আয়াজ আহমদ বাঙালি- আসাম, ভারত: ধর্মের পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি চিরন্তন সত্য। একবিংশ শতাব্দীর গবেষণালব্ধ তথ্যানুযায়ী,শতকরা বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে ইসলাম আজ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান ধর্ম। সূরা নাসরে আল্লাহ ভবিষ্যদ্বাণী করেন, “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে। আর তুমি লোকদেরকে দলে দলে আল্লাহর দীনে দাখিল হতে দেখবে।(আন-নাসর; ১ এবং ২) বর্তমান সময়ের পরিসংখ্যানের আলোকে আল্লাহ প্রদত্ত উপরোক্ত ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতিফলন কতটা স্পষ্ট, সেই প্রশ্নের অনুসন্ধানই এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য।
গত শতাব্দীতে কী ঘটেছিল
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বিশ্বের মুসলিম জনসংখ্যার যে চিত্র ছিল, তা আজকের তুলনায় ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ। ১৯০০ সালে মুসলিমের সংখ্যা ছিল মাত্র ২০ কোটি, যা তৎকালীন বিশ্ব জনসংখ্যার মাত্র ১২ শতাংশ। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির উত্থানের সময়ে মুসলিম বিশ্ব ক্রমান্বয়ে ব্রিটিশ, ফরাসি ও অন্যান্য ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনস্থ হয়ে পড়ে। খিলাফত ভেঙে পড়েছিল, মুসলিম উম্মাহ ছিল রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন এবং দুর্বল। তা সত্ত্বেও কোনও ঔপনিবেশিক শক্তিই ধর্মীয় বিশ্বাসের গভীর প্রভাবকে নিঃশেষ করতে সক্ষম হয়নি। বিশেষত আফ্রিকা এবং এশিয়ায় ইসলাম নিরবচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পশ্চিম আফ্রিকায় মুসলিম বণিক ও সুফি শিক্ষকরা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম প্রচার করতে থাকেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়–ইন্দোনেশিয়া থেকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত ইসলামের শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ১৯৪৫ সালের পর যখন একের পর এক মুসলিম রাষ্ট্র স্বাধীনতা পায়, তখন ইসলামি পরিচয় ও সংস্কৃতি নতুন প্রাণ ফিরে পায়।
আমেরিকায় বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে ইসলামের এক বিশেষ ধারা বিকশিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আমেরিকায় ইসলামে ধর্মান্তরের সংখ্যা ১৯৫০ থেকে ১৯৭০-এর দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, যার মূল চালিকাশক্তি ছিলেন আফ্রিকান-আমেরিকানরা। বিশেষত ওয়ারিথ দ্বীন মোহাম্মদের নেতৃত্বে বহু নেশন অব ইসলামের সদস্য মূলধারার সুন্নি ইসলামে প্রবেশ করেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম সমাজে পরিবর্তনের অন্যতম পথিকৃৎ ওয়ারিথ দ্বীন মোহাম্মদ (১৯৩৩–২০০৮), যিনি নেশন অব ইসলামের আদর্শিক রূপান্তরের জন্য সুপরিচিত।
ইউরোপে বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে মুসলিম অভিবাসীদের আগমন শুরু হয় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে। ইউরোপে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে মাত্র নয় বছরে ইসলামিক জনগোষ্ঠী শতকরা একশত ভাগেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছায়। এটি ছিল একটি সামাজিক রূপান্তরের সংকেত, যা পরবর্তী দশকগুলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
একবিংশ শতাব্দীতে বৈশ্বিক চিত্র
আজকের পরিসংখ্যান আরও স্পষ্ট ও আশাজাগানিয়া। ১৯০০ সালে ১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ২০০ কোটিরও বেশি মানুষ মুসলিম হয়েছেন। এক শতাব্দীতে এই পরিমাণ বৃদ্ধি ইতিহাসে বিরল।
বিশ্বের জনসংখ্যা ২০১৫ থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে ৩২ শতাংশ বাড়বে বলে প্রজেক্ট করা হয়েছে, সেখানে মুসলিম জনসংখ্যা বাড়বে ৭০ শতাংশ; সংখ্যায়–১৮০ কোটি থেকে প্রায় ৩০০ কোটিতে। এই পার্থক্যই প্রমাণ করে, ইসলামের অগ্রযাত্রা কতটা দ্রুত।
পিউ রিসার্চ সেন্টার (আমেরিকার বিশ্বস্ততম গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি) সম্প্রতি এক (২০২৫ সালের জুনে) গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। ২০১০ সালে মুসলিমরা ছিল বিশ্বের ২৩.৯ শতাংশ এবং খ্রিস্টান ৩০.৬ শতাংশ। ২০২০ সালে মুসলিমরা বেড়ে হয়েছে ২৫.৬ শতাংশ এবং খ্রিস্টান নেমে এসেছে ২৮.৮ শতাংশে। অর্থাৎ, মাত্র এক দশকের মধ্যেই দুই ধর্মের অনুসারীদের সংখ্যাগত ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। খ্রিস্টধর্ম ওই দশকে ১২ কোটি ২০ লাখ সদস্য বৃদ্ধি পেলেও বিশ্বের মোট জনসংখ্যায় তাদের অংশ কমে গেছে। এখনও খ্রিস্টধর্ম ২৩০ কোটি অনুসারী নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ধর্ম। তবে মুসলিম বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। উল্লেখ্য, পিউ রিসার্চ সেন্টার হলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি নিরপেক্ষ তথ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা। এটি জনমত ও সামাজিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে এবং পিউ চ্যারিটেবল ট্রাস্টস দ্বারা অর্থায়িত।
ইসলামের বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ
ইসলাম বৃদ্ধির পেছনে বাস্তব জনতাত্ত্বিক কারণ কাজ করছে। গবেষকরা মূলত তিনটি বিষয়কে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
প্রথমত, জনমিতিক শক্তি। জনমিতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলিমদের জনসংখ্যা বাড়ার মূল কারণ হলো উচ্চ জন্মহার ও কম গড় বয়স। ২০১৫-২০২০ সালের তথ্যানুযায়ী, একজন মুসলিম নারী গড়ে ২.৯ সন্তান জন্ম দেন, যেখানে অমুসলিম নারীর গড় ২.২। ২০২০ সালে বৈশ্বিকভাবে মুসলিমদের মধ্যক বয়স (মধ্যক বয়স মানে হলো এমন একটি বয়স যার নিচে অর্ধেক জনসংখ্যা এবং উপরে বাকি অর্ধেক জনসংখ্যা থাকে) ছিল অমুসলিমদের চেয়ে নয় বছর কম বা ২৪ বনাম ৩৩। উল্লেখ্য, জনমিতিক শক্তি হলো সেই পরিস্থিতি, যেখানে একটি দেশের ১৫-৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা শিশু ও বৃদ্ধদের তুলনায় প্রাধান্য পায়।
দ্বিতীয়ত, তরুণ জনগোষ্ঠী। মুসলিমদের বৈশ্বিক প্রজনন হার গড়ে ৩.১, যা প্রতিস্থাপন স্তর ২.১-র অনেক উপরে। এই তরুণ জনগোষ্ঠী আগামী দশকগুলোতে আরও বড় সংখ্যা তৈরি করবে।
তৃতীয়ত, ধর্মান্তর। যদিও ধর্মান্তরের মাধ্যমে বৃদ্ধি মোট বৃদ্ধির তুলনায় সীমিত, গবেষকরা বলছেন, মুসলিম জনসংখ্যার পরিবর্তনে ধর্মীয় রূপান্তরের ভূমিকা খুবই কম। উল্লেখ্য, তথ্য বলছে, ধর্ম পরিবর্তন একটি ব্যক্তিগত বিষয় এবং জনসংখ্যাগত হিসেবে এর প্রভাব নগণ্য; প্রকৃতপক্ষে জন্মহার বেশি হওয়া এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর উপস্থিতিই বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
আমেরিকায় ইসলাম
আমেরিকার মুসলিম সম্প্রদায়ের বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ইসলাম আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম, খ্রিস্টান এবং ইহুদি ধর্মের পরেই। ২০২০ সালের মার্কিন ধর্মীয় জনগণনা অনুযায়ী আমেরিকায় প্রায় ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার মুসলিম বাস করছেন বা মোট জনসংখ্যার ১.৩৪ শতাংশ।
প্রজেকশন বলছে, ২০৪০ সালের মধ্যে মুসলিমরা আমেরিকায় দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠী হবেন, খ্রিস্টানদের পরেই। আর ২০৫০ সালে আমেরিকান মুসলিম জনগোষ্ঠী ৮১ লাখে পৌঁছাবে বলে পিউ রিসার্চ ধারণা করছে। উল্লেখ্য, জনসংখ্যা অভিক্ষেপ বা প্রজেকশন বলতে বর্তমান ও অতীতের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে জনসংখ্যা কত হতে পারে তার বৈজ্ঞানিক অনুমানকে বোঝায়; অর্থাৎ বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কী ঘটতে পারে তার হিসাব।
আমেরিকার মুসলিম সমাজ নানা উৎস ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গঠিত এক বৈচিত্র্যপূর্ণ সম্প্রদায়। আমেরিকান মুসলিমরা বিভিন্ন পটভূমি থেকে এসেছেন। ২০০৯ সালের একটি গ্যালাপ জরিপ অনুযায়ী মুসলিমরা আমেরিকার জাতিগতভাবে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর একটি। উল্লেখ্য, গ্যালাপ (Gallup) পরিচালিত গ্যালাপ জরিপ ১৯৩৫ সালে জর্জ গ্যালাপের উদ্যোগে শুরু হয়; এটি বৈজ্ঞানিকভাবে নির্বাচিত একটি নমুনা— জনগোষ্ঠীর মতামত বিশ্লেষণ করে বৃহত্তর জনমতের ধারণা দেয়। আমেরিকার মুসলিম সম্প্রদায়ের এক-তৃতীয়াংশ কৃষ্ণাঙ্গ, এক-তৃতীয়াংশ দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত, এক-চতুর্থাংশ আরব বংশোদ্ভূত এবং বাকিরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন। তন্মধ্যে মধ্যে রয়েছে ক্রমবর্ধমান লাতিনো মুসলিম জনগোষ্ঠীও।
শিক্ষাগত দিক থেকেও আমেরিকান মুসলিমরা বেশ এগিয়ে। ২০২৪ সালের তথ্যে দেখা গেছে, আমেরিকার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী, যেখানে খ্রিস্টানদের মধ্যে এই হার মাত্র ১৪ শতাংশ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্য মুসলিম জনসংখ্যার এক উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ইলিনয়ে মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি আসছে ধর্মান্তরের মাধ্যমে, তবে এই নতুন মুসলিমদের মধ্যে ইলিনয়ে ৪১ শতাংশ এবং নিউ ইয়র্কে ৬১ শতাংশ কয়েক বছরের মধ্যে ইসলাম ছেড়ে দেন।
বিবিধ প্রসঙ্গ: আমেরিকায় ইসলাম
আমেরিকার ইসলাম ও মুসলমানদের ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরনো এবং বর্তমানে ইসলাম দেশটির দ্রুত বর্ধনশীল ধর্মগুলোর একটি। শুরুতে ধারণা করা হয়, আফ্রিকা থেকে দাস হিসেবে আনা মানুষের প্রায় ১০%-৩০% মুসলিম ছিলেন। ওমান ইবনে সাইদ এবং আইয়ুব সুলেমান ডায়ালোর মতো ব্যক্তিদের জীবনী ও ডায়েরিতে সেই সময়ের মুসলিম উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। আমেরিকার প্রাথমিক যুগে গড়ে ওঠা মসজিদগুলোর মধ্যে উত্তর ডাকোটার রসমস মসজিদ (১৯২৯) এবং আইওয়ার সিডার র্যাপিডসের মাদার মসজিদ (১৯৩৪) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীতে ২০শ শতাব্দীতে নেশন অফ ইসলাম আন্দোলনের মাধ্যমে আফ্রিকান-আমেরিকানদের মধ্যে ইসলাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ম্যালকম এক্স এবং মুহাম্মদ আলীর মতো ব্যক্তিত্ব ইসলামকে বৈশ্বিক পর্যায়ে পরিচিত করেন।
বর্তমান সময়ে আমেরিকায় মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৩৮.৫ লক্ষ বা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১.১ শতাংশ। ভবিষ্যৎ প্রক্ষেপণে বলা হয়, ২০৪০ সালের মধ্যে ইসলাম দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মে পরিণত হতে পারে। এই মুসলিম জনগোষ্ঠী অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়—প্রায় ৪১ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ (আরব ও ইরানি সহ), ২৮ শতাংশ এশীয়, ২০ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৮ শতাংশ হিস্পানিক। মুসলিমদের সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি দেখা যায় মিশিগান, নিউ ইয়র্ক, ইলিনয় (বিশেষ করে শিকাগো) এবং ক্যালিফোর্নিয়ায়। মিশিগানের ডিয়ারবর্ন শহরকে অনেকে আমেরিকার মুসলিম কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে মুসলিমদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসে ইলহান ওমর, রাশিদা তলাইব এবং আন্দ্রে কারসনের মতো মুসলিম প্রতিনিধি রয়েছেন। বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ভোটাররা এখন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক দিক থেকেও মুসলিমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন; গড় আয় জাতীয় গড়ের সমান বা ক্ষেত্রবিশেষে বেশি। চিকিৎসা, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ব্যবসা ক্ষেত্রেও মুসলিমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মুসলিমদের ক্রয়ক্ষমতা বছরে ১৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হিসেবে ধরা হয়। নিউ ইয়র্ক এবং মিশিগানসহ বিভিন্ন রাজ্যে বহু মুসলিম ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ার কর্মরত।
ধর্মীয় স্বাধীনতার ক্ষেত্রে আমেরিকার সংবিধান মুসলিমদের পূর্ণ অধিকার দিয়েছে এবং দেশে ৩,০০০-রও বেশি মসজিদ রয়েছে। তবে ৯/১১ পরবর্তী সময়ে ইসলামোফোবিয়া একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। কিছু শহরে আজান মাইকে দেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়েছে—এটি ধর্মীয় স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
আমেরিকার মুসলিম সমাজে অভিবাসী ও স্থানীয়ভাবে জন্ম নেওয়া মুসলিমদের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও আজ এক নতুন “আমেরিকান মুসলিম পরিচয়” তৈরি হয়েছে। আমেরিকায় আন্তঃনৃগোষ্ঠী বিবাহ সাধারণ বিষয়। তাই আরব, আফ্রিকান-আমেরিকান এবং দক্ষিণ এশীয় মুসলিমদের মধ্যে সাংস্কৃতিক মিশ্রণ ঘটছে। এই মিশ্রণ একটি স্বতন্ত্র আমেরিকান মুসলিম সংস্কৃতি গড়ে তুলছে।
শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে মুসলিমদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলিতে জাইতুনা কলেজ আমেরিকার প্রথম স্বীকৃত ইসলামি লিবারেল আর্টস কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসলামিক সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা এবং ইসলামিক সার্কেল অফ নর্থ আমেরিকার মতো সংগঠনগুলো বড় বড় শিক্ষামূলক ও সামাজিক সম্মেলন আয়োজন করে থাকে। অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মুসলিম সমাজ নিয়ে নীতি-নির্ধারণমূলক গবেষণা করছে।
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে মুসলিমদের প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হিপ-হপ ও র্যাপ সঙ্গীতে মুসলিম শিল্পীদের উপস্থিতি লক্ষণীয়, যেমন মোস ডেফ এবং লুপে ফিয়াসকো। মার্ভেল সিনেমার “মিস মার্ভেল” চরিত্র মুসলিম সুপারহিরো হিসেবে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মুসলিম তরুণরা ইউটিউব ও টিকটকের মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
কারাগার ব্যবস্থায়ও ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যেখানে অনেক বন্দি ইসলাম গ্রহণের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ও মানসিক পরিবর্তন অর্জন করছে। গবেষণায় দেখা যায়, ইসলাম গ্রহণকারী বন্দিদের পুনরায় অপরাধে জড়ানোর হার তুলনামূলকভাবে কম।
অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি খাতে মুসলিমদের প্রভাব সিলিকন ভ্যালি পর্যন্ত বিস্তৃত। গুগল, মাইক্রোসফট এবং অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বহু মুসলিম পেশাজীবী কাজ করছেন। ইসলামি ফিনটেক স্টার্টআপ যেমন ওয়াহেদ ইনভেস্ট এবং গাইডেন্স রেসিডেনশিয়াল সুদমুক্ত অর্থনীতির ধারণা জনপ্রিয় করছে।
মুসলিমদের দানশীলতা আমেরিকায় অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের। গবেষণায় এসেছে, মুসলিমরা গড়ে অন্য যেকোনও ধর্মীয় গোষ্ঠীর তুলনায় বেশি দান করেন। ইসলামিক রিলিফ ইউএসএর মতো সংস্থা জাতিধর্ম নির্বিশেষে সকল দরিদ্র ও দুর্যোগপীড়িত মানুষের জন্য কাজ করে।
মুসলিম নারীরাও বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইবতিহাজ মুহাম্মদ অলিম্পিকে হিজাব পরিহিত অবস্থায় পদক জয় করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। সাংবাদিকতা, শিক্ষা ও রাজনীতিতে মুসলিম নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে।
শহরভিত্তিকভাবে ডিয়ারবর্নকে আমেরিকার আরব-মুসলিম কেন্দ্র বলা হয়, যেখানে জনসংখ্যার বড় অংশ মুসলিম। এখানে রমজান মাসে বিশেষ উৎসব ও রাতব্যাপী বাজার বসে, যা এখন পর্যটন আকর্ষণেও পরিণত হয়েছে।
আমেরিকার মুসলিম সমাজে মসজিদ ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন তৈরি ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। আমেরিকায় প্রায় ৩,০০০ মসজিদ রয়েছে। নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে মসজিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ইসলামিক সেন্টারগুলোতে নামাজের পাশাপাশি বিবাহ, জানাজা, কাউন্সেলিং এবং সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বহু মসজিদে লাইব্রেরি, জিম এবং কমিউনিটি হলও রয়েছে।
ইসলামিক স্কুলগুলোতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, যেখানে সাধারণ আমেরিকান কারিকুলামের সঙ্গে কুরআন, আরবি এবং ইসলামি মূল্যবোধ শেখানো হয়। পাশাপাশি কয়েকটি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ও সেমিনারি পরিচালিত হচ্ছে।
হালাল খাদ্য ও হালাল ফিউশন রান্না আমেরিকার শহরগুলোতে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। নিউ ইয়র্কের “দ্য হালাল গাইজ” এখন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। একইভাবে হালাল মেক্সিকান, চাইনিজ ও আমেরিকান ফাস্টফুড সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।
ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলেও মুসলিমদের প্রভাব দেখা যায়। হিজাবি মডেলরা নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে অংশ নিচ্ছেন এবং নাইকি-সহ বড় ব্র্যান্ডগুলো হিজাবি স্পোর্টসওয়্যার তৈরি করছে। মডেস্ট ফ্যাশন এখন একটি বড় শিল্পখাতে পরিণত হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে আমেরিকার মুসলিম সমাজ একদিকে ঐতিহাসিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতা, অন্যদিকে আধুনিক বৈচিত্র্য, অর্থনৈতিক শক্তি, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গতিশীল ও ক্রমবর্ধমান সম্প্রদায় হিসেবে গড়ে উঠছে, যা দেশটির মূলধারার সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
উওর ও দক্ষিণ আমেরিকা দুটো মহাদেশেই ইসলাম ধর্মের অনুসারী সংখ্যালঘু হলেও দ্রুত বিস্তারমান। আফ্রিকান দাস, মরিস্কো মুসলমান, আরব অভিবাসী এবং স্থানীয় ধর্মান্তরের জটিল ইতিহাসের মধ্যে দিয়ে মহাদেশ দুটোতে ইসলামের শিকড় গড়ে উঠেছে।
কানাডায় মুসলমানরা বর্তমানে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্মীয় গোষ্ঠী। ২০২১ সালের হিসাবে প্রায় ১৮ লাখ মুসলমান (মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৯%)। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে; সাম্প্রতিক প্রবণতায় ২০২৬ নাগাদ তা প্রায় ২৮ লাখের কাছাকাছি ধরা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালের তুলনায় সংখ্যা প্রায় পাঁচগুণ বেড়েছে। অন্টারিও, কুইবেক ও আলবার্টা; বিশেষ করে টরন্টো, মন্ট্রিয়ল ও ক্যালগারিতে মুসলিমদের ঘনত্ব বেশি; টরন্টোতে প্রায় ১০.২% পর্যন্ত পৌঁছেছে। দেশে ৭৫৫টিরও বেশি মসজিদ ও ইসলামিক কেন্দ্র রয়েছে। মুসলমানরা এখানে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়—দক্ষিণ এশীয় (৩৭.৬%), আরব (৩২.২%), কৃষ্ণাঙ্গ (১১.৬%) এবং পাশাপাশি স্থানীয় কানাডীয় ও আদিবাসীদের মধ্যেও ইসলাম গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে, ২০১১ থেকে ২০২১-র মধ্যে আদিবাসী মুসলমানের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
রাজনীতিতে মুসলমানদের উপস্থিতি দৃশ্যমান; পার্লামেন্টে মুসলিম সদস্য রয়েছেন এবং আহমেদ হুসেনের মতো নেতা মন্ত্রিত্ব সামলেছেন। শিক্ষা ও পেশাগত ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত সফল—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং আইটি পেশাজীবী হিসেবে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। ২০১৯ সালে কানাডিয়ান ইসলামিক ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্ক চালু হয়ে ডিজিটাল দাওয়াহকে শক্তিশালী করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামিক স্টাডিজও সমৃদ্ধ হয়েছে। অক্টোবর মাস “ইসলামিক হেরিটেজ মাস” হিসেবে পালিত হয়।
তবে ইসলামোফোবিয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কুইবেক সিটি মসজিদ হামলা। ২০২৪-২০২৫ সালে মুসলিমবিরোধী অপরাধ প্রায় ৯৪% বৃদ্ধি পাওয়ার রিপোর্ট এসেছে। এর প্রতিকারে সরকার বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ করেছে। কানাডায় “ওপেন ইফতার”, “ইকো-মসজিদ” এবং আইস হকিতে মুসলিম খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সমন্বয়ে একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মুসলিম সমাজ গড়ে উঠেছে। ইনুভিক শহরের “লিটল মস্ক অন দ্য প্রেইরি” বিশ্বের উত্তরতম মসজিদগুলোর একটি, যা টরন্টো থেকে পরিবহন করে সেখানে বসানো হয়েছিল; সেখানে মুসলমানরা ২৪ ঘণ্টা সূর্যের সময় মক্কার সময় অনুযায়ী রোজা রাখেন। ১৯৩৮ সালে নির্মিত ” আল-রশিদ মসজিদ” কানাডার প্রথম মসজিদ। মসজিদটি নির্মাণে খ্রিস্টান ও ইহুদিরাও সাহায্য করেছিলেন।
মেক্সিকোতে মুসলমান খুব কম হলেও ইসলামের প্রতি আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে। চিয়াপাস অঞ্চলে মায়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলাম গ্রহণ একটি বিশেষ ঘটনা—তারা নিজস্ব পোশাক ও সংস্কৃতি বজায় রেখেই ইসলাম পালন করছে। অনেক গবেষক মনে করেন স্প্যানিশ বিজেতাদের সাথে আসা মরিস্কো মুসলমানরা গোপনে ইসলাম প্রচার করেছিলেন, যার প্রভাব আজও স্থাপত্যে দেখা যায়। কিছু গ্রামে “আব্রাহামিক ঐতিহ্য” ধারণা থেকে গোপন ইহুদি বংশোদ্ভূত লোকেরা ইসলাম গ্রহণ করেছে।
দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে ইসলাম আফ্রিকান দাসদের মাধ্যমে প্রবেশ করে এবং পরে সিরিয়া-লেবানন থেকে অভিবাসীরা এটিকে শক্তিশালী করে। ব্রাজিলে প্রায় ১৫ লাখ মুসলমান বাস করে। ১৮৩৫ সালের মালে বিদ্রোহ মুসলিম দাসদের সংগঠিত বিদ্রোহের এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত, যেখানে তারা আরবি ভাষায় “মাকতুব” লিখে পরিকল্পনা করত। বর্তমানে ব্রাজিলে নতুন মুসলিমদের প্রায় ৭০% নারী। দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল মাংস রপ্তানিকারক এবং হালাল কসমেটিকস ও ওষুধেও এগিয়ে। সাও পাওলোতে হিজাব ফ্যাশন শো হয়, এমনকি সামরিক বাহিনীতে হিজাব নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। আমাজন অঞ্চলের মানাউস শহরে মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছে এবং নদীপথে ‘দাওয়াহ নৌকা’ ব্যবহার করে গ্রামে ইসলাম প্রচার করা হয়।
আর্জেন্টিনাতে ৭ লাখ থেকে ১০ লাখ মুসলমান রয়েছে। বুয়েনস আইরেসে অবস্থিত কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার একটি বিশাল ইসলামিক কমপ্লেক্স। দেশটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেম সিরীয় মুসলিম বংশোদ্ভূত ছিলেন। “গাউচো” সংস্কৃতির মধ্যেও মরিস্কো প্রভাবের ধারণা পাওয়া যায়।
ভেনেজুয়েলা, চিলি, কলম্বিয়া এবং পেরু ইত্যাদি দেশে সংখ্যায় অল্প হলেও সক্রিয় মুসলিম সম্প্রদায় রয়েছে। কলম্বিয়ায় নওমুসলিমরা অনেক মসজিদে সংখ্যাগরিষ্ঠ; তারা “হালাল কফি” উৎপাদন করছে এবং হিপ-হপের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করছে।
ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ইসলাম এক বিশেষ সাংস্কৃতিক রূপ নিয়েছে। সুরিনামে ১৩-১৪% মানুষ মুসলমান। গায়ানা ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে ৮-১০% মুসলিম বাস করে। এখানে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা শ্রমিকদের বংশধররা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ঈদে সরকারি ছুটি দেওয়া হয় এবং এই দেশগুলো OIC-র সদস্য। ত্রিনিদাদের “হোসে” উৎসব মহররম থেকে উৎসারিত হয়ে জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। গায়ানা ও সুরিনামে “সাদকা” ভোজ, গোলাপ জল প্রথা এবং ভারতীয়-ক্যারিবীয় খাবারের মিশ্রণ দেখা যায়। কুরবানির সময় স্থানীয় পরিবেশ অনুযায়ী মহিষও ব্যবহার করা হয়।
ল্যাটিন আমেরিকার অনেক মুসলমান আরব বংশোদ্ভূত হলেও স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারা গ্রহণ করে তারা “আরব-ল্যাটিনো” নামে একটি মিলিত পরিচয় গড়ে তুলেছে। খাদ্যে “হালাল ফিউশন”(টাকোস, এম্পানাদাস) প্রচলিত হয়েছে। অনেক নারী হিজাবকে সামাজিক মর্যাদা হিসেবে দেখছেন। পর্যটনে “হালাল ট্যুরিজম” চালু হয়েছে। স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ ভাষায় কুরআন ও ইসলামিক সাহিত্য অনুবাদ দ্রুত বাড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব এবং টিকটক ইসলাম প্রচারে বড় ভূমিকা রাখছে।
ঐতিহাসিকভাবে মরিস্কো মুসলমানদের প্রভাব ল্যাটিন আমেরিকার স্থাপত্যে “মুদেজার” শৈলীতে আজও দৃশ্যমান। কিছু গবেষক দাবি করেন, পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম নাবিকরা কলম্বাসের আগেই আমেরিকায় পৌঁছেছিলেন, যদিও এটি বিতর্কিত। পানামাতে খাল নির্মাণের সময় দক্ষিণ এশীয় মুসলিম শ্রমিকদের আগমন ঘটে, যাদের বংশধররা আজও ব্যবসায় প্রভাবশালী। কিউবাতে মুসলমানরা ‘ক্যাসিটাস’ নামে ঘরোয়া মসজিদে নামাজ পড়ে। হাইতির স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা দুতি বুখম্যান মুসলিম ছিলেন বলে ধারণা করা হয়।
সামাজিকভাবে মুসলমানরা এখন অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য, যদিও আগে তাদের ‘তুর্কো’ বলা হতো। ভাষাগত সমস্যা ও ধর্মীয় শিক্ষার অভাব এখনও একটি চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার কারণে। তবে অনলাইন শিক্ষা, ভার্চুয়াল মাদরাসা এসব সমস্যার সমাধান দিচ্ছে।
এককথায়, উভয় মহাদেশে ইসলাম গতিশীল, বৈচিত্র্যময় এবং ক্রমবর্ধমান শক্তি। ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও আধুনিক প্রযুক্তি মিলেমিশে দুটো মহাদেশেই নতুন মুসলিম পরিচয় গড়ে তুলছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে, বিশেষ করে কানাডায় এবং স্থানীয় ধর্মান্তর, হালাল অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক অভিযোজন এই পরিবর্তনকে আরও গভীর করবে।