728 x 90

র’ ও ডিজিএফআইর পাতানো ফাঁদ ৭ জানুয়ারি

এম,এ ইউসুফ শামীম (সুপ্রভাত সিডনি): ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (র) এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এর সম্মিলিত গোপন সিদ্ধান্ত আওয়ামীলীগ সরকার বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৪। বাংলাদেশের সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারো একতরফা পাতানো নির্বাচনে নেমেছে বর্তমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার। বিগত দিনে আমাদের দেশে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে রাতের আঁধারে নির্বাচন করে সমগ্র দুনিয়ায়

এম,এ ইউসুফ শামীম (সুপ্রভাত সিডনি): ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (র) এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর  গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এর সম্মিলিত গোপন সিদ্ধান্ত আওয়ামীলীগ সরকার বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৪। বাংলাদেশের সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারো একতরফা পাতানো নির্বাচনে নেমেছে বর্তমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার। বিগত দিনে আমাদের দেশে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালে রাতের আঁধারে নির্বাচন করে সমগ্র দুনিয়ায় হাসির পাত্র হয়েছে এ স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার। ভারতীয় সরকার নিকটস্থ দেশগুলো শোষণ করার নীল নকশার একটি অংশ হিসেবে ভারতের গোয়েন্দা ও বাংলাদেশ সরকারের সেনাবাহিনীর বিপথগামী গোয়েন্দারা  মিলে দেশ ধ্বংসের এক মহা উৎসবে নেমেছে।

আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীরা আবারো সন্ত্রাসী কায়দায় ভোট কেন্দ্র দখল এবং আওয়ামী অসৎ পুলিশদেরকে দিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারার এক গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে। ৭ই জানুয়ারীর পাতানো নির্বাচনে কে কতো ভোট পাবে, কোন এলাকায় কত ভোটের ব্যবধান দেখানো হবে, সব ছক করে দেয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে একজন ভোটার না গেলেও ভোট সুন্দর ও সুষ্টু দেখানোর সকল প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে। বিদেশী প্রভাবশালী মিডিয়াগুলোর সামনে কোথায় কোথায় নাটক দেখানো হবে, তার জন্য স্পেশাল টিম ও বাজেট করা হয়েছে। অর্থাৎ কোন কোন কেন্দ্রে বিদেশী ভোটারদেরকে ঢুকতে দেয়া হবে এবং ওই সমস্ত কেন্দ্রে নাটক কারা মঞ্চস্থ করবে, সব মাস্টার প্ল্যান তৈয়ার করেছে উপরে উল্লেখিত দুই গোয়েন্দা সংস্থা।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত  বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত আওমীলীগের ভুয়া এ পাতানো খেলায় অংশ নেয়ার জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ , ছাত্রলীগদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সাবেক আওয়ামীলীগ নেতা বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত সমস্ত ডেকোরামকে পায়ে ঠেলে সিডনির ল্যাকেম্বায় প্রকাশ্যে বসে কোন একটি রেস্তোরাঁয় এ সভা করেন। আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৪ এর পাতানো অবৈধ নির্বাচনকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি উৎসাহিত করেন বলে জানা গেছে।

আওয়ামীলীগের মনোনীত সন্ত্রাসী প্রাথীরা হুমকি দিচ্ছেন তাদের নির্বাচনী এলাকায়। ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন দেশের বিভিন্ন জায়গায় যা নাকি তাদের উলঙ্গ ও সন্ত্রাসী রূপের বহিঃপ্রকাশ। কয়েকটি উদাহরণ দিলেই পরিষ্কার হবে। যেমন, লালমনিরহাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মর্তুজা হানিফের ঘাড় মটকে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের বিরুদ্ধে।

নৌকার বিপক্ষে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তাদের ৭ তারিখের পর পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিলেন পঞ্চগড়-১ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তার অনুসারী ও সমর্থক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পাল্টাপাল্টি পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাঁর সমর্থকদের হুমকি-ধমকি ছাড়াও প্রচারণায় হামলার অভিযোগ উঠেছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া হামলা চালিয়ে প্রচার মাইক ও নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। প্রতিপক্ষের এ হামলা-হুমকিতে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের নেতাকর্মী। ময়মনসিংহে নির্বাচনী ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মারধরে নিহত হয়েছে একজন।

কুমিল্লায় গোলাম সারোয়ার (দুই নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর )  শিপন গত ২২ ডিসেম্বর ২০২৩ জুমার দিন মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ঘোষণা করেছেন যে, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে তার মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যারা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও টিসিবি কার্ড পেয়েছেন তাদেরকে অবশ্যই নৌকা মার্কায় ভোট দিতে হবে অন্যথায় তাদের কার্ডগুলো কেড়ে নিয়ে অন্যদের দিয়ে দেয়া হবে।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান পবন বলেছেন, ‘এই নির্বাচন শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নির্বাচন নয়, তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন। যাদের দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ গঠন করবেন, তাও করা হয়ে গেছে। কিন্তু উনার ওপর একটা দায় আছে ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে, উন্নত বিশ্ব তাকিয়ে আছে অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন করতে।’

রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে ফেসবুক লাইভে এসে ‘জুতাপেটা’ করার কথা বলেছেন বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দানকারী মাহাবুর রহমান মাহাম নামে এক যুবক।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কেউ ভোট চাইলে, তাকে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নাটোর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।

নৌকার ভোট নিশ্চিত না হলে, ওই ভোটারের কেন্দ্রে আসার দরকার নেই বলে বক্তব্য দিয়েছে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সামাদ। রাজশাহী-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদের পক্ষে প্রচারে তিনি এসব কথা বলেন।

কুষ্টিয়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জকে তার নৌকা প্রতীকে ভোট না দিলে সব সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা বাতিল হয়ে যাবে বলে হুমকি দিয়েছেন কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউপির চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক মঞ্জু। জামালপুর-৫ আসনের লক্ষ্মীরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাতেম আলীও মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবুল কালাম আজাদকে ভোট না দিলে সুবিধাভোগীদের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রউফ আগামী ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির ভাইয়েরা যদি নৌকা মার্কায় ভোট দিতে ইচ্ছুক না হন তাহলে আর কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই। তার কারণ, আমরা আওয়ামী লীগের দুজন প্রার্থী। আমরাই ভোট দিয়ে যাকে মনোনীত করি তিনিই আমাদের এমপি হবেন।’

নির্বাচনী জনসভায় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর ঘাড় মটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন লালমনিরহাট-২ আসনের নৌকার প্রার্থী সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে মেহেরপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান ফোন করে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অলোক কুমার দাশকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছেন।

পঞ্চগড়-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার সমর্থকদের ভোটের পর পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু। এরকম বেফাঁস মন্তব্য ও হুমকির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রার্থীরা।

একটি অসাংবিধানিক ও ভুয়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থের অপচয় সীমাহীন। আগামী ৭ জানুয়ারি দেশে তথাকথিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সারা দেশে একযোগে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে প্রতি আসনে ৭ কোটি ২২ লাখ ৬১ হাজার ৫৪ টাকা খরচ নির্ধারণ করেছে। এ হিসাবে সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে ৩০০ আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন আয়োজনে মোট ব্যয়ের চাহিদা দিয়েছে মোট ২ হাজার ২৭৬ কোটি ২২ লাখ ৩২ হাজার ১৩৯ টাকা।

পাতানো জাতীয় নির্বাচনের পরপরই সারা দেশে উপজেলা নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলায় নির্বাচনী ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ১৯০ টাকা। এ হিসাবে ৫২০টি উপজেলায় নির্বাচন সম্পন্ন করতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৬১৬ কোটি ১৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮৬১ টাকা। বাকি অর্থ ব্যয় হবে বিভিন্ন স্তরের উপনির্বাচনের জন্য।

নির্বাচনী কাজে আপ্যায়ন ব্যয় আড়াই গুণ বাড়ানো হয়েছে। প্রথমে বাজেটে এ খাতে ব্যয় ধরা হয় ১৫২ কোটি ২৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা। সংশোধিত বাজেটে এটি ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা করা হয়।

আওমীলীগ সবদিকে একটি সন্ত্রাসীদল এতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদেরকে হুমকি বা হামলার মাধ্যমে তাই প্রকাশ পেয়েছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মুজিবুল হক চৌধুরী প্রকাশ্যে পিটুনির হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে। বলেছেন, ‘পিটার হাস্ বলেছে এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। এই পিটার হাস্, আমরা খাই পাঁচ আঙ্গুলের ভাত। আর তুই খাস ফিডার। আর তোরে এমন পিটুনি দেবো…। বাঙালি কি ফাজিল তা তো জানোস না।আমাদের একটি… ছিঁড়তে পারবি না।’চাম্বল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত হরতাল-অবরোধ বিরোধী সমাবেশে  চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে পিটুনি দেয়ার হুমকিসহ তাকে বিভিন্নভাবে তাচ্ছিল্য করেন। এ সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়েও কটূক্তি করেন।

বৃহস্পতিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০২৩ রাতে উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নে ২নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ কর্মী ইমরান হাসান রঞ্জুর বাড়িতে নির্বাচন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে নৌকার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগ কর্মী শেখ জুবায়ের হাসান ‘প্রয়োজনে ১/২টি মার্ডার করতে’ সভায় উপস্থিত এলাকাবাসীকে প্ররোচনা দেন এবং মার্ডার হলে তিনি অথবা গ্রামবাসী বুঝে নেবেন বলে জানান।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, এবারের নির্বাচনে প্রায় সব কয়টি আসনেই আওয়ামী লীগ একাধিক প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। তারা ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকে প্রার্থী হয়েছে। এরা জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করছে, নেতা কর্মীদের নানান ভাবে হুমকি দিচ্ছে, হয়রানি করছে।

শনিবার ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩ রাতে রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের ঋষিপাড়া এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর পক্ষে নির্বাচনি উঠান বৈঠকে শেখ ফরিদ ভূঁইয়া হুমকি দেন। তার ওই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে হত্যার হুমকির অভিযোগে আওয়ামী লীগের আট নেতার বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেছেন বিএনপির এক নেতা। বুধবার ২৯ নভেম্বর ২০২৩ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাউদ্দিনের আদালতে তিনি এ আবেদন করেন।

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন, চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মুজিবুল হক চৌধুরী, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফরিদুল আলম, চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইফতেখার উদ্দিন বাবু, সাজ্জাদ, এহছান, ফরহাদ, নাসির ও সাইফুল।

ফরিদপুর-৩ আসনে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত একাধিক স্থানে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী এ. কে. আজাদের ঈগল প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গুলি ছোড়াসহ দুটি ক্যাম্প ভাঙচুর ও একটি ক্যাম্পে তালা মেরে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে মামুদপুরে হামলা করে আহত করা হয়েছে দুই কর্মীকে। শহরের আলীপুরে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর কোনো মিছিল বা প্রচারণা বের হলে মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে তাদের আশপাশে মহড়া দিচ্ছে হেলমেট পরিহিতরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থী শামীম হকের লোকজন এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিএনপিবিহীন আসন্ন ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে নৌকার মাঝির পাশাপাশি দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারণার ছক সাজানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব আসনে বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি রয়েছে ওইসব এলাকায় তাদের অপকৌশলে ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্র বিমুখ না হয় সে ব্যাপারে প্রাণপণ তৎপরতা চালানোর পরামর্শ দিয়েছে আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোট বর্জনে বিএনপি ও জামায়াত লিফলেট বিলি করলেও তা সাধারণ মানুষের মধ্যে খুব একটা প্রভাব ফেলছে না। তবে আওয়ামী লীগের নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং তাদের সহযোগীরা ভোটের প্রচারণায় নেমে প্রতিপক্ষকে যে ভাষায় হুমকি-ধামকি দিচ্ছে তাতে ভোটারদের মাঝে বিরাজমান উৎসবের আমেজ মøান হয়ে পড়ছে। এমনকি যারা প্রচার-প্রচারণার কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত তারাও এখন ভীত-সন্ত্রস্ত। বিশেষ করে গত শনিবার মাদারীপুরে আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা এবং মুন্সীগঞ্জে এক কর্মীর বাড়িতে গিয়ে গুলির ঘটনার পর সেখানে অনেকেই প্রচারণার কাজ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন।

ঢাকার একটি আসনের আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগ, নৌকার মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর ক্যাডাররা তার প্রচার-প্রচারণার কাজে যুক্ত কর্মীদের যেভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে তাতে শুধু প্রচারণার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে তা-ই নয়, ভোটারদের অনাগ্রহও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি থাকলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অনেকে প্রতিটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট রাখতে পারবে কিনা- তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

পটুয়াখালী-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমানের ঈগল প্রতীকের সমর্থনে অনুষ্ঠিত পথসভায় নৌকার কর্মী-সমর্থকদের ‘হাত কেটে দেবো’ হুমকি প্রদানের বক্তব্য সংবলিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক মা-বোনদের বুঝাবেন এবার আওয়ামী লীগের মার্কা ঈগল, আর পাগলের মার্কা হচ্ছে নৌকা।’ এ সময় নৌকার সমর্থকদের হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘হাত কেটে দেবো, হাত কেটে দেবো।’

রাজধানীর আরামবাগে আওয়ামী লীগের সমাবেশে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। সেখানে বিএনপির হরতাল অবরোধ সহিংসতা নিয়ে তিনি বলেন, “আগুন দিয়ে যারা পোড়াবে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। দরকার হলে তাদের ধরে ওই আগুনের মধ্যে ফেলতে হবে। যে হাত দিয়ে আগুন দেবে সেই হাত আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিতে হবে। তবেই তাদের শিক্ষা হবে।” এতেই বুঝা যায়, আওয়ামীলীগ কি ধরনের সন্ত্রাসী। দলপ্রধান সবাইকে শান্ত ও ধৈর্য্য ধরার আহবান না করে বরনং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে উস্কিয়ে দিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে প্রচুর হতাহত ও হত্যার নেশায় মেতেছে এ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী মাফিয়া সরকার। কোথায় বলে, যে সাপ নিয়ে খেলা করে ,একদিন সেই সাপের দংশনেই মারা যায়। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, উপরোক্ত দুই গোয়েন্দা সংস্থার হাতেই হয়তোবা তার ভবলীলা সাঙ্গ হবে একদিন। আওমিলিগ উন্নয়নের নামে একটি মাফিয়া বাহিনী গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে এবং সফলভাবে পরিচালনা করার সমস্ত দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন মাফিয়া রানী হাসিনা।

বিএনপি ও জামাতের শীর্ষ স্থানীয় নেতা কর্মীদেরকে আটক করে বিনা বিচারে কারাগারে প্রেরণ করে নির্বাচন নামক এক তামাশার সঞ্চার করেছেন বর্তমান স্বৈর শাসক। বাস, ট্রেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা আগুন লাগিয়ে বিরোধী দলের নামে  চালিয়ে দিচ্ছে। মসজিদ ও মাদ্রাসাগুলোকেও ছাড়  দিচ্ছে না। অনেক যানবাহনে পুলিশকে আগুন দিতে দেখা গিয়েছে এবং পুলিশের আগুনের ভিডিও ভাইরাল হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী অসৎ পুলিশের কোনো  রিলিজ বা কৈফিয়ত নেই।

বাংলাদেশ ও প্রবাসে  সচেতন নাগরিক এবং দেশপ্রেমী জনগণ আসন্ন নির্বাচনকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সচেতন বাংলাদেশীরা রাস্তায় রাস্তায় নির্বাচন বয়কট করার আহবান জানিয়ে সভা ও লিফলেট বিলি করছেন।

Read More

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked with *

সর্বশেষ পোস্ট

Advertising