মীম মিজান: কবিতা কেবল শব্দের কারুকার্য নয়, বরং কবিতা হলো আত্মার দর্পণ এবং সমাজের হৃৎস্পন্দন। একজন সার্থক কবি তার সমকালকে যেমন ধারণ করেন, তেমনি তার সংবেদী মনন দিয়ে নির্মাণ করেন ভবিষ্যতের রূপরেখা। পৃথিবীর ইতিহাসে যখনই পাশবিকতা মানুষের বিবেককে দংশন করেছে, যখনই শোষকের রক্তচক্ষু মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করেছে, তখনই একদল কালজয়ী কবি আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁরা কেবল পুষ্প-পল্লবের সৌন্দর্য বর্ণনা করেননি, বরং তাঁদের কলম হয়ে উঠেছে শাণিত তরবারি।
সাহিত্যের প্রাচীন শাখা হিসেবে কবিতার জয়যাত্রা শুরু হলেও ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে অনেক কবিই হারিয়ে গেছেন। এর কারণ ছিল তাঁদের ‘পরিতোষণমূলক’ মানসিকতা। রাজ-দরবারের তোষামোদ কিংবা বৈষয়িক পদ-পদবির লোভে যারা কবিতা লিখেছেন, কাল তাঁদের ক্ষমা করেনি। কিন্তু যারা কারারুদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে, বাজেয়াপ্ত হওয়ার ভয় উপেক্ষা করে মজলুমের কণ্ঠস্বর হিসেবে কলম ধরেছেন, তাঁরাই মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন। আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল (র.) ছিলেন সেই কালজয়ী কবিদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি, যাকে কেবল একজন কবি হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না, তিনি ছিলেন একাধারে দার্শনিক, মুজাদ্দিদ, রাষ্ট্রচিন্তক এবং বিশ্বমানবতার এক মহান স্বপ্নদ্রষ্টা।
আল্লামা ইকবালের জন্ম ১৮৭৭ সালের ৯ নভেম্বর বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোটে। তাঁর পূর্বপুরুষগণ ছিলেন কাশ্মীরের পণ্ডিত। পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে তাঁরা শিয়ালকোটে বসতি স্থাপন করেন। ইকবালের পিতা শেখ নূর মুহাম্মদ ছিলেন একজন নিভৃতচারী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। পেশায় দর্জি হলেও তাঁর মনন ছিল একজন সূফী সাধকের মতো। ইকবালের চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং আধ্যাত্মিক চিন্তার মূলে তাঁর পিতার গভীর প্রভাব ছিল। কথিত আছে যে, ইকবালের পিতা তাঁকে প্রতিদিন কুরআন তেলাওয়াতের উপদেশ দিতেন এই বলে যে, “কুরআন এমনভাবে পাঠ করো যেন এটি তোমার ওপরই নাজিল হচ্ছে।” এই একটি উপদেশ ইকবালের জীবনদর্শন বদলে দিয়েছিল। তাঁর মাতা ইমাম বিবিও ছিলেন অত্যন্ত পরহেজগার নারী। একাধারে কাশ্মীরের ঐতিহ্য এবং ইসলামের সূফীবাদী চেতনা ইকবালের রক্তে এক অনন্য দার্শনিক সংমিশ্রণ ঘটিয়েছিল।
শিয়ালকোটের মক্তব থেকে ইকবালের শিক্ষার হাতেখড়ি। এরপর লাহোরের সরকারি কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে তিনি ১৯০৫ সালে ইংল্যান্ডে যান। সেখানে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন ও নীতিশাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে জার্মানির মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘পারস্যে প্রজ্ঞান চর্চার বিকাশ’ (The Development of Metaphysics in Persia) শীর্ষক গবেষণার ওপর পিএইচডি লাভ করেন। ইকবালের এই ভ্রমণ ও উচ্চশিক্ষা ছিল তাঁর জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। তিনি একদিকে যেমন প্রাচ্যের আধ্যাত্মিকতা ও ফারসি সাহিত্যের রস আস্বাদন করেছেন, অন্যদিকে পাশ্চাত্যের নিৎশে, বার্গসাঁ এবং গ্যেটের দর্শনের সাথেও পরিচিত হয়েছেন। তবে পাশ্চাত্যের বস্তুবাদী উৎকর্ষতা তাঁকে মুগ্ধ করার বদলে ব্যথিত করেছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, আধ্যাত্মিকতাহীন এই আধুনিক সভ্যতা একদিন নিজের হাতেই নিজের ধ্বংস ডেকে আনবে।
ইকবালের কলম ছিল বহুরৈখিক। তিনি উর্দু ও ফারসি উভয় ভাষায় সাহিত্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর প্রতিটি গ্রন্থই এক একটি স্বতন্ত্র দর্শনের আধার।
আসরার-ই-খুদি (ব্যক্তিত্বের রহস্য):
১৯১৫ সালে প্রকাশিত এই ফারসি কাব্যটি ইকবালের ‘খুদি’ বা আত্মদর্শন তত্ত্বের মূল ভিত্তি। তিনি মানুষকে তার সুপ্ত প্রতিভা এবং আত্মমর্যাদা জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
রমুজ-ই-বেখুদি (ব্যক্তিত্বহীনতার রহস্য):
এখানে তিনি ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজ ও মিল্লাতের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন।
দ্য রিকনস্ট্রাকশন অব রিলিজিয়াস থট ইন ইসলাম:
এটি সাতটি ইংরেজি প্রবন্ধের সংকলন, যেখানে তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটে ইসলামি চিন্তাধারার পুনর্গঠনের তাত্ত্বিক কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন।
জাভিদ নামা:
ইকবালের শ্রেষ্ঠ কাব্যকীর্তি। এটি একটি কাল্পনিক মহাকাশ ভ্রমণ, যেখানে তিনি মাওলানা রুমির সহযাত্রী হয়ে বিভিন্ন গ্রহ ভ্রমণ করেন এবং ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্বদের সাথে আলাপ করেন। এটি দান্তের ‘ডিভাইন কমেডি’র এক আধ্যাত্মিক উত্তর।
বাল-ই-জিবরাঈল:
উর্দু সাহিত্যে ইকবালের শ্রেষ্ঠ অবদান। এর প্রতিটি পংক্তিতে রয়েছে বিদ্রোহ, ভালোবাসা এবং আধ্যাত্মিক জাগরণ।
ইকবালের ‘খুদি’ দর্শন:
ইকবালের দর্শনের কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘খুদি’ বা Selfhood। পাশ্চাত্য দর্শন যখন মানুষকে কেবল একটি জৈবিক যন্ত্র হিসেবে দেখেছে, ইকবাল তখন প্রচার করেছেন যে মানুষ হলো মহাজাগতিক এক ঐশ্বরিক শক্তির অংশ। খুদি মানে কেবল অহংকার নয়, বরং নিজের ভেতরকার ঐশ্বরিক গুণাবলীকে বিকশিত করা। তিনি বলতেন:
“খুদিকে করো এতোটা বুলন্দ যেন প্রতিটি তকদিরের আগে খোদা খোদ বান্দাকে জিজ্ঞেস করেন, বল তোর ইচ্ছা কী?”
তাঁর মতে, একজন মানুষ যখন নিজের নফস বা কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে খুদিকে জাগ্রত করে, তখন সে প্রকৃতির দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে প্রকৃতির নিয়ন্তা হয়ে ওঠে। এই দর্শনই পরাধীন ভারতবর্ষের মুসলমানদের এবং বিশ্বের নিপীড়িত জনতাকে মুক্তি ও স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিল।
নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর ও সাম্যবাদী চেতনা:
আল্লামা ইকবাল কেবল তাত্ত্বিক দার্শনিক ছিলেন না; তিনি ছিলেন শোষিত মানুষের সংহতি। তিনি তৎকালীন জমিদারতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ এবং পুঁজিবাদী শোষণের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কাব্যে তিনি শ্রমিক ও কৃষকদের অধিকারের কথা অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছেন।
১৯৩৫ সালে প্রকাশিত তাঁর ‘ফারমানে খোদা’ (প্রভুর আদেশ) কবিতাটি এর উজ্জ্বলতম উদাহরণ। এই কবিতায় তিনি যেন খোদ স্রষ্টার পক্ষ থেকে ফেরেশতাদের নির্দেশ দিচ্ছেন পৃথিবীর প্রচলিত বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে ভেঙে চুরমার করে দিতে:
“ওঠো দুনিয়ার গরীব ভূখারে জাগিয়ে দাও।
ধনিকের দ্বারে ত্রাসের কাঁপন লাগিয়ে দাও।।
কিষান-মজুর পায় না যে মাঠে শ্রমের ফল
সে মাঠের সব শস্য কনায় আগুন লাগিয়ে দাও।”
এই পংক্তিগুলোর মধ্যে যে আগ্নেয়গিরির লাভা লুকিয়ে আছে, তা তৎকালীন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। জহির রায়হানের ‘জীবন থেকে নেয়া’ চলচ্চিত্রে এই কবিতার ব্যবহার প্রমাণ করে যে, ইকবালের চিন্তা সীমানা ছাড়িয়ে প্রতিটি বিপ্লবীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
সাম্রাজ্যবাদ ও পশ্চিমা সভ্যতার সমালোচনা:
ইকবাল পশ্চিমা সভ্যতার বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রশংসা করলেও এর নৈতিক দেউলিয়াপনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দেখেছিলেন যে, পশ্চিমা গণতন্ত্র আসলে পুঁজিবাদী শোষণের একটি মুখোশ মাত্র। তিনি বলেছিলেন:
“পাশ্চাত্যের সভ্যতা এক চকচকে মরীচিকা,
যার ভেতরে কোনো রুহ বা আত্মা নেই।”
তিনি জাতীয়তাবাদের (Nationalism) উগ্র রূপকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কারণ এটি মানুষকে দেশ ও জাতির ভিত্তিতে বিভক্ত করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেয়। এর বদলে তিনি ‘উম্মাহ’ বা বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, যেখানে মানুষের পরিচয় হবে তার আদর্শ, ভৌগোলিক অবস্থান নয়।
রাজনৈতিক স্বপ্নদ্রষ্টা ও পাকিস্তান আন্দোলন:
ইকবালকে ‘পাকিস্তানের আধ্যাত্মিক জনক’ বলা হয়। ১৯৩০ সালে এলাহাবাদে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লিগের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি প্রথম মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ভূখণ্ডের রাজনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর এই দূরদর্শী চিন্তা পরবর্তীতে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল জ্বালানি হিসেবে কাজ করে। তিনি চেয়েছিলেন এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে ইসলামি ন্যায়বিচার এবং মানবিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। যদিও তিনি স্বাধীন রাষ্ট্র দেখে যেতে পারেননি (তিনি ১৯৩৮ সালে ইন্তেকাল করেন), কিন্তু তাঁর কবিতাই ছিল সেই স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রেরণার উৎস।
নজরুল ও ইকবালের ভাবগত ঐক্য:
বাঙালি জাতির বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং আল্লামা ইকবালের মধ্যে এক গভীর ভাবগত মিল লক্ষ্য করা যায়। নজরুল যেমন শোষিত মানুষের জয়গান গেয়েছেন, ইকবালও তেমনি। নজরুল ‘বিদ্রোহী’ কবিতায় যেমন নিজেকে উচ্চতর সত্তা হিসেবে ঘোষণা করেছেন, ইকবালের ‘খুদি’ দর্শনও ঠিক তাই। উভয়েই ছিলেন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এবং মানবতার পূজারী। যদিও তাঁদের ভাষার মাধ্যম ভিন্ন ছিল, কিন্তু তাঁদের গন্তব্য ছিল এক, মানুষের মুক্তি।
ইকবালের দর্শনে মানুষের মর্যাদা স্রষ্টার পরেই। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ যদি মানুষকে দাসত্বের শিকলে বাঁধে, তবে সেটিই সবচেয়ে বড় পাপ। ‘যবুরে আজম’-এ তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে বলেছেন: “মানবতাকে সম্মান করার মধ্যেই মানবতা, মানবতার মর্যাদা সম্পর্কে জ্ঞাত হও!”
তিনি রাসূল (সা.)-এর মিরাজের ঘটনাকে মানুষের উচ্চতর মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখতেন। তিনি মনে করতেন, মানুষ যদি নিজের সত্তাকে চিনতে পারে, তবে সে ফেরেশতাদের চেয়েও উন্নত হতে পারে। তাঁর এই মানবতাবাদ কোনো সংকীর্ণ ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল সমগ্র মানবজাতির জন্য এক মুক্তির সনদ।
জীবনের শেষ দিকে ইকবাল নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। কিন্তু তাঁর চিন্তার ধার ছিল আগের মতোই প্রখর। ১৯৩৮ সালের ২১ এপ্রিল ফজরের আজানের সময় তিনি মহান রবের ডাকে সাড়া দেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদে গোটা উপমহাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছিলেন “ইকবালের মৃত্যুতে বিশ্ব সাহিত্য এক মহৎ প্রতিভা হারালো।” লাহোরের ঐতিহাসিক বাদশাহী মসজিদের প্রবেশদ্বারের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
আজকের বিশ্ব যখন চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যখন বর্ণবাদ, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন তাঁর দর্শন নতুন করে পাঠ করা জরুরি। তিনি মানুষকে প্রকৃতির খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে দেখেছেন, যা বর্তমান পরিবেশবাদী আন্দোলনের সাথে সংগতিপূর্ণ। তিনি সব সময় যুবকদের ‘শাহীন’ বা ঈগলের সাথে তুলনা করতেন। তিনি চাইতেন যুব সমাজ যেন অলসতা ত্যাগ করে জ্ঞান ও কর্মে নিজেদের সমৃদ্ধ করে। পাশাপাশি তাঁর “লেট ফ্লাওয়ার্স ব্লুম এভরিহয়্যার ইনস্টেড অব বোম্বস” (বোমার পরিবর্তে সর্বত্র ফুল ফুটুক) দর্শনটি বর্তমান যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর জন্য একমাত্র মহৌষধ।
আল্লামা ইকবাল কেবল অতীতের কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র নন, বরং তিনি একটি জীবন্ত চেতনা। তাঁর কবিতা পাঠ করলে আজও রক্তে শিহরণ জাগে, পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে নিজের সত্তাকে চিনতে হয়, কীভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়।
তিনি যে মানবতার জয়গান গেয়েছেন, যে নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে বজ্রধ্বনি তুলেছেন, তা যুগ যুগ ধরে প্রতিটি বিপ্লবীকে অনুপ্রেরণা জোগাবে। যতক্ষণ পৃথিবীতে শোষণ থাকবে, যতক্ষণ মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে, ততক্ষণ ইকবালের কবিতা শোষিতের কণ্ঠে বিদ্রোহের গান হয়ে প্রতিধ্বনিত হবে। মানবতার এই দুর্দিনে তাঁর দর্শনই হতে পারে আমাদের আলোকবর্তিকা, যা দিয়ে আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যহীন পৃথিবী গড়ে তুলতে পারি।