আয়নাঘরের বিভীষিকা মুক্ত স্বদেশ: বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থান

আব্দুল্লাহ ইউসুফ শামীম -প্রতিষ্ঠাতা ,বিএনপি অস্ট্রেলিয়া: একটি স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো তার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা। বাংলাদেশের অর্ধশতাব্দীর রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে শাসনামল এবং তার পূর্বাপর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক ধারা : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র শাসনশৈলী ও রাজনৈতিক দর্শনের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ও যোজন যোজন ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়। একদিকে আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদি শাসনকাল চিহ্নিত হয়েছে চরম স্বৈরাচারী মনোভাব, গুম, খুন ও লুণ্ঠনের অধ্যায় হিসেবে, যা ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মুখে তাদের নিষিদ্ধ ও বিতাড়িত হওয়ার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে। অন্যদিকে, বিএনপি তার রাজনৈতিক যাত্রায় বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষার পতাকাবাহী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। এই দুই বৈপরীত্যের চুলচেরা বিশ্লেষণই বর্তমান প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য।

১. আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী উত্থান ও ফ্যাসিবাদের রূপরেখা

২০০৯ সালে ক্ষমতারোহণের পর থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্রমান্বয়ে চরম স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। গণতন্ত্রের লেবাস পরে তারা রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গকে দলীয়করণ করে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের “নিশুতি রাতের ভোট” এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে তারা জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়।

একটি রাজনৈতিক দল যখন জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চায়, তখন তার একমাত্র হাতিয়ার হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। আওয়ামী লীগ ঠিক এই পথটিই বেছে নিয়েছিল। বিরোধী কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করতে এবং জনগণের মধ্যে একটি স্থায়ী ভীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খা বাহিনীকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীর মতো ব্যবহার শুরু করে। এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল গুম, খুন এবং সর্বগ্রাসী সামাজিক ও রাজনৈতিক নৈতিকতার অবক্ষয়।

২. গুমের রাজনীতি: আয়নাঘর ও চিরতরে হারিয়ে যাওয়া মানুষ

আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী আমলের সবচেয়ে কালো এবং নৃশংস অধ্যায় হলো “গুম” বা বলপ্রয়োগপূর্বক নিখোঁজ করার সংস্কৃতি। রাষ্ট্রীয় কোনো সংস্থা বা সাদা পোশাকের ডিবি-র‍্যাব পরিচয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক ও ভিন্ন মতালম্বীদের তুলে নিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে তাদের আর কোনো সন্ধান না দেওয়া ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।

আয়নাঘরের বিভীষিকা

আওয়ামী শাসনের অবসান ঘটার পর বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হয় এক ভয়ঙ্কর সত্য “আয়নাঘর”। এটি ছিল সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য বিশেষ বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত গোপন বন্দিশালা। যেখানে বছরের পর বছর ধরে বন্দিদের আলো-বাতাসহীন প্রকোষ্ঠে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হতো।

  • ভিকটিমদের প্রোফাইল: বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আজমী, ব্যারিস্টার আরমান সহ শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে গুম করা হয়েছিল।
  • মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয়: একটি পরিবারে যখন কেউ গুম হয়, তখন সেই পরিবারের অবস্থা মৃত ব্যক্তির পরিবারের চেয়েও শোচনীয় হয়। কারণ তারা জানে না তাদের প্রিয়জন বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং মানসিক নির্যাতন ছিল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের প্রধান অস্ত্র।

৩. খুনের উৎসব ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড

আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে “ক্রসফায়ার” বা “বন্দুকযুদ্ধ”-এর নামে হাজার হাজার মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে আইনের রক্ষকদেই ভক্ষক বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও দমনপীড়ন

বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর হাজার হাজার নেতাকর্মীকে রাজপথে আন্দোলনের সময় সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের সমাবেশ থেকে শুরু করে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পেটুয়া বাহিনী ও পুলিশ পাখির মতো গুলি করে হাজারো শিশুকে, ছাত্রকে এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। লগি-বৈঠার তাণ্ডব থেকে শুরু করে হেলিকপ্টার থেকে স্নাইপার দিয়ে গুলি করার মতো নজিরবিহীন নৃশংসতা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। পিলখানায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে নির্বিচারে হত্যা, গুলশানের হলি আর্টিজানে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং তথাকথিত ‘জঙ্গি দমন’ নাটকের আড়ালে অসংখ্য মানুষকে গোপনে ও প্রকাশ্যে খুন করেছে ভারতের মদদপুষ্ট, পতিত ও ঘৃণ্য দল আওয়ামী লীগ।

৪. ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও নৈতিক অবক্ষয়

একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন সমাজের নৈতিক ভিত্তি ধসে পড়ে। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন “ছাত্রলীগ” এবং যুব সংগঠন “যুবলীগ” দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে একচ্ছত্র সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

ছাত্রলীগের কলঙ্কিত ইতিহাস

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলগুলোকে তারা টর্চার সেলে পরিণত করেছিল, যার অন্যতম উদাহরণ বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড। এর পাশাপাশি ধর্ষণকে তারা রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেঞ্চুরি মানিকের ধর্ষণের উৎসবের ইতিহাস ধরে রেখে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও সিলেট এমসি কলেজ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ বা টিএসসিতে নববর্ষের উৎসবে নারীর শ্লীলতাহানির পেছনে সরাসরি আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে।
  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দলীয়করণের ফলে ভুক্তভোগী নারীরা থানায় গিয়ে বিচার পাননি, উল্টো তাদেরই হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

৫. বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন: বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি

আওয়ামী লীগের এই অন্ধকার ও ধ্বংসাত্মক অধ্যায়ের বিপরীতে যখন আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকাই, তখন একটি ভিন্ন ও ইতিবাচক রূপরেখা দৃশ্যমান হয়। ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারি আওয়ামী লীগ বাকশাল গঠনের মাধ্যমে দেশের সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় স্বৈরশাসন কায়েম করেছিল। সেই অন্ধকার থেকে দেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আলো এনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ

জিয়াউর রহমান শুধু রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেননি, তিনি আওয়ামী লীগসহ দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে আবার রাজনীতি করার এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তাঁর হাত ধরেই। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম ঘটে। বিএনপি সবসময় বিশ্বাস করেছে যে, ক্ষমতার উৎস দেশের জনগণ, কোনো নির্দিষ্ট পরিবার বা গোষ্ঠী নয়।

৬. আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং বিএনপি

বিএনপির শাসন আমলগুলোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষা এবং আইনের শাসন বজায় রাখা।

  • বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: বিএনপি কখনো বিচার বিভাগকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের পকেট সংস্থায় পরিণত করেনি। উচ্চ আদালত থেকে শুরু করে নিম্ন আদালত পর্যন্ত আইনের স্বাভাবিক গতি বজায় ছিল।
  • রাজনৈতিক সহনশীলতা: বিএনপির আমলে বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ রাজপথে তীব্র আন্দোলন, দিনের পর দিন হরতাল ও অবরোধ করার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি সরকার বর্তমান নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মতো নির্বিচারে গুম, গোপন বন্দিশালা বা সাধারণ মানুষের ওপর গানপাউডার দিয়ে বাস পুড়িয়ে মানুষ মারার রাজনীতিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে আশ্রয় দেয়নি।

৭. তুলনামূলক বিশ্লেষণ: আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি

নিচের সারণীটি লক্ষ্য করলে দুই দলের শাসনশৈলী ও দর্শনের মৌলিক পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে:

সূচক / বিষয় নিষিদ্ধ স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ (২০০৯-২০২৪) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
রাজনৈতিক ব্যবস্থা একদলীয় ফ্যাসিবাদের লেবাস, ডামি নির্বাচন, বিরোধী দল দমন। বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংসদীয় ব্যবস্থার প্রবর্তন ও ভোটাধিকার রক্ষা।
মানবাধিকার পরিস্থিতি আয়নাঘর, গণ-গুম, হাজার হাজার ক্রসফায়ার ও বিচারবহির্ভূত হত্যা। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা।
বাক-স্বাধীনতা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (DSA), সাইবার নিরাপত্তা আইন, গণমাধ্যম সেন্সরশিপ। মুক্ত গণমাধ্যম, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্তচিন্তার বিকাশ।
নৈতিকতা ও সামাজিক নিরাপত্তা দলীয় ক্যাডারদের দ্বারা ধর্ষণ, জমি দখল ও টর্চার সেলের সংস্কৃতি। সামাজিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি, লক্ষ কোটি টাকা পাচার ও ব্যাংক লুট। মুক্তবাজার অর্থনীতি, উৎপাদনমুখী রাজনীতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

৮. ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগের পতন

অত্যাচারের ঘড়া যখন পূর্ণ হয়, তখন পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে যখন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা নস্যাৎ করতে চেয়েছিল অহংকার, বুলেট আর রক্ত দিয়ে, তখনই দেশের আপামর জনতা রাজপথে নেমে আসে।

আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শেষ দিন পর্যন্ত গুম, খুন এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে গণহত্যা চালিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শত শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মুখে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে তাদের এই মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং দেশের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে তারা জনমনে এবং আইনগতভাবে “নিষিদ্ধ স্বৈরাচারী” হিসেবে চিহ্নিত হয়।আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সীমাহীন লুটপাটের কারণে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি ব্যাংক আজ অর্থশূন্য, যার মধ্যে সিংহভাগ ব্যাংকের টাকাই লুটে নেওয়া হয়েছে। এই বিপুল অর্থ পাচার করে দুর্নীতিবাজ চক্রটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে তীব্র ক্ষোভ ও অপদস্তের শিকার হচ্ছে। তবে দেশের ভেতরের মতো প্রবাসেও কিছু সুবিধাবাদী, তথাকথিত বিএনপি নামধারী নেতা-কর্মী নিজেদের আর্থিক মুনাফার স্বার্থে এই পলাতক অপরাধীদের নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

৯. ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও বিএনপির ভূমিকা

স্বৈরাচারের পতনের পর আজ বাংলাদেশ এক নতুন দিগন্তে দাঁড়িয়েছে। এই ক্রান্তিলগ্নে দেশ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বিএনপির দায়িত্ব অপরিসীম। বিএনপি ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, তারা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক এবং মানবিক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • রাষ্ট্র সংস্কার: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর যে ক্ষতি আওয়ামী লীগ করে গেছে, তা মেরামত করে একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক কাঠামো দাঁড় করানোই এখন প্রধান লক্ষ্য।
  • ভোটাধিকার ও জবাবদিহিতা: একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের ভোটের মূল্য থাকবে এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
  • প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান: আওয়ামী লীগ যে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছিল, বিএনপি তার বিপরীতে গিয়ে আইনের শাসন ও ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের কথা বলছে, যেখানে আর কখনো কোনো “আয়নাঘর” তৈরি হবে না।

উপসংহার

ইতিহাস নিষ্ঠুর কিন্তু সত্যবাদী। ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে, বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দিয়ে সাময়িকভাবে ক্ষমতা দখল করে রাখা গেলেও, জনগণের হৃদয় জয় করা যায় না। নিষিদ্ধ স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের গুম, খুন, ধর্ষণ এবং লুণ্ঠনের রাজনীতি বাংলাদেশকে এক অন্ধকার গহ্বরে ঠেলে দিয়েছিল, যার ক্ষত শুকাতে দেশের দীর্ঘ সময় লাগবে।

এর বিপরীতে, বিএনপির বহুদলীয় গণতন্ত্রের নীতি, উদার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই পারে এই ক্ষত নিরাময় করতে। একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণতন্ত্রের বিকল্প নেই, আর সেই গণতন্ত্রের যাত্রাপথে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে সঠিক নেতৃত্ব প্রদান করাই হোক আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ আগামীর পথে এগিয়ে যাবে। বর্তমানে দেশের ভেতরে ও বাইরে আসমানসমান ষড়যন্ত্র চলছে। দেশবিরোধী এই অপশক্তিকে রুখে দিতে জনগণকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে এবং সম্মিলিতভাবে সকল সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। ভারতীয় অপশক্তির ফণা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *