অস্ট্রেলিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী তৎপরতার নেপথ্যে ‘মাস্টারমাইন্ড’

সুপ্রভাত সিডনি অনুসন্ধানি রিপোর্ট: বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হলেও, ভিন্ন পথে ও ভিন্ন পাসপোর্টে অস্ট্রেলিয়ায় আস্তানা গেড়েছে দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুয়া নাম পরিচয় ব্যবহার করে ভারত হয়ে এবং অনেকে আবার আগে থেকেই নবায়নকৃত তিন বছরের ভিসার সুযোগ নিয়ে তারা অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করেছে। অনেক নেতা আগেভাগেই তাদের পরিবারকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়ে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করেছিলেন।

আওয়ামীলীগের বিগত শাসনামলে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, গুম, খুন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘ধর্ষণের উৎসবের’ মতো জঘন্য অপরাধের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ততার দায়ে বাংলাদেশ সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। পতনের পর অনেক দুর্নীতিবাজ নেতা সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বিএসএফ-এর হাতে ধরা পড়েছে কিংবা প্রাণ হারিয়েছে। তবে একটি বড় অংশ বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ নিয়ে ভারত হয়ে নাম পরিবর্তন করে আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছে। নাম পরিবর্তনের মারপ্যাঁচে এসব চিহ্নিত অপরাধীদের রেকর্ড খুঁজে পাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযোগ উঠেছে, বিদেশের দূতাবাস ও কনসুলেটগুলোই এখন এই সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য:

কথায় বলে, ‘টাকা থাকলে বাঘের চোখও মেলে’। ক্যানবেরা দূতাবাস ও সিডনি কনসুলেটের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এর জীবন্ত প্রমাণ। কনসুলেটের যেকোনো অনুষ্ঠানে এখন নিষিদ্ধ আওয়ামী নেতাকর্মীদের দাপুটে উপস্থিতি সাধারণ প্রবাসীদের বিস্মিত করছে।

গত ২৬শে মার্চ সিডনি কনসুলেটে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি ছিল আওয়ামী তোষণের এক নির্লজ্জ মহড়া। কনসাল জেনারেল শেলী সালেহিনের উপস্থিতিতে কনসুলেটে ঘাপটি মেরে থাকা আওয়ামী এজেন্টরা সেদিন প্রকাশ্যেই নিষিদ্ধ দলের হয়ে কাজ করেছে। অভিযোগ রয়েছে, একজন স্থানীয় লেবার নেতাকে দিয়ে সুকৌশলে শেখ মুজিবুর রহমানের বন্দনা করানো হলেও, মহান স্বাধীনতার শহীদ কিংবা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা জানানো হয়নি। উল্টো জাতীয় দিবসের সেই রাষ্ট্রীয় মঞ্চ ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের একটি অংশের বিতর্কিত ‘মেলা’র ঘোষণা দেওয়া হয়।

তীব্র প্রতিবাদ ও উত্তেজনা:

অনুষ্ঠানের এই পক্ষপাতমূলক রূপ দেখে উপস্থিত অনেকেই ক্ষোভ ফেটে পড়েন। অস্ট্রেলিয়া বিএনপির অন্যতম নেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এএনএম মাসুম তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং কনসুলেটের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন। তবে এসময় বিএনপি নামধারী এক ব্যক্তি (যিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত) কনসুলেটকে জবাবদিহিতা করতে নিষেধ করেন, যা উপস্থিত সকলের নিকট ধিক্কারজনক মনে হয়েছে।

বিএনপি নেতা মাসুমের এই সাহসী প্রতিবাদের প্রশংসা করেছে অস্ট্রেলিয়া বিএনপি এবং দলটির পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপিও প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার ভয়াবহতা নিয়ে সুপ্রভাত সিডনির পক্ষ থেকে কনসাল জেনারেল সালেহীনকে লিখিত প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

উপসংহার:

অভিযোগে প্রকাশ, ক্যানবেরা দূতাবাস ও সিডনি কনসুলেটের শীর্ষ দুই কর্মকর্তা অস্ট্রেলিয়ায় নিষিদ্ধ আওয়ামী নেতাকর্মীদের নিরাপদ আবাসন ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার মূল কারিগর বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে কাজ করছেন। রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে পলাতক সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের এই প্রক্রিয়া এখন সিডনিসহ বিভিন্ন জায়গায়  সচেতন প্রবাসী মহলে টক অফ দ্য টাউন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *