–শিবলু গাজী (অ্যাডভোকেট) সিডনি, অস্ট্রেলিয়া: “একজন মূর্খ যখন ক্ষমতা লাভ করে, তখন প্রথমেই সে জ্ঞানীদের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দেয়। এরপর নিজের চারপাশে অন্যান্য মূর্খদের জড়ো করে। আর শেষ পর্যন্ত সে দেশটাকেই ধ্বংস করে দেয়।” — প্লেটো
ভাইজান, বিষয়টি বুঝলে আজকের বিএনপি অন্যরকম হতে পারত। আসুন, বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা করি।
বিএনপির পরিচয় ধারণ করা সহজ, কিন্তু বিএনপির আদর্শ ধারণ করা কঠিন। দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করা সম্ভব, কিন্তু জনগণের হৃদয়ে জায়গা করতে হলে সততা, ত্যাগ ও নৈতিকতার প্রমাণ দিতে হয়।
আমার কিছু স্পষ্ট পরামর্শ:
সবার আগে আমাদের সম্মানিত তিন নেতা—শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা তারেক রহমানের রাজনৈতিক ও নৈতিক গুণাবলি (Political Noble Virtues) আমাদের শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অঙ্গিকারের মাধ্যমে অনুসরণ করতে হবে অথবা কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। কেন্দ্রীয় বিএনপি এ বিষয়ে প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে এবং প্রতিটি জেলা কমিটিকে তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিতে পারে।
সংক্ষেপে আরও কিছু জরুরি কথা (বিএনপিকে মন থেকে ভালোবাসী বলেই সময় নিয়ে লিখলাম):
১️ ত্যাগীদের সম্মান করুন: দুঃসময়ে যাঁরা দলের পাশে ছিলেন, তাঁদের অবমূল্যায়ন করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করবেন না।
২️ চাটুকার নয়, যোগ্য মানুষকে মূল্যায়ন করুন: যিনি ভুল ধরিয়ে দেন, তিনি সবসময় শত্রু নন; অনেক সময় তিনিই দলের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী।
৩️ ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি পরিহার করুন: বিএনপির নাম ব্যবহার করে দখলদারত্ব, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। কোনো অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিকে স্বাগত জানান।
৪️ দলকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ভাববেন না: ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে দলের আদর্শ, জনগণের অধিকার ও দেশের স্বার্থকে।
৫️ সমালোচনার কণ্ঠ রোধ করবেন না: ভিন্নমতকে শত্রুতা মনে করলে ভুল বাড়বে, যোগ্য নেতৃত্ব পিছিয়ে পড়বে এবং সুবিধাবাদীরা শক্তিশালী হবে।
৬️জনগণের আস্থার মর্যাদা দিন: পদ-পদবি নয়, মানুষের জন্য কাজ এবং ভালো আচরণই একজন নেতার প্রকৃত পরিচয়।
❗ উপদেশ না মানলে সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে?
🔹 জনগণের আস্থা ও জনসমর্থন কমে যাবে।
🔹 ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হবে এবং দলীয় বিভক্তি বাড়বে।
🔹 কিছু ব্যক্তির অপকর্মের দায় পুরো দলকে বহন করতে হবে।
🔹 অসদাচরণ বা অপরাধ প্রমাণিত হলে দলীয় ও আইনি জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।
🔹 দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
শেষ কথা:
বিএনপির নাম আপনার ব্যক্তিগত কোনো ঢাল নয়; এটি একটি পবিত্র রাজনৈতিক দায়িত্ব। ক্ষমতা সাময়িক, পদ-পদবি ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু মানুষের বিশ্বাস হারানো একজন রাজনীতিকের সবচেয়ে বড় পরাজয়।
আদর্শের রাজনীতি করুন, সুবিধাবাদের নয়। ত্যাগীদের সম্মান করুন, চাটুকারদের নয়। জনগণের সেবা করুন, ব্যক্তিস্বার্থের নয়।
বিএনপি শক্তিশালী হোক তার আদর্শ, সততা, জবাবদিহি ও জনগণের ভালোবাসায়—কোনো সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়। 🇧🇩