অঙ্কুরের অদম্যতা: মেশকাতুন নাহার 

কিছু ছায়া বৃক্ষের পাশে জন্মে, অথচ বৃক্ষের উচ্চতাই তাদের অসহ্য—

তাই তারা শিকড়ে নয়, ডালে ডালে নীরব অবরোধের ভাষা লেখে।

কিছু কুয়াশা সূর্যকে নিভাতে চায় না, শুধু দিগন্তের দৃশ্য আড়াল করে—

অথচ প্রভাত তার নিজস্ব মহিমায় কুয়াশার সমস্ত অস্তিত্ব অতিক্রম করে।

কোনো কোনো নদীকে পথ দেওয়ার বদলে পাথর সাজানো হয় তীরে,

কোনো কোনো পালকে বাতাসের বদলে অদৃশ্য ভার চাপানো হয় ধীরে ধীরে;

তবু স্রোতের নিয়তি সাগর, আর পাখির নিয়তি নীলিমা—

বাঁধের প্রজ্ঞা যতই কূটিল হোক, প্রকৃতির বিধান তার চেয়েও প্রাচীন।

যে কুঁড়ির অন্তর্গত বসন্তকে দূর থেকে বোঝা যায় না,

তার সুবাসকে বন্দী করতে কোনো প্রাচীরই যথেষ্ট নয়।

কারও অঙ্কুরোদ্গমে নীরব অস্বস্তি জন্ম নিলে জন্মাক—

বীজ তো কারও অনুমতির অপেক্ষায় মহীরুহ হয়ে ওঠে না।

জগতের কিছু দরজা বন্ধ হয়, কিছু পথ ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্গম করা হয়,

কিন্তু নিয়তির অলিন্দে যে প্রদীপ জ্বলে, তার শিখা অন্যের হাতে নেভে না।

কারণ উচ্চতা কখনো কেবল সিঁড়ির দান নয়—

কখনো তা অন্তর্লীন নিয়তির এমন এক আহ্বান,

যার সামনে ক্ষুদ্রতার সমস্ত কৌশল অবশেষে নিজেকেই পরাজিত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *