ওহিদুল ইসলাম (ঢাকা): ২০১৩ সালের ৫ থেকে ৬ মে’র রাত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক গভীর বেদনাবিধুর ও ভারতীয় সন্ত্রাসীদের নারকীয় পৈচাশিক গণহত্যার জঘন্য অধ্যায়। রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমবেত হাজারো বিক্ষোভকারী তাদের দাবির পক্ষে অবস্থান করছিলেন। রাত যত গভীর হতে থাকে, ততই ঘনীভূত হতে থাকে অনিশ্চয়তা, উৎকণ্ঠা ও অজানা আশঙ্কা।
মধ্যরাতের পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও যৌথবাহিনী বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার উদ্দেশ্যে অভিযান শুরু করে। চারদিক অন্ধকারে ডুবে যায়, সড়কের বাতিগুলো নিভে যায় হঠাৎ করেই। একই সময়ে, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সরাসরি সম্প্রচার সীমিত বা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর শুরু হয় অভিযানের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অংশ , গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বিক্ষোভকারীর ভাষায়, “মনে হচ্ছিল গুলির শব্দ আকাশ থেকে বৃষ্টি নামছে , চারদিক থেকে। কে কোথায় পড়ে যাচ্ছে বোঝার উপায় ছিল না।” আতঙ্কিত মানুষ ছুটতে থাকে জীবন বাঁচাতে, কিন্তু অনেকেই আর ফিরতে পারেননি। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, গণমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্নতা থাকলেও,কয়েকশ জনের বেশি প্রাণহানির কথা উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। তবে ওই সংখ্যা আরো অনেক অনেক বেশি বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
এই ঘটনার পরপরই শুরু হয় আরেকটি নীরব ট্র্যাজেডি। আহত অনেকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে সাহস পাননি, গ্রেফতার, হয়রানি বা নতুন করে মামলার আশঙ্কায়। ফলে, অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবেই চরম ভোগান্তির শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই ঘটনার শহীদদের মধ্যে ছিলেন এ কে এম রেহান আহসান -প্রকৌশল শিক্ষার্থী। তার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি প্রজন্মের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আগে একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়, যেখানে বলা হয়, তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করবেন না। এই বিষয়টি মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রাতের অনেক প্রশ্ন আজও উত্তরহীন। কী ঘটেছিল সেদিন প্রকৃতপক্ষে? কতজন প্রাণ হারিয়েছিলেন? এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য উত্তর এখনো অনেকের কাছে অধরা। বর্তমানে বিষয়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানা যায়, যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর কাছে ন্যায়বিচারের একটি ক্ষীণ আশার আলো জাগিয়ে রেখেছে।
স্বৈরাচারী নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সময় ভারতীয় বাবাদেরকে খুশি করার জন্য ছোট,বড় , বয়স্ক মুসলমানদেরকে অকাতরে হত্যা আবারো প্রমান করে, আওয়ামী নরপশুরা ইসলামের এক চরম শত্রু।
শাপলা চত্বরের সেই রাত শুধু একটি ঘটনার নাম নয়—এটি বেদনা, ক্ষতি, বিতর্ক এবং ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রতীক। ইতিহাসের এই অধ্যায় যেন সত্য, মানবিকতা এবং জবাবদিহিতার আলোয় একদিন সম্পূর্ণভাবে উদ্ভাসিত হয়, এটাই প্রত্যাশা।
মহান আল্লাহ এ কে এম রেহান আহসানসহ সকল শহীদকে জান্নাতে স্থান দান করুন।