একটি মেয়ে ও আষাঢ়ের কান্না : রীতা আক্তার 

আজ আষাঢ় নেমেছে কোনো ঘোষণা ছাড়াই, ঠিক যেমন করে বিষাদ নামে মধ্যবিত্ত গৃহিণীর নিভৃত দুপুরে

মেয়েটি জানলার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে, এক সমুদ্র অভিমান নিয়ে আর বাইরের আকাশে বৃষ্টির মিছিল

স্মৃতির পুরনো কপাট সজোরে আছাড় খেল। যেন দম বন্ধ করা কষ্টের ছাপ ছিটকে পড়ছে স্মৃতির দরজায়

উঠোনের এককোণে কদম গাছটা একা দাঁড়িয়ে ভিজছে— ঠিক যেন তার নিজেরই এক ছায়া প্রতিচ্ছবি

বাইরের বৃষ্টির ঝমঝম শব্দে ঢাকা পড়ে যায় তার চাপা দীর্ঘশ্বাস, কেউ শোনে না সেই কান্নার স্বরলিপি

মাটির সোঁদা গন্ধে মিশে আছে কোনো এক হারিয়ে যাওয়া মানুষের ঘ্রাণ, যা তাকে আজ বড্ড বেশি অস্থির করে তোলে।

পুরনো ডায়রীর মলাট খুলে যখন লিখতে বসে, শব্দেরা ফাঁকি দেয়। চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে উঠে

বাতাসের ঝাপটায় পর্দাটা যখন উড়ছে, মেয়েটি ভাবছে— এই অস্থিরতা কি প্রকৃতির নাকি তার একাকীত্বের

বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা যেন এক একটা ছোট ছোট সুচ, যা বিঁধছে তার নীল হয়ে যাওয়া স্মৃতির গায়ে

টিনের চালে ঝমঝম বৃষ্টির শব্দ যেন মেয়েটির চাপা আর্তনাদ

সে আজ মেঘেদের কাছে জানতে চায়, ‘কতটা জল জমলে আকাশ এমন করে ভেঙে পড়ে?’

অথচ তার নিজের চোখের কোণে জমে থাকা শ্রাবণধারাটি সে কাউকেই দেখতে দেয় না

সে জানে, এই আষাঢ় শেষ হবে, জল জমে জল নেমে যাবে— কিন্তু তার ভেতরের প্লাবন কি কখনো থামবে?

প্রতিটি বাদল রাতে সে নিজেকে গুটিয়ে নেয় ভ্রান্ত কোনো আশার চাদরে, যে চাদরটি এখন বড্ড জীর্ণ

আকাশের কান্না থামে, কিন্তু মেয়েটির জানলার ধারে জমা হওয়া বিষাদবিন্দুগুলো মোছে না

রাতের অন্ধকারে যখন জোনাকিরা নিভে যায়, তখন সে কেবল বৃষ্টি আর নিজের নিঃশ্বাসের শব্দ শোনে

আষাঢ়…..

আষাঢ় যেন কোন এক মেয়ের নীরবে একা হয়ে যাওয়ার আরেক নাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *