সিডনিতে উষ্ণ সংবর্ধনায় সিক্ত প্রখ্যাত সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শামসুল আলম লিটন

সুপ্রভাত সিডনি রিপোর্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক সংবর্ধনায় সিক্ত হয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রখ্যাত সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠক এবং ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক সুরমা পত্রিকার সম্পাদক, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সাবেক প্রেস সেক্রেটারি শামসুল আলম লিটন।

গত মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত কমিউনিটির  একমাত্র সংবাদপত্র সুপ্রভাত সিডনি মিডিয়া গ্রুপের উদ্যোগে তাঁর সম্মানে এক অনাড়ম্বর অথচ আন্তরিক ও মর্যাদাপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

স্বল্প সময়ের প্রস্তুতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিডনির মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক, বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মানবাধিকারকর্মী, ব্যবসায়ী, সমাজসেবী এবং অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পেশাজীবীরা। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে একটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলায় পরিণত করে।

গুণীজনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে সুপ্রভাত সিডনির বিশেষ উদ্যোগ

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির সংবাদ, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি গুণীজনের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাঁদের অবদানকে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপনে গুরুত্ব দিয়ে আসছে সুপ্রভাত সিডনি।

সংবাদপত্রটির নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী, সংবর্ধনা বা সম্মাননা প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যক্তির সামাজিক পরিচিতি কিংবা জনপ্রিয়তার চেয়ে তাঁর কর্ম, আদর্শ, সততা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমাজের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অবদানকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেই বিবেচনায় শামসুল আলম লিটনের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করে এই ব্যতিক্রমী আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শামসুল আলম লিটন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত ঐতিহ্যবাহী বাংলা সংবাদপত্র সাপ্তাহিক সুরমার সম্পাদক। ১৯৭৮ সালে যাত্রা শুরু করা পত্রিকাটি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবাদ, অধিকার, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি গ্লোবাল বাংলাদেশিজ অ্যালায়েন্স ফর হিউম্যান রাইটস (GBAHR)-এর আহ্বায়ক এবং বিশ্বব্যাপী ২১টি মানবাধিকার সংগঠন ও হাজার হাজার মানবাধিকারকর্মীর সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক জোটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

মানবাধিকার সুরক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশিদের অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরতে তাঁর দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সুপ্রভাত সিডনি।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আন্দোলন ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা

বাংলাদেশের বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তুলতে যুক্তরাজ্য থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন শামসুল আলম লিটন।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সময় তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠক এবং নাগরিক অধিকারকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্দোলনের দাবিগুলো আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার প্রচেষ্টা চালান।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত মানবাধিকারকর্মী, প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠক ও বিশেষ করে সুপ্রভাত সিডনির সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণ, মানবাধিকারসংক্রান্ত আলোচনা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগে সুপ্রভাত সিডনি একসঙ্গে কাজ করেছেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়।দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে যখন বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাজ্য থেকে প্রতিবাদের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী শামসুল আলম লিটন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার সংগঠন, প্রবাসী বাংলাদেশি নেতৃবৃন্দ ও গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, সভা-সমাবেশ, কর্মশালা, প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের উদ্যোগে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেন। আয়োজকদের মূল্যায়নে, তাঁর দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক তৎপরতা শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্দোলনকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখে। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। স্বৈরাচার ঝেটিয়ে বিদায় করার বলিষ্ট  কলম যোদ্ধা সুরমা ও সুপ্রভাত সিডনি প্রবাস থেকে দিন রাত সকল ধরণের যোগান দিয়েছে।

শামসুল আলম লিটন Australian Trade and Investment Commission (Austrade)-এর আমন্ত্রণে এক সপ্তাহের সফরে সিডনিতে আসেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করেই সুপ্রভাত সিডনি স্বল্প সময়ের মধ্যে বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রবাসী জুলাই আন্দোলনের সংগঠকদের পারস্পরিক সম্মান ও স্বীকৃতি

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে তুলতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁদের অনেকেই ব্যক্তিগত সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে কাজ করেছেন।

শামসুল আলম লিটন তাঁদেরই একজন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাশ্রম, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে মানবাধিকার আন্দোলনে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

তাঁর এই অবদানের পূর্ণ মূল্যায়ন একটি সংবর্ধনা কিংবা সম্মাননার মাধ্যমে সম্ভব নয়। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে তাঁর কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবেই সুপ্রভাত সিডনি এই বিশেষ আয়োজন করে।

আব্দুল্লাহ ইউসুফ শামীমের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রভাত সিডনির প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ ইউসুফ শামীম। তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলা প্রিন্ট ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও কমিউনিটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

বাংলাদেশের জুলাই গণ-আন্দোলনের সময় অস্ট্রেলিয়া থেকে আন্তর্জাতিক জনমত গঠন ও মানবাধিকারসংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি শামসুল আলম লিটনের দীর্ঘদিনের ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সংবর্ধনার মূল উদ্দেশ্য কেবল একজন বিশিষ্ট সাংবাদিককে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো নয়; বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আন্দোলনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাঁদের দায়িত্বশীল ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরা।

ব্যস্ত কর্মদিবসেও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি

মঙ্গলবারের ব্যস্ত কর্মদিবস এবং স্বল্প সময়ের আমন্ত্রণ সত্ত্বেও শামসুল আলম লিটনকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন পেশা ও সামাজিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। সুপ্রভাত সিডনি মিডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে উপস্থিত সব অতিথি, শুভানুধ্যায়ী, সাংবাদিক, লেখক, মানবাধিকারকর্মী ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। আমাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সৌহার্দ্যপূর্ণ আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ঐক্য, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্বশীলতা আরও সুদৃঢ় করবে।

সুপ্রভাত সিডনির পক্ষ থেকে শামসুল আলম লিটনের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *