সুপ্রভাত সিডনি রিপোর্ট: বাংলাদেশে অস্ট্রেলীয় নাগরিক রেহানা পারভীনের সন্দেহজনক মৃত্যুর তদন্ত প্রভাবিত করতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে তাঁর স্বামী আওলাদ হোসেনকে (৫১) গ্রেপ্তার করেছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশের পুলিশ নথি থেকে নিজের নাম বাদ দেওয়াসহ তদন্তের গতিপথ বদলানোর উদ্দেশ্যে তিনি পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে দুই বছরে ৯০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলারের বেশি পাঠিয়েছেন।
পাঁচ সন্তানের মা রেহানা পারভীন (৩৭) অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক ছিলেন। ২০২৪ সালের জুনে বাংলাদেশে যাওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের একটি গ্রামে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর মৃত্যুর কারণ সন্দেহজনক বলে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর এএফপি তদন্ত শুরু করে। বাংলাদেশ পুলিশও পৃথক তদন্ত চালাচ্ছে।
এএফপির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে আওলাদ বাংলাদেশে পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার অর্থ পাঠান, যাতে সেই অর্থ সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে তদন্তে প্রভাব ফেলতে ব্যবহার করা হয়। গত সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, কুইন্সল্যান্ডে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গুডনা ও রেডব্যাঙ্ক প্লেইনসের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করে পুলিশ। তদন্তকারীরা সিডনি ও ব্রিসবেনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকেও আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তর ও ব্যাংক লেনদেনের নথি সংগ্রহ করেছেন।
এএফপি কমান্ডার স্টিফেন জে জানিয়েছেন, অর্থের কিছু অংশ বাংলাদেশি পুলিশ কর্মকর্তাদের দেওয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তা সেই অর্থ পেয়েছেন বা তদন্ত প্রভাবিত হয়েছে—এমন প্রমাণ এএফপি পায়নি। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
আওলাদের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার একটি অভিযোগ আনা হয়েছে; দোষী সাব্যস্ত হলে এ অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য বিদেশি কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ এএফপি এই প্রথম আদালতে তুলেছে। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, আওলাদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং আদালতে তা মোকাবিলা করবেন। বাংলাদেশে রেহানার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও, তাঁকে হত্যার অভিযোগে বাংলাদেশ বা অস্ট্রেলিয়ায় এখনো অভিযুক্ত করা হয়নি। মৃত্যুর তদন্ত দুই দেশেই চলছে।