সিডনি ঘুরে গেলেন বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরব

সুপ্রভাত সিডনি রিপোর্ট: বাংলাদেশের রাজনীতির অনন্য পরিচিত মুখ, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব সম্প্রতি সিডনি সফর করে দেশে ফায়ার গেলেন গত ২৪ শে অক্টবর শনিবার ২০২৬। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক নেতৃত্বে উঠে আসা এই নেতার দীর্ঘ পথচলায় রয়েছে আন্দোলন, কারাবরণ এবং নানা প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতা।

তেজগাঁও এলাকায় ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। পর্যায়ক্রমে তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে আরও বিস্তৃত করে। স্থানীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে পৌঁছানোর এই ধারাবাহিকতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য দিক।

স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকশত  মামলা ও কারাবরণের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে নীরবকে। দীর্ঘ কারাজীবন এবং আইনি জটিলতা তাঁর রাজনৈতিক পথচলাকে কঠিন করেছে। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের সংগ্রামমুখর অধ্যায়ের অংশ। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার ধারাবাহিকতা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে।

নিজ এলাকার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের বিষয়টিও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বিএনপি নেতা  নীরব জানিয়েছেন, তাঁর শৈশব, কৈশোর ও যৌবন তেজগাঁও এলাকায় কেটেছে। জনকল্যাণের অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি মাদক ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং এলাকার দীর্ঘদিনের ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানের কথা তুলে ধরেছেন। মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার এই বক্তব্য তাঁর ঘোষিত জনসেবামূলক ভাবনার পরিচয় বহন করে।

ছাত্র ও যুব সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন একজন রাজনীতিককে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, কর্মীদের সংগঠিত করা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা দেয়। নীরবের রাজনৈতিক জীবনেও এসব দায়িত্ব একটি দীর্ঘ সাংগঠনিক যাত্রার পরিচায়ক। তাঁর পথচলা মূল্যায়নে তাই দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার বিষয়গুলো প্রাসঙ্গিক।

প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য অস্ট্রেলিয়া বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সিডনিতে তার ব্যক্তিগত সফরকে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করে। দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন। তাকে ঘিরে বিভিন্ন সাবার্ব ও এলাকায় জমে ওঠে খাওয়া-দাওয়া আর দেশীয় গল্পের আসর।

সিডনি সফরের প্রেক্ষাপটে তাঁর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা প্রবাসী পাঠকদের কাছেও তুলে ধরার মতো একটি বিষয়। দেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পরিচয় ও কর্মজীবন জানা প্রবাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বোঝার সুযোগ বাড়ায়। সাইফুল আলম নীরবের জীবনকথায় সেই ইতিহাসের সঙ্গে ব্যক্তিগত অধ্যবসায় ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার একটি যোগসূত্র পাওয়া যায়। তাঁর ভবিষ্যৎ পথচলায় জনকল্যাণ, দায়িত্বশীলতা ও মানুষের প্রত্যাশা পূরণের প্রচেষ্টাই হয়ে উঠুক প্রধান বিবেচনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *