
ধুলো মাটির ধূসর ক্যানভাসে আঁকা একটুকরো অন্ধকার,
তার শরীর জুড়েই সভ্যতার দীর্ঘতম উপহাস।
সে যে এক কালো শিশু-
জন্মেই সে কুড়িয়ে নিয়েছে কৃষ্ণ বর্ণের এক অলিখিত অপরাধ।
আফ্রিকার রুক্ষ চাতাল কিংবা বস্তির কোনে
বসে সে চেয়ে থাকে, ক্ষুধার্ত অবশ চোখে।
তার ফোলা পেটে জ্যান্ত ডুমুরের মত ডুগডুগি বাজায় দূর্ভিক্ষ,
আর হাড় জিরজিরে আঙুলে লেখা থাকে বঞ্চনার ইতিহাস।
তার কোনো অধিকার নেই, কোনো রঙিন শৈশব নেই,
শ্বেতাঙ্গ ঈশ্বরের পৃথিবীতে সে কেবল এক অনাহূত অতিথি।
তার কান্না বাতাসে মিলিয়ে যায় চিরায়ত ট্রাজেডির মতো,
অথচ তার ও বুক চিরে ঝরে একই লাল রক্তের নদী।
পায়ে নীচে পিষ্ট হতে হতে সে আজ জীবন্ত কঙ্কাল,
সভ্যতার অট্টালিকার নীচে চাপা পড়া এক আর্তনাদ,
এই পৃথিবী, এই বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় পরাজয়, বড় লজ্জা-
একটি কালো শিশুর অবুঝ চোখের জল আর
মানবতার চরম পরাজয়।