এনসিপি অস্ট্রেলিয়ার নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা: ২১ সদস্যের নির্বাহী পরিষদ গঠন

সুপ্রভাত সিডনি রিপোর্ট: শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় সিডনির বাংলাদেশি অধ্যুষিত লাকেম্বার একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অস্ট্রেলিয়ার নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আশিক ইকবালকে সভাপতি, ড. শাফি মাহমুদকে সচিব এবং আবু জাহেদকে প্রধান সংগঠক করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট নতুন নির্বাহী পরিষদ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সৈয়দ ইমামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থানরত সাংগঠনিক প্রতিনিধিরা অনলাইনে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের মুখপাত্র সৈয়দ মামুন নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ঘোষণা করে বলেন, প্রায় ১০ মাসব্যাপী সাংগঠনিক আলোচনা ও প্রক্রিয়া শেষে কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এবং সদস্য ফি পরিশোধকারী অধিকাংশ সক্রিয় সদস্যের মতামত ও প্রত্যাশার ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ায় এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নতুন উদ্যমে পুনরায় সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতা এবং অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে সংগঠনকে আরও অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে গড়ে তোলাই নতুন নেতৃত্বের অন্যতম লক্ষ্য।

এ উদ্দেশ্যে নবগঠিত নির্বাহী পরিষদ প্রাথমিকভাবে আগামী ছয় মাস দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, পেশাদার ও ফলপ্রসূ করতে চারটি কার্যকরী সেল গঠন করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোর বিশেষত্ব তুলে ধরে সৈয়দ মামুন বলেন, নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ সদস্যরাও তাঁদের নিজ নিজ অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও দায়িত্বের ভিত্তিতে সংগঠনের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

নতুন নেতৃত্বের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নবনির্বাচিত সভাপতি আশিক ইকবাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আজ আমরা একটি নতুন সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে যাত্রা শুরু করছি। সামনে আমাদের অনেক কাজ ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জের চেয়েও বড় হচ্ছে আমাদের সম্ভাবনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশ গঠন, জাতীয় চেতনা ও দায়িত্ববোধের যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়া আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।’

আশিক ইকবাল বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে এনসিপি অস্ট্রেলিয়াকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক, কমিউনিটি-কেন্দ্রিক এবং সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যনির্ভর কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা।’

অতিথি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর ও সাবেক ডেপুটি মেয়র ইব্রাহিম খলিল মাসুদ, যিনি আগামী নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্য নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া কাউন্সিলর আশিকুরসহ স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিনিধিদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন—

  • নাবিলা তাসনিদ (ইঞ্জিনিয়ার) : এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক।
  • ফয়সাল মাহমুদ শান্ত: এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক।
  • দিলশানা পারুল: এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক।

বক্তারা প্রবাসে অবস্থান করেও মাতৃভূমির প্রতি দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থ সংরক্ষণ, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মূলধারার সমাজে প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় রাজনীতি ও নাগরিক কার্যক্রমে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তাঁরা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে সাংগঠনিক নেতৃত্ব ঘোষণা

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্য ও টেরিটরিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সংগঠক বা স্টেট লিডদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার সাংগঠনিক পরিকল্পনা, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

ঘোষিত স্টেট লিডরা হলেন—

  • নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW): আবুল হোসেন জিয়া (ইঞ্জিনিয়া
  • ভিক্টোরিয়া (VIC): মাজহারুল ইসলাম সজল।
  • ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া (WA): আবরার রিহন প্রত্যয়।
  • অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি (ACT): আসিফ নূর।
  • সাউথ অস্ট্রেলিয়া (SA): ড. সাফেইন মৃদুল।
  • নর্দার্ন টেরিটরি (NT): নূর এ আলম।

নতুন নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাংগঠনিক সমন্বয় বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি আশিক ইকবাল উপস্থিত অতিথি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, কমিউনিটি প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সংগঠনের সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐক্য, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সবশেষে নতুন নেতৃত্বের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *