ চিত্র ধরা পড়ে না। সত্যকে বুঝতে হলে আবেগের বাইরে গিয়ে তথ্য, দলিল, স্মৃতিকথা এবং সমকালীন বয়ান—সবকিছুকেই একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

এই কারণেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের পূর্ব-পশ্চিম উপন্যাসের একটি অংশও প্রায়ই এই বিতর্কে উল্লেখ করা হয়। সেখানে ঢাকায় বিভিন্ন বিদেশি পণ্য ভারতীয় সৈন্যদের ট্রাকে তোলার বর্ণনা পাওয়া যায়। সাহিত্য ইতিহাসের বিকল্প নয়; কিন্তু সাহিত্য প্রায়ই একটি সময়ের জনমনের প্রতিফলন বহন করে। ফলে এই ধরনের বর্ণনাকে সরাসরি ঐতিহাসিক প্রমাণ বলা না গেলেও, সমকালীন সামাজিক অনুভূতি ও জনচেতনা বোঝার ক্ষেত্রে তা গুরুত্ব বহন করে।

ফলে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশকে শুধু “মিত্রতার ইতিহাস” বলে ব্যাখ্যা করাও যেমন অসম্পূর্ণ, তেমনি একে শুধু “শোষণ” বা “লুটপাটের ইতিহাস” বলেও ব্যাখ্যা করা যায় না। কিন্তু এই অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা, কিংবা ইতিহাসের আলোচনার বাইরে সরিয়ে রাখা, একটি সৎ ও পূর্ণাঙ্গ ইতিহাসচর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাই “ইতিহাস না জেনেই ভারতবিরোধিতা করবেন না”—এই বাক্যটি মূলত অন্ধ বিদ্বেষের আহ্বান নয়; বরং ইতিহাসকে তার সব আলো-অন্ধকারসহ জানার আহ্বান। ভারত যদি মুক্তিযুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভূমিকা পালন করে থাকে, তবে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সম্পদ, শিল্প, মুদ্রাব্যবস্থা, সীমান্ত অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে আলোচনা রয়েছে, সেটিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

কারণ একটি দেশের স্বাধীনতা শুধু তার পতাকা, মানচিত্র কিংবা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বাধীনতা মানে অর্থনীতির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ, নীতিনির্ধারণে স্বাধীনতা, নিরাপত্তার ওপর কর্তৃত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ অধিকার। সেই অধিকার যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষুণ্ন হয়, তবে স্বাধীনতার ইতিহাসও অসম্পূর্ণ থেকে যায়, আর সেই ইতিহাসের পাঠও পূর্ণতা পায় না।

কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা অতীতে নয়, বর্তমানে। একটি জাতি তার অতীতকে কীভাবে স্মরণ করে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো—সেই অতীত থেকে কী শিক্ষা নেয়। কারণ ইতিহাস যদি কেবল স্মৃতিস্তম্ভ হয়ে থাকে, তবে তা আবেগ সৃষ্টি করতে পারে; কিন্তু রাষ্ট্র গঠন করতে পারে না। রাষ্ট্র গড়ে ওঠে তখনই, যখন অতীতের ভুল ভবিষ্যতের নীতিতে পরিণত হয়।

আরও কাছে আসি।

ইতিহাসের আলোচনা যদি কেবল অতীতের ভেতর সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তার মূল্য খুব বেশি নয়। ইতিহাসের প্রকৃত তাৎপর্য তখনই, যখন তা বর্তমানকে বুঝতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে। সেই কারণেই স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের ঘটনাগুলো থেকে বর্তমান বাংলাদেশের দিকে তাকানো প্রয়োজন।

একটি প্রশ্ন তাই অনিবার্য হয়ে ওঠে।

শেখ হাসিনার আমলে যদি এত রক্ত না ঝরত, যদি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর ধারাবাহিক দমন-পীড়ন না চলত, তাহলে কি আজকের বাংলাদেশ অন্যরকম হতো না? লাখো মানুষ কি একইভাবে নিপীড়নের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেত? নাকি আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতাম?

এই প্রশ্নগুলোর সহজ উত্তর নেই। কিন্তু প্রশ্নগুলোকে এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ নেই।

কারণ একটি রাষ্ট্রে যখন ভিন্নমতকে রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে না দেখে রাষ্ট্রবিরোধিতা হিসেবে দেখা শুরু হয়, তখন গণতন্ত্রের জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হতে থাকে। মতের জায়গা দখল করে নেয় পরিচয়; যুক্তির জায়গা দখল করে নেয় তকমা।

তাই প্রশ্ন জাগে—এই দেশে ভিন্নমত মানেই কেন “ট্যাগ”? বিরোধিতা মানেই কেন “শত্রু”?

২০১৩ সালে যারা সরকারের বিরোধিতা করেছিল, তাদের কী নামে ডাকা হয়েছিল? শাহবাগের আবহে যেসব বিচার সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি গণতান্ত্রিক সমাজে অপরাধ? শাপলা চত্বরে যে গনহত্যা ঘটেছিল, তার নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য উত্তর আজও কেন অনুপস্থিত?

একইভাবে বিডিআর বিদ্রোহ, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, দীর্ঘ কারাবন্দিত্ব, গুম এবং দমন-পীড়ন—এসব ঘটনাকে ঘিরেও অসংখ্য প্রশ্ন বছরের পর বছর ধরে আলোচিত হয়েছে। সবকিছুকে কি নিছক কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া যায়?

প্রশ্নগুলো চাপা পড়ে থাকে, কিন্তু হারিয়ে যায় না।

রাষ্ট্রের একটি বৈশিষ্ট্য হলো—যেসব প্রশ্নের উত্তর সময়মতো দেওয়া হয় না, সেগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও বড় হয়ে ফিরে আসে। অনেক সময় একটি রাষ্ট্র ঘটনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের স্মৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তাই ইতিহাসে নীরবতা কখনোই সমাধান নয়; নীরবতা কেবল প্রশ্নকে দীর্ঘায়িত করে।

বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো আরও গভীরে জমা হতে থাকে। রাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন বহু প্রশ্ন আছে, যেগুলোর উত্তর দীর্ঘদিন চাপা রাখা যায়; কিন্তু মুছে ফেলা যায় না।

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু মানুষের এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে ভারতের প্রভাবের সমালোচনা করলেই একজন মানুষকে কোনো না কোনো পরিচয়ে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়। তখন মতামত নয়, পরিচয়ই হয়ে ওঠে বিচারের মানদণ্ড। যুক্তি নয়, লেবেলই হয়ে ওঠে বিতর্কের কেন্দ্র।

এ যেন এক অদৃশ্য কাঠামো, যেখানে ব্যক্তি কী বলছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে—সে কে।

এই অবস্থার শেষ কোথায়?

সম্ভবত এখানেই সবচেয়ে বড় সংকট। একটি সমাজ যখন প্রতিটি মতভেদকে আনুগত্যের পরীক্ষায় পরিণত করে, তখন সত্য অনুসন্ধান ধীরে ধীরে অসম্ভব হয়ে পড়ে। মানুষ তখন তথ্যের নয়, পরিচয়ের পক্ষে দাঁড়ায়। আর সেই মুহূর্ত থেকেই গণতান্ত্রিক বিতর্ক দুর্বল হতে শুরু করে।

আমরা ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান দেখেছি। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় শাসন থেকে বেরিয়ে এসে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছি। কিন্তু প্রশ্নটি আজও প্রাসঙ্গিক—আমরা কি সত্যিই সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে পেরেছি, নাকি এক ধরনের নতুন প্রভাববলয়ের মধ্যে প্রবেশ করেছি?

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশ যেন এক দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যে বসবাস করছে। একদিকে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, অন্যদিকে বহিরাগত প্রভাব; একদিকে জাতীয় স্বার্থ, অন্যদিকে নির্ভরতার রাজনীতি। এই টানাপোড়েন শুধু কূটনীতিতে নয়; অর্থনীতি, সংস্কৃতি, নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিভিন্নভাবে আলোচিত হয়েছে।

আর এই টানাপোড়েনকে টিকিয়ে রাখে কারা?

বিদেশি বা অভ্যন্তরীণ প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত স্বার্থগোষ্ঠী—দালালরা।

তারা সময়ের সঙ্গে নিজেদের রূপ বদলায়, ভাষা বদলায়, অবস্থান বদলায়; কিন্তু ভূমিকা বদলায় না। এক সময় তারা এক শক্তির পাশে দাঁড়ায়, পরে আরেক শক্তির পাশে। কিন্তু তাদের মূল কাজ একই থাকে—জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে ক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থান নিশ্চিত করা।

আজও তারা সক্রিয়।

বরং আগের চেয়ে আরও সূক্ষ্ম, আরও সংগঠিত এবং আরও কৌশলী।

এই বাস্তবতার মধ্যেই “গুপ্ত” শব্দটি শুধু একটি ঐতিহাসিক নাম হিসেবে নয়, একটি প্রতীক হিসেবেও আলোচনায় আসে।

গুপ্ত সাম্রাজ্য ছিল শক্তিশালী। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রশক্তিতে তারা একসময় বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সভ্যতা নির্মাণ করেছিল। কিন্তু সেই শক্তিও শেষ পর্যন্ত পতন ঠেকাতে পারেনি। কারণ বাইরের আক্রমণ শেষ ধাক্কা দিলেও ভিত দুর্বল হয়েছিল ভেতর থেকেই।

ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি বৃহৎ সাম্রাজ্যের পতনের আগে একটি মিল খুঁজে পাওয়া যায়। বাইরের আক্রমণ শেষ আঘাতটি দেয়, কিন্তু ভিতরে আগে থেকেই জন্ম নেয় বিভক্তি, আত্মতুষ্টি, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার। ফলে পতনের কারণ শুধু সীমান্তের বাইরে নয়; সীমান্তের ভেতরেও লুকিয়ে থাকে।

রাষ্ট্রের পতনের ইতিহাসে এ শিক্ষা নতুন নয়।

বাংলাদেশও কি সেই একই পথে হাঁটছে?

আজ আমরা একে অপরকে “গুপ্ত”, “চর”, “দালাল”—নানান পরিচয়ে চিহ্নিত করছি। কিন্তু আমরা কি উপলব্ধি করছি যে এই অবিশ্বাস, এই বিভক্তি এবং এই পারস্পরিক বিদ্বেষই একটি জাতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে?

কারণ ইতিহাসের একটি কঠিন সত্য বারবার ফিরে আসে।

কোনো জাতি শুধু বাইরের শক্তির কারণে ধ্বংস হয় না। বাইরের শক্তি সুযোগ নেয় তখনই, যখন ভেতরের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। বিভক্তি, অন্ধ আনুগত্য, নৈতিক আপস এবং সত্যকে অস্বীকার করার প্রবণতাই একটি জাতিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তাই শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু ভারতকে নিয়ে নয়, অন্য কোনো রাষ্ট্রকেও নিয়ে নয়।

প্রশ্নটি আমাদের নিজেদের নিয়ে।

আমরা কি সত্যকে গ্রহণ করার মতো মানসিক স্বাধীনতা অর্জন করেছি?

নাকি আমরা এখনো পক্ষ, প্রভাব, পরিচয় এবং প্রচারণার বৃত্তের মধ্যেই বন্দী?

যদি দ্বিতীয়টিই সত্য হয়, তবে ইতিহাস আবারও নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে।

আর তখন দোষারোপ করার মতো বাইরের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

কারণ পতনের বীজ আমরা নিজেরাই বপন করব।

এখানেই ইতিহাস বর্তমানের সঙ্গে মিলিত হয়। অতীতের ঘটনাগুলো শুধু গবেষণার বিষয় নয়; সেগুলো আজকের রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে বোঝারও একটি আয়না। তাই বর্তমানকে বুঝতে হলে অতীতকে স্মরণ করা যথেষ্ট নয়; তাকে বিশ্লেষণও করতে হয়।

শেষ পর্যন্ত বিষয়টি শুধু ইতিহাসের বিতর্ক বা ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি এসে দাঁড়ায় ক্ষমতা, কৌশল, রাষ্ট্র এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার সক্ষমতার প্রশ্নে।

ইতিহাসের একটি বৈশিষ্ট্য হলো—যে জাতি তার অতীতকে বুঝতে ব্যর্থ হয়, সে প্রায়ই একই ভুল নতুন নামে পুনরাবৃত্তি করে।

এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক বাংলাদেশের রাজনীতির দিকে তাকালে নতুন কিছু প্রশ্ন সামনে আসে। শেখ হাসিনার ঘোষিত “ফেরার” পরিকল্পনাকে ঘিরে শুধু আবেগ নয়, বরং একটি সম্ভাব্য রাজনৈতিক কৌশলের আলোচনাও জনপরিসরে উঠে এসেছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণ, রাজনৈতিক মন্তব্য এবং গণমাধ্যমের আলোচনায় এমন ধারণাও প্রকাশ পেয়েছে যে প্রশাসনের ভেতরে থাকা অনুগত অংশ, বিচারব্যবস্থা এবং সংগঠিত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে আবারও রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের চেষ্টা হতে পারে। এসব বিশ্লেষণের সঙ্গে সবাই একমত নাও হতে পারেন, কিন্তু এগুলো বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।

এই জায়গাতেই ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।

রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় ভুল অনেক সময় প্রতিপক্ষকে অবমূল্যায়ন করা। যে শক্তিকে দুর্বল মনে করা হয়, সুযোগ পেলে সেই শক্তিই আবার ফিরে আসতে পারে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় সমালোচনাগুলোর একটি হলো—সময়মতো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারা এবং প্রতিপক্ষকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া। অনেক বিশ্লেষকের মতে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শূন্যস্থান বলে কিছু থাকে না। একটি পক্ষ দুর্বল হলে অন্য পক্ষ সেই জায়গা পূরণ করার চেষ্টা করে।

এই বাস্তবতা থেকেই আরেকটি পর্যবেক্ষণ সামনে আসে।

যদি সত্যিই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল হয় দ্রুত পুনর্গঠিত হওয়ার চেষ্টা করা, তাহলে সেটি তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে অস্বাভাবিক কিছু নয়। রাজনীতির ভাষায় কোনো সংগঠন অপেক্ষা করতে চায় না, যদি তারা মনে করে সময় তাদের বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। বরং তারা সুবিধাজনক সময়কে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে—যতক্ষণ না রাষ্ট্রযন্ত্র, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাববলয়ের ভারসাম্য পুরোপুরি বদলে যাচ্ছে।

ইতিহাসে এমন উদাহরণ নতুন নয়।

ক্ষমতা হারানোর পরও বহু রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘ সময় সংগঠিত থেকেছে, প্রশাসনিক যোগাযোগ ধরে রেখেছে, সামাজিক ভিত্তি পুনর্গঠন করেছে এবং সুযোগমতো আবার ফিরে এসেছে। ফলে কেবল আবেগ দিয়ে রাজনীতি বোঝা যায় না; এর ভেতরে থাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সংগঠন, কৌশল এবং ধৈর্যের হিসাব।

এই কারণেই বর্তমানকে বুঝতে হলে অতীতের দিকে ফিরে তাকাতে হয়।

কারণ ইতিহাস শুধু স্মৃতির ভাণ্ডার নয়; এটি রাষ্ট্রবিজ্ঞানেরও শিক্ষক।

যে জাতি ইতিহাসকে কেবল স্লোগানে পরিণত করে, তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না। আর যে জাতি ইতিহাসকে প্রশ্ন করতে শেখে, তারা নিজেদের ভুলও চিনতে শেখে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সম্ভবত এখানেই।

আমরা কি ইতিহাসকে রাজনৈতিক আনুগত্যের আয়নায় দেখব, নাকি সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা নিয়ে পড়ব?

আমরা কি দলকে রাষ্ট্রের ওপরে স্থান দেব, নাকি রাষ্ট্রকে দলের ওপরে?

আমরা কি ব্যক্তি-উপাসনার রাজনীতি চালিয়ে যাব, নাকি প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করব?

আমরা কি প্রতিটি ভিন্নমতকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখব, নাকি গণতন্ত্রের স্বাভাবিক উপাদান হিসেবে গ্রহণ করব?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধু একটি সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না; নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও।

কারণ রাষ্ট্র টিকে থাকে প্রতিষ্ঠান দিয়ে, ব্যক্তি দিয়ে নয়।

জাতি টিকে থাকে সত্যের ওপর, প্রচারণার ওপর নয়।

আর স্বাধীনতা টিকে থাকে স্বাধীন চিন্তার ওপর, অন্ধ আনুগত্যের ওপর নয়।

আজ আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়তো বাইরের কোনো শক্তি নয়; বরং নিজেদের ভেতরে সত্যকে গ্রহণ করার সাহস সৃষ্টি করা।

কারণ একটি জাতি তখনই পরিপক্ব হয়, যখন সে নিজের ইতিহাসের গৌরব যেমন স্বীকার করে, তেমনি নিজের ভুলগুলোকেও অস্বীকার করে না।

বাংলাদেশের ইতিহাসও সেই সৎ সাহস দাবি করে।

যদি আমরা ইতিহাসকে সম্পূর্ণভাবে পড়তে শিখি—তার আলো ও অন্ধকার, অর্জন ও ব্যর্থতা, বিজয় ও ভুল—সবকিছু একসঙ্গে বুঝতে শিখি, তাহলে হয়তো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে না।

আর যদি আমরা আবারও পক্ষ, প্রভাব, প্রচারণা এবং অন্ধ আনুগত্যের বৃত্তেই আটকে থাকি, তাহলে ইতিহাস নতুন কোনো ভাষায়, নতুন কোনো চরিত্র নিয়ে, আবারও নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে।

সেই পুনরাবৃত্তির দায় তখন আর শুধু ইতিহাসের হবে না।

ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু ইতিহাস কাউকে ছাড় দেয় না—এ বিষয়ে ইতিহাস নিজেই সাক্ষ্য দেয়। যে জাতি নিজের ভুলকে চিনতে অস্বীকার করে, সে শেষ পর্যন্ত সেই ভুলেরই পুনরাবৃত্তির মধ্যে আটকে যায়।

 

সেই পুনরাবৃত্তির দায় তখন আর শুধু ইতিহাসের হবে না।

সেটি হবে আমাদেরও।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও সমাজকর্মী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *