সুপ্রভাত সিডনি প্রতিবেদন: বহু প্রজন্মের স্বপ্ন, সংগ্রাম, ত্যাগ, নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার সম্মিলিত ধারায় একটি জাতিরাষ্ট্র গড়ে ওঠে। বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে গেলে এই কথাগুলো বারবার সামনে আসে। বিশেষ করে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবদান মূল্যায়নের সময় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
“বাংলাদেশের প্রকৃত স্থপতি” কথাটি আবেগপূর্ণ হলেও ইতিহাসের বিচারে এর উত্তর সরল নয়। কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক চেতনা, স্বাধীন রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ঘোষণা, রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, এসবের প্রতিটি পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন নেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। কারও অবদানকে স্বীকার করতে গিয়ে অন্যের ভূমিকা মুছে ফেলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি দলীয় আনুগত্যের কারণে ইতিহাসের একটি অংশকে অতিরঞ্জিত করাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
শেরে বাংলা: বাঙালির রাজনৈতিক আত্মমর্যাদার পথপ্রদর্শক
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন বাংলার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম অগ্রদূত। যে সময়ে রাজনীতি মূলত জমিদার ও অভিজাত শ্রেণির নিয়ন্ত্রণে ছিল, সে সময়ে তিনি কৃষক-শ্রমজীবী মানুষের কথা সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার, শিক্ষার প্রসার এবং অর্থনৈতিক মুক্তি।
ঋণগ্রস্ত কৃষকদের সুরক্ষা, জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে তাঁর ভূমিকা বাঙালি মুসলমানের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করে। ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সেই প্রস্তাবের ব্যাখ্যা ও রাজনৈতিক গতি বদলে গেলেও এটি বাংলার মানুষের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সত্তার ধারণাকে শক্তিশালী করেছিল।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা তিনি দেখে যেতে পারেননি। তবে বাঙালির রাজনৈতিক আত্মপরিচয়, অধিকারবোধ এবং শোষণমুক্তির আকাঙ্ক্ষার যে ভিত্তি তিনি নির্মাণ করেছিলেন, সেটি পরবর্তী সব আন্দোলনে প্রভাব ফেলেছে। তাই তাঁকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভিত্তি নির্মাণের অন্যতম প্রধান কারিগর বললে অত্যুক্তি হবে না।
মাওলানা ভাসানী: স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা ও মজলুম মানুষের কণ্ঠ
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন আপসহীন, সাহসী এবং দূরদর্শী এক জননেতা। তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রের চেয়ে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করতেন। কৃষক, শ্রমিক ও নিপীড়িত মানুষের অধিকার ছিল তাঁর রাজনীতির মূল বিষয়। এ কারণেই তিনি “মজলুম জননেতা” নামে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেন।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর খুব দ্রুতই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে পশ্চিম পাকিস্তানকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় পূর্ব বাংলার মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে না। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, স্বায়ত্তশাসনের দাবি, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের প্রতি বিদায়ী সতর্কবার্তা বাংলাদেশের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রাথমিক প্রকাশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানেও তাঁর প্রভাব ছিল গভীর। তিনি তরুণ সমাজ এবং সাধারণ মানুষকে অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে উৎসাহিত করেন। ১৯৭১ সালে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনেও ভূমিকা রাখেন।
মাওলানা ভাসানী হয়তো স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন না; কিন্তু একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তা তিনি অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি ছিলেন চিন্তার মুক্তিদাতা, প্রতিবাদের শিক্ষক এবং স্বাধীনতার স্বপ্নকে জনমানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া অন্যতম পথিকৃৎ।
শহীদ জিয়াউর রহমান: যুদ্ধক্ষেত্রের সাহস ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের নেতৃত্ব
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ১৯৭১ সালের সংকটময় মুহূর্তে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে সশস্ত্র প্রতিরোধে ঝাপিয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে একজন সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর সাহসী নেতৃত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থায়ীভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, দুর্ভিক্ষের ক্ষত, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তাঁর শাসনামলে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা পুনরায় চালু হয়, উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংবিধানে বিসমিল্লাহ হিররাহমানির রাহিম যোগ করেন।
খাল খনন কর্মসূচি, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে উন্নয়ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তিনি অর্থনীতিকে গতিশীল করতে চেয়েছিলেন। তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ, জনশক্তি রপ্তানি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও তাঁর সময়ের নীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।
শহীদ জিয়াউর রহমান “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” ধারণা সামনে আনেন। এর মাধ্যমে তিনি ভাষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি দেশের ভূখণ্ড, স্বাধীনতা, ধর্মীয় ও সামাজিক বৈচিত্র্য এবং নাগরিক পরিচয়কে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন। তাঁর এই রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর গভীর প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনায়ক। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সাহসী অংশগ্রহণ ও স্বাধীনতার ঘোষণা জাতিকে প্রতিরোধের সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করেছিল। একজন সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে তিনি সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। স্বাধীনতার পর সংকটময় সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তাঁর শাসনামলে বহুদলীয় রাজনীতির পথ পুনরায় উন্মুক্ত হয় এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারিত হয়। কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, খাল খনন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণার মাধ্যমে তিনি দেশের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মুসলিম বিশ্ব, দক্ষিণ এশিয়া এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারেও তাঁর ভূমিকা ছিল। তাঁর অবদান, ত্যাগ, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রগঠনের উদ্যোগ বিবেচনায় অনেকেই তাঁকে আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান স্থপতি মনে করেন। তবে ইতিহাসের নিরপেক্ষ মূল্যায়নে তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের একমাত্র স্থপতি না বলে অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রনির্মাতা বলা অধিক ভারসাম্যপূর্ণ।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ: অবকাঠামো ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের পদ্ধতি গণতান্ত্রিক ছিল না—এই ঐতিহাসিক সত্য এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল এবং শেষ পর্যন্ত গণ-আন্দোলনের মুখে তাঁকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়। তবে একই সঙ্গে তাঁর শাসনামলের উন্নয়নমূলক ও প্রশাসনিক উদ্যোগগুলোকেও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
উপজেলা পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা তাঁর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর একটি। এর মাধ্যমে প্রশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে রাজধানী থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থানীয় অবকাঠামো নির্মাণে তাঁর আমলে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছিল। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি সেবা সম্প্রসারণের ফলে বহু প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের কাছাকাছি আসার সুযোগ পায়।
এরশাদ আমলে ঢাকার বাইরে উচ্চ আদালতের বেঞ্চ স্থাপনের চেষ্টা, ভূমি সংস্কারের উদ্যোগ এবং স্থানীয় সরকারকে সক্রিয় করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর শাসন নিয়ে দুর্নীতি, কর্তৃত্ববাদ, রাজনৈতিক দমন এবং রাষ্ট্রধর্ম প্রবর্তনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কেও ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। ফলে তাঁর উত্তরাধিকার একমাত্রিক নয়; উন্নয়নমূলক কিছু অর্জনের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ঘাটতিও ইতিহাসে সমানভাবে আলোচিত হবে।
তাহলে প্রকৃত স্থপতি কে?
বাংলাদেশের ইতিহাসকে যদি শুধু একজন ব্যক্তির জীবন বা একটি রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়, তাহলে প্রকৃত ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। শেরে বাংলা বাঙালির রাজনৈতিক আত্মমর্যাদা এবং কৃষক-জনতার অধিকারের ভিত গড়েছেন। মাওলানা ভাসানী স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে সাহসী ভাষা দিয়েছেন এবং নিপীড়িত মানুষকে সংগ্রামের পথ দেখিয়েছেন। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সংকটের সময়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠন, বহুদলীয় রাজনীতি ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতির পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এরশাদ প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কিছু স্থায়ী উদ্যোগ রেখে গেছেন।
তবে এই তালিকার বাইরেও ১৯৫২ সালের ভাষাশহীদ, ঊনসত্তরের আন্দোলনকারী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা এবং কোটি সাধারণ মানুষের অবদান রয়েছে। তাঁদের কাউকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়।
অতএব, বাংলাদেশের প্রকৃত স্থপতি কোনো একক ব্যক্তি নন। বাংলাদেশ নির্মিত হয়েছে বহু নেতার দূরদর্শিতা, অসংখ্য কর্মীর সংগ্রাম, মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত এবং সাধারণ মানুষের সীমাহীন ত্যাগে। কেউ ভিত্তি তৈরি করেছেন, কেউ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, কেউ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, আবার কেউ যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন বা প্রশাসনিকভাবে সম্প্রসারণ করেছেন।
ইতিহাসের প্রতি সুবিচার করতে হলে আমাদের রাজনৈতিক পক্ষপাতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রত্যেকের অবদান ও ব্যর্থতা—দুটিই মূল্যায়ন করতে হবে। কারণ ইতিহাস কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থপতি শেষ পর্যন্ত এ দেশের সংগ্রামী জনগণ—যাঁদের আশা, রক্ত, শ্রম ও ভালোবাসায় লাল-সবুজের রাষ্ট্রটি নির্মিত হয়েছে।