সামাজিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য ও অংশগ্রহণের সীমারেখা নিয়ে কোরআন, হাদিসের আলোকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি

সুপ্রভাত সিডনি প্রতিবেদন: অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ নেতা-কর্মী বিগত সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে হিন্দু ধর্মের অনুষ্ঠানাদিতে যোগ দিচ্ছেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় তুলেছে। তাই পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে কী উল্লেখ আছে, তা সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো। এটি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধাচরণ নয়, বরং মুসলমানদের সচেতন করার লক্ষ্যেই এ প্রতিবেদন।

পবিত্র কোরআনের দলিল ও দৃষ্টিভঙ্গি

  • শিরক ও বাতিলের সঙ্গ বর্জন: আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মুমিনদের অমুসলিমদের ধর্মীয় আচার ও মিথ্যার সঙ্গ বর্জন করতে বলেছেন। সুরা আল-ফুরকানের (আয়াত ৭২) ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ বলেন, যারা অসত্য ও অনর্থক কাজে লিপ্ত হয়, মুসলমানরা তাদের কাছ থেকে দূরে থাকবে। শিরক ও বাতিলের স্বীকৃতি নয়: অন্য ধর্মের উৎসবে সরাসরি অংশ নেওয়া বা উপাসনালয়ে যাওয়া মানে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন বা সন্তুষ্টি প্রকাশ করা, যা তাওহীদের বিশ্বাসের পরিপন্থী।মুসলমানদের জন্য অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসব বা উপাসনায় (যেমন—পূজা, বড়দিন ইত্যাদি) সরাসরি অংশগ্রহণ করা, সেগুলোতে যোগ দেওয়া অথবা উৎসবের আমেজকে উদযাপন করা নাজায়েয (নিষিদ্ধ) এবং কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
  • কারণ: ইসলামে ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির একটি বিশেষ পবিত্রতা রয়েছে। অন্য ধর্মের উপাসনা বা ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেওয়ার অর্থ হলো পরোক্ষভাবে তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস বা আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা।
  • কোরআনের নির্দেশ: পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ভালো ও সৎকাজে একে অপরকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিলেও পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন। (সুরা আল-মায়েদা, আয়াত: ২)
  • আকিদার হেফাজত: ইসলামের মূল ভিত্তি হলো একত্ববাদ বা তাওহিদ। শিরক ও কুফরি বা এর প্রতীকী প্রকাশ ঘটে এমন কোনো অনুষ্ঠানে মুসলিমদের অংশগ্রহণ আকিদাগত নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
  • দ্বীনের স্বতন্ত্রতা রক্ষা: আল্লাহ তাআলা সুরা আলে ইমরানের ৮৫ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেছেন—
    অর্থ: “আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৫]। অন্য ধর্মের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও উৎসবে অংশ নেওয়া এই আয়াতের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করা হয়।
  • অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব বা পূজা মন্ডপে যাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ, কারণ এতে তাদের শিরকি ও বাতিল কর্মকাণ্ডের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন বা সন্তুষ্টি প্রকাশ পায়। কোরআনে অন্যায় ও পাপের কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করা হয়েছে সূরা আল-মায়েদা,আয়াত ২
  • ভ্রান্ত আলোচনায় না বসা: সুরা আন-নিসার ১৪০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে আল্লাহর আয়াতের সাথে অবাধ্যতা বা অস্বীকার করা হয়, সেখানে যেন মুমিনরা বসে না থাকে যতক্ষণ না তারা অন্য আলোচনায় লিপ্ত হয়।

হাদিসের দলিল ও ফিকহী নীতিমালা

  • সাদৃশ্য বর্জনের নীতি: রাসুলুল্লাহ (সা.) অমুসলিমদের বিশেষভাবে উদযাপিত আচার-অনুষ্ঠানের সাথে মিল রাখতে বা তাদের কৃষ্টি অনুকরণ করতে নিষেধ করেছেন। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই দলভুক্ত।
  • ইসলামে অমুসলিমদের ধর্মীয় আচার, প্রতীক ও উৎসবের রীতিনীতি অনুকরণ বা তাতে অংশ নেওয়া থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। নবী করিম (সা.) অমুসলিমদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
  • উৎসবের বিকল্প নির্ধারণ: একবার মদিনার আনসার সাহাবিদের জাহেলি যুগের দুটি উৎসব ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের বলেন, আল্লাহ এর পরিবর্তে তোমাদের দুটি উত্তম দিন দিয়েছেন—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা (আবু দাউদ)। এর মাধ্যমে ইসলাম নিজস্ব স্বতন্ত্র উৎসবের সীমারেখা টেনে দিয়েছে।

পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা: পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমরা পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহায়তা করো না” (সূরা আল-মায়েদা, আয়াত ২)। ধর্মীয় উৎসবে উপস্থিতি এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত বলে আলেমদের অভিমত।

  • ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য: ইসলামের শীর্ষস্থানীয় ফকিহ ও মুহাদ্দিসদের (যেমন শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ ও ইবনুল কাইয়্যিম রহ.) অভিমত অনুযায়ী, অন্য ধর্মের উপাসনা বা ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেওয়া কিংবা তাদের উৎসবের শুভেচ্ছা জানানো তাদের বাতিল বিশ্বাসকে সমর্থন করার নামান্তর, যা শরিয়তে নিষিদ্ধ।
  • ইমাম ইবনুল কাইয়্যেম (রহ.) তার লিখিত ‘আহকামু আহলিয যিম্মাহ’ গ্রন্থে এ বিধানটি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কোনো কুফরি আচার-অনুষ্ঠান উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। যেমন—তাদের উৎসব ও উপবাস পালন উপলক্ষে বলা যে, তোমাদের উৎসব শুভ হোক কিংবা তোমার উৎসব উপভোগ্য হোক কিংবা এ জাতীয় অন্য কোনো কথা। যদি এ শুভেচ্ছা জ্ঞাপন কুফরির পর্যায়ে নাও পৌঁছে, তবে এটি হারামের অন্তর্ভুক্ত। যাদের কাছে ইসলামের যথাযথ মর্যাদা নেই, তাদের অনেকে এ গুনাহে লিপ্ত হয়ে পড়ে; অথচ তারা এ গুনাহের কদর্যতা উপলব্ধি করে না। যে ব্যক্তি কোনো গুনাহের কাজ, বিদআত কিংবা কুফরি কর্মের প্রেক্ষিতে কাউকে অভিনন্দন জানায়, সে নিজেকে আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির সম্মুখীন করে।

পূজা, প্রার্থনা বা অন্য ধর্মের উপাসনায় মানুষকে উৎসাহিত করা, সেই উদ্দেশ্যে প্রচারপত্র প্রকাশ করা কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিজের পক্ষ থেকে সত্য হিসেবে সমর্থন করা—নিষেধমূলক ফতোয়া অনুযায়ী নাজায়েজ। ইসলাম একটি ফতোয়ায় গণমাধ্যমে অন্য ধর্মের উৎসবের প্রচারণাও নিষিদ্ধ বলা হয়েছে। এই মত অনুসারে, বিজ্ঞাপনটি অর্থের বিনিময়ে হোক বা বিনা মূল্যে—মূল বিবেচনা প্রচারের বিষয়বস্তু। এই সিদ্ধান্তের দলিল হিসেবে আলেমরা সূরা আল-মায়িদার ৫:২ আয়াতের নীতি প্রয়োগ করেন: সৎকাজ ও তাকওয়ায় সহযোগিতা করতে হবে; পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করা যাবে না। আয়াতটিতে সরাসরি সংবাদপত্র বা উৎসবের বিজ্ঞাপনের উল্লেখ নেই; এটি আয়াতের নীতির ফিকহি প্রয়োগ।

সামাজিক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক অবস্থান: অনেক সময় রাজনৈতিক বা সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা কিংবা সৌজন্যের খাতিরে নেতারা এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। ইসলাম ভিন্ন ধর্মের মানুষের সাথে ন্যায়বিচার, সুন্দর আচরণ ও সুসম্পর্ক বজায় (সদ্ব্যবহার) করার নির্দেশ দেয়, তবে তা ধর্মীয় উপাসনা বা ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নয়।

সীমা নির্ধারণ: শুভেচ্ছা জানানো বা অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভিন্ন বিষয়, কিন্তু কোনো ধর্মীয় উপাসনা বা আনুষ্ঠানিকতায় সরাসরি অংশগ্রহণ বা ইবাদতের অংশ হওয়া শরিয়তে অনুমোদিত নয়।

এটি ইসলামের শিক্ষা। সূরা আল-মুমতাহিনা ৬০:৮-এর মর্ম হলো: যারা ধর্মের কারণে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং ঘরবাড়ি থেকে বিতাড়িত করেনি, তাদের সঙ্গে সদাচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ নিষেধ করেননি। এই আয়াত সদাচরণের ভিত্তি; অন্য ধর্মের উপাসনায় অংশ নেওয়ার অনুমতি নয়।

ইসলামে অন্য ধর্মের বিশ্বাস, আচার-অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় উৎসবের প্রচার বা সমর্থন করা মৌলিকভাবে নিষিদ্ধ। কারণ ইসলাম একমাত্র সত্য দ্বীন হিসেবে স্বীকৃত, আর অন্য ধর্মের উৎসবগুলো সাধারণত তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস বা পৌত্তলিকতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং আমার নেয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৩)

ইসলামে আচার-আচরণে সদ্ব্যবহার এবং সামাজিক সম্প্রীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, তবে তা ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে মিশে যাওয়ার অনুমতি দেয় না:

  • সামাজিক সদ্ব্যবহার ও প্রতিবেশীর অধিকার: অমুসলিম প্রতিবেশীদের সাথে ভালো ব্যবহার করা, তাদের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো ইসলামে অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ। তাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে (যেগুলো ধর্মীয় আচার বা উপাসনা নয়) সাধারণ সৌজন্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা বৈধ।
  • ধর্মীয় উৎসবের প্রচার ও অংশগ্রহণ: কোনো অমুসলিম ধর্মের বিশেষ উৎসব (যেমন পূজা, ক্রিসমাস ইত্যাদির ধর্মীয় আচার বা উপাসনা) প্রচার করা, তাতে আনন্দ প্রকাশ করা বা সেগুলোর প্রসারে ভূমিকা রাখা শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই দলভুক্ত।” (সুনান আবু দাউদ)

সংক্ষেপে শরীয়তের বিধান হলো, একজন মুসলমান হিসেবে আপনি অমুসলিমদের সাথে ন্যায়বিচার, সদ্ব্যবহার এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখবেন, কিন্তু তাদের ধর্মীয় উৎসবের প্রচার, প্রসার বা তাতে ধর্মীয়ভাবে অংশ নেওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবেন। ইসলাম মুসলিমদের নিজস্ব স্বকীয়তা ও আকীদা রক্ষা করার কঠোর নির্দেশ দেয়।

ইসলামে কুফরি, শির্ক বা অন্য ধর্মের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে সমর্থন করা, সেগুলোর প্রচার-প্রসার করা কিংবা সেগুলোর পক্ষে প্রোপাগান্ডা চালানো নিষিদ্ধ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সৎ ও আল্লাহভীতির কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করতে বললেও পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতা করতে নিষেধ করেছেন (সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ২)।

কোনো ধর্মীয় উৎসবের মূল আচার-অনুষ্ঠান, উপাসনা বা দেব-দেবীর বন্দনা লাইভ সম্প্রচার করা, কিংবা সেগুলোর মাহাত্ম্য প্রচার করে উৎসাহিত করা—যেগুলো সরাসরি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে সম্পৃক্ত, শরীয়তের দৃষ্টিতে অনুমোদিত নয়। কারণ এর মাধ্যমে অন্য ধর্মের ধর্মীয় প্রতীক বা উপাসনার প্রচার ঘটে, যা মুসলমানদের ঈমান ও আকীদার পরিপন্থী।

গণমাধ্যমটি নিজস্ব মালিকানাধীন হলেও একজন মুসলমান হিসেবে তার ওপর ইসলামী শরীয়তের বিধান প্রযোজ্য। নিজের সম্পদ বা মাধ্যম হওয়ার কারণে শরীয়ত যা হারাম বা নিষিদ্ধ করেছে, তা প্রচার করার লাইসেন্স পাওয়া যায় না। মালিকানা নিজের হলেও মাধ্যমটি যদি এমন কিছু প্রচার করে যা ইসলামে নিষিদ্ধ (যেমন: শির্ক বা কুফর প্রচার), তবে সেই প্রচারের গুনাহ মালিকের ওপরও বর্তাতে পারে।তাদের ধর্মীয় উপাসনা, আচার-অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় চেতনাকে মহিমান্বিত করে বা প্রচারের উদ্দেশ্যে কোনো অনুষ্ঠান বা বিজ্ঞাপন নিজের গণমাধ্যমে প্রচার করা নাজায়েয বা নিষিদ্ধ।

তবে সার্বিকভাবে অমুসলিমদের সঙ্গে সদাচরণ ও ন্যায়সংগত আচরণের মূল ভিত্তি রয়েছে সূরা আল-মুমতাহিনার ৬০:৮ আয়াতে। বাংলাদেশে আমরা যে ধর্মীয় সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রেখেছি, তা অনেক ক্ষেত্রেই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দেখা যায় না। ভারতে মুসলমানদের ওপর চরম নির্যাতন, অমানবিক অত্যাচার, এমনকি গরুর মাংস খাওয়ার মিথ্যা অভিযোগে অনেক মুসলমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অথচ, এর বিপরীতে আমরা বাংলাদেশিরা তাদের প্রতি উদার নীতিই অনুসরণ করে চলেছি।

ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের রক্তে গঙ্গা বইয়ে দেওয়া হলেও, এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে একজন হিন্দুর সঙ্গেও অসদাচরণ করা হয়নি; বরং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অথচ বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মুসলমানপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে মুসলমানেরা অমুসলমানদের দ্বারা নিগৃহীত হয়েছেন। অন্যদিকে ভারতে মুসলমানদের সরকারি চাকরি পাওয়া দিবাস্বপ্নের মতো। ভারত সরকার সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও ঘৃণার যে বিষবাষ্প ছড়িয়েছে, তা আজ বিশ্বের প্রধান গণমাধ্যমগুলোর সাক্ষ্যে প্রমাণিত সত্য।

বিগত দিনে নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থনে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের উপাসনালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। এর জবাবে বাংলাদেশের মাদ্রাসার হাফিজ ও মাওলানা আলেমসমাজ তাদের মন্দির পাহারা দিয়েছে।

কিন্তু দুনিয়ার কোনো দেশে কি কেউ দেখাতে পারবে যে, হিন্দুরা মসজিদ পাহারা দিচ্ছে? বরং ভারতে একের পর এক পুরোনো মসজিদ কোনো কারণ ছাড়াই গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভারত সরকারের মতো ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আচরণ দুনিয়ার আর কোনো সরকার মুসলমানদের প্রতি দেখিয়েছে কি না, তা আমাদের জানা নেই। অথচ আজ এটি প্রমাণিত সত্য যে, ভারতের একটি বিরাট সংখ্যক নাগরিক বাংলাদেশে কাজ করে এবং এখান থেকে বিশাল অঙ্কের অর্থ উপার্জন করে নিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশে আমরা হিন্দুদের ভাই বলে সম্বোধন করি, একসঙ্গে পড়াশোনা করি এবং ঈদের সময় তারা আমাদের বাড়ি বেড়াতে আসে। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রেখে আমরা যে ইসলামিক মূল্যবোধে বড় হয়েছি, তা শিখতে ভারত সরকারের হয়তো আরও একশ বছর লাগবে।

পরিপূর্ণ ইসলামী জ্ঞান না থাকায় অনেকেই অনেক গর্হিত বিষয়কে ভালো মনে করে করে ফেলেন, যা আসলে ইসলামবিরুদ্ধ ও পাপ। এ জন্যই সঠিকভাবে ইসলামকে জানতে ইলম অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ করা হয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *