হাফেজ মাওলানা ডা.মো. ইমাম হোসাইন: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকা তুহু। সম্মানিত পাঠক কেমন আছেন?
আজকে আমরা আমাদের জীবনের অতিবাহিত হওয়া প্রতিবছর বিত্তবান বা সম্পদশালী ব্যক্তির কুরবানী দেয়া এবং কুরবানী দিতে অসমর্থ মানুষের ঘরে ঘরে আমরা সানন্দেই কুরবানির গোশত পৌঁছে দেয়া এ বিষয়ে কথা বলছি না; বরং আমরা আমাদের বিবেক দিয়ে অনুধাবণ করা দরকার কেন এবং কোন মহান আদেশের অনুপ্রেরণায় সিক্ত হয়ে একান্ত আনুগত্য সহকারে আমরা বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে জীবন্ত পশু জবাই করে কুরবানী দিয়ে পরিতৃপ্তি অনুভব করি। নিঃসন্দেহে সবাই একবাক্যে বলবো, মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে মহান আল্লাহর আদেশ পালনে সমর্থবান মুসলমানগণ আমরা অর্থনৈতিক ও শারীরিক পরিশ্রমের সম্মিলনে ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হয়ে কুরবানী করি,আলহামদুলিল্লাহ। যদি জিজ্ঞেস করা হয় কুরআনের কোন কোন আয়াতে কুরবানী নিয়ে আলোচনা আছে, তা আমাদের অনেকেরই অজানা, কিন্তু আমরা ঈমানের বলে বলীয়ান হয়ে, মহাবিশ্ব পরিচালক রাজাধিরাজ আল্লাহর আদেশ পালনে আমরা অনাবিল আনন্দ অনুভব করি। কিন্তু পৃথিবী ও পরকালীন মুক্তির পয়গাম নিয়ে যে কুরআন নাযিল হলো জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে (ব্যক্তি,পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে) তা
বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে আমরা কোন সাহসে অবস্থান করি বা করছি আমার মনে হয় আমাদের প্রত্যেকেরই বিবেক দিয়ে শক্তভাবে ভাবা একান্তই দরকার। অন্যথায় পরকালীন মুক্তির পথ পরিক্রমা কিভাবে সম্ভব? কুরআন বিধানাবলী তথা আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়নের বিপরীতে সাধনা ও সংগ্রাম করে কিভাবে আমরা অনন্ত জান্নাতের বাসিন্দা হওয়ার অসম স্বপ্ন দেখি ?
সম্মানিত পাঠক আলহামদুলিল্লাহ এখনো আমি আপনি পৃথিবীর আলো,বাতাস,বিবেক, আহার, আগুন ও অক্সিজেন ইত্যাদি আল্লাহর অফুরন্ত নিয়ামত ভোগের অবারিত সুযোগ গ্রহণ করে অবিরাম দুনিয়ার জীবন সমাপ্তির পথে হাজার কোটিগুন গতিতে এগিয়ে চলেছি, কিন্তু মৃত্যু পরবর্তী মহা জীবনের সুখ,শান্তি ও সফলতা কোন পথে তা নিয়ে এখনো ভাবা ও অনুধাবণ করার ইচ্ছে হয়নি! তবে এটা শতভাগ সুনিশ্চিত কবর বা পরকালীন অনন্ত জীবন থেকে ফিরে আসার কোন সুযোগ আমাদের নেই, ইতিমধ্যেই আমাদের পূর্বপুরুষগণ দ্বারা এটা প্রমাণিত নয়কি? আসুন আমরা পবিত্র কুরবানির মাধ্যমে নিজের চিন্তা জগৎ ও জীবনের পথচলায় কুরআন ও সুন্নাহের সাজে সজ্জিত হয়ে পৃথিবী ও পরকালীন মুক্তির মিছিলে শামিল হয়ে বিনয়াবনত চিত্তে ফরিয়াদ করি:
“(আবার) এ মানুষদেরই আরেক দল বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, এ দুনিয়ায়ও তুমি আমাদের কল্যাণ দান করো, পরকালেও তুমি আমাদের কল্যাণ দান করো; (সর্বোপরি) তুমি আমাদের আগুনের আযাব থেকে নিষ্কৃতি দাও ।” (২-আল-বাক্বারা:২০১)
তুমি (একান্ত বিনয়ের সাথে) বলো, অবশ্যই আমার নামায, আমার (আনুষ্ঠানিক) কাজকর্ম, আমার জীবন, আমার মৃত্যু সব কিছুই সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার জন্যে । (৬-আল-আনয়াম:১৬২)
ইসলামে কিছু ইবাদাত সম্পদের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেমন, হজ্জ-যাকাত, কুরবানী -ফিতরা ইত্যাদি। অতি সন্নিকটে পবিত্র যিলহজ্জ মাস, এ মাসেই পবিত্র হজ্জ ও ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়। এক্ষেত্রে সম্পদশালী মুসলমানদের জন্য জীবনে একবার পবিত্র হজ্জ পালন করা ফরজ ইবাদাত কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ঈদুল আযহার দিনে (বা নির্ধারিত দিনগুলোতে) গরু, ছাগল, ভেড়া বা উট জবাই করে কুরবানী করা প্রতি বছর ওয়াজিব। হজ্জ ও কুরবানি সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহ তায়ালার (সন্তুষ্টির) জন্যে হজ্জ ও ওমরা সম্পন্ন করো; (পথে) যদি তোমাদের কোথাও আটকে দেয়া হয় তাহলে সে স্থানেই কোরবানীর জন্যে যা কিছু সহজভাবে (হাতের কাছে) পাওয়া যায় তা দিয়েই কোরবানী আদায় করে নাও, (তবে) কোরবানীর পশু তার নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে পৌঁছার আগ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের মাথা মুন্ডন করো না; যদি তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ে, অথবা যদি তার মাথায় কোনো রোগ থাকে (যে কারণে আগেই তার মাথা মুন্ডন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে), তাহলে সে যেন এর বিনিময় (ফিদিয়া আদায় করে, এবং তা) হচ্ছে কিছু রোযা (রাখা) অথবা অর্থ দান করা, কিংবা কোরবানী আদায় করা, অতপর তোমরা যখন নিরাপদ হয়ে যাবে তখন তোমাদের কেউ যদি এক সাথে হজ্জ ও ওমরা আদায় করতে চায়, তার উচিত (তার জন্যে) যা সহজলভ্য তা দিয়ে কোরবানী আদায় করা, যদি কোরবানী করার মতো কোনো পশু সে না পায় (তাহলে) সে যেন হজ্জের সময়কালে তিনটি এবং তোমরা যখন বাড়ি ফিরে আসবে তখন সাতটি- (সর্বমোট) পূর্ণ দশটি রোযা রাখবে, এই (সুবিধা)-টুকু শুধু তাদের জন্যে, যাদের পরিবার পরিজন আল্লাহর ঘরের আশেপাশে বর্তমান নেই; তোমরা আল্লাহকেই ভয় করো, জেনে রাখো, আল্লাহ্ তায়ালা কঠোর আযাব প্রদানকারী বটে। (২-আল-বাক্বারা:১৯৬)
যারা বলে, (স্বয়ং) আল্লাহ্ তায়ালাই তো আমাদের আদেশ দিয়েছেন যেন আমরা কোনো রসুলের ওপর ঈমান না আনি, যতোক্ষণ না সে আমাদের কাছে এমন একটা কোরবানী এনে হাযির করবে, যাকে (গায়ব থেকে এক) আগুন এসে খেয়ে ফেলবে: (হে মোহাম্মদ,) তুমি (তাদের বলো, হ্যাঁ) আমার আগেও তোমাদের কাছে বহু নবী রসুল এসেছে, তারা সবাই উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়েই এসেছিলো, তোমরা (আজ) যে কথা বলছো তা সহই তো তারা এসেছিলো, তা সত্ত্বেও তোমরা তাদের হত্যা করলে কেন? আজ যদি তোমরা এতোই সত্যবাদী হও (তাহলে কেন এসব আচরণ করলে?) ( ৩-আলে-ইমরান:১৮৩)
(হে মোহাম্মদ,) তুমি এদের কাছে আদমের দুই পুত্রের গল্পটি যথাযথভাবে শুনিয়ে দাও! (গল্পটি ছিলো.) যখন তারা দুই জনই (আল্লাহর নামে) কোরবানী পেশ করলো, তখন তাদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে কোরবানী কবুল করা হলো, আরেকজনের কাছ থেকে তা কিছুতেই কবুল করা হলো না, (যার কোরবানী কবুল করা হয়নি) সে বললো, আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করবো (যার কোরবানী কবুল করা হলো), সে বললো, আল্লাহ তায়ালা তো শুধু পরহেযগার লোকদের কাছ থেকেই (কোরবানী) কবুল করেন। (৫-আল-মায়েদা:২৭)
সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর। (সূরা কাউছার,আয়াত :০২)
কুরবানী সম্পর্কে হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিশদ বিবরণ বর্ণনা করেছেন। আমরা এখানে কিয়দাংশ সন্নিবেশ করলাম – ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন বিদায় হাজ্জে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তামাত্তু’ করেছেন, প্রথমে ‘উমরাহ্ ও পরে হাজ্জ করেছেন এবং পশু কুরবানী করেছেন। তিনি যুল হুলায়ফাহ্ থেকে সাথে করে কুরবানীর পশু নিয়েছিলেন। এখান থেকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে ‘উমরার, অতঃপর হাজ্জের তালবিয়াহ্ পাঠ শুরু করেন। লোকেরাও রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণে হাজ্জের সাথে ‘উমরাহ্ যুক্ত করে তামাত্তু’ করেছে। কতক লোকেরা কুরবানীর পশু সাথে নিয়েছিল, আর কতকের কুরবানীর পশু ছিল না। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাতে উপনীত হয়ে লোকদের উদ্দেশে বললেন, তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু আছে, হাজ্জ শেষ না করা পর্যন্ত তাদের জন্য (সাময়িকভাবে) নিষিদ্ধ কোন জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যাদের সাথে কুরবানীর পশু নেই- তার যেন বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মাঝে সা’ঈ করে মাথার চুল খাটো করার পর ইহরাম খুলে ফেলে। অতঃপর তারা (৮ যিলহাজ্জ) পুনরায় হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধবে এবং (নির্দিষ্ট দিনে) কুরবানী করবে। কোন ব্যক্তি বুরবানীর পশু না পেলে হাজ্জ চলাকালীন সময়ে তিনদিন এবং বাড়িতে ফেরার পর সাতদিন সওম পালন করবে।
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কায় পৌঁছে প্রথমে রুকনে (হাজারে আসওয়াদ) স্পর্শ করলেন, অতঃপর বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করলেন- তিন চক্কর সামান্য দ্রুতগতিতে এবং চার চক্কর ধীরগতিতে। বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ সমাপ্ত করে তিনি মাক্বামে ইব্রাহীমের নিকট দু’ রাক’আত সলাত আদায় করলেন। অতঃপর সালাম ফিরিয়ে সলাত শেষ করলেন। অতঃপর তিনি সাফা পাহাড়ে এলেন এবং সাফা-মারওয়াহ্ পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাতবার সা’ঈ করলেন। এরপর তিনি কোন জিনিস হালাল করেননি- যা হারাম হয়েছিল (ইহরামের কারণে অর্থাৎ তিনি ইহরামমুক্ত হননি) যে পর্যন্ত না হাজ্জ সমাপন করেন এবং কুরবানীর দিন নিজের পশু কুরবানী না করেন এবং কা’বাহ্ ঘর-এর ত্বওয়াফ করেছেন। অতঃপর যে সব জিনিস হারাম ছিল, তা তাঁর জন্য হালাল হয়ে গেল (অর্থাৎ তিনি ইহরাম খুললেন) আর যেসব লোক সাথে করে কুরবানীর পশু এনেছিল, তারাও রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুরূপ করেছিল। (ই.ফা. ২৮৪৮, ই.সে. ২৮৪৭ সহীহ্ মুসলিম )
বারাআ ইব্নু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর দিন সালাতের পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সামনে খুতবা দিলেন। খুতবায় তিনি বললেন, যে আমাদের মতো সালাত আদায় করবে এবং আমাদের কুরবানীর মত কুরবানী করবে, তার কুরবানী যথার্থ বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করবে তার সে কুরবানী গোশ্ত খাওয়া ছাড়া আর কিছু হবে না। তখন আবূ বুরদাহ্ ইব্নু নিয়ার (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম! আমি তো সালাতে বের হবার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। আমি ভেবেছি যে, আজকের দিনটি তো পানাহারের দিন। তাই আমি তাড়াতাড়ি করে ফেলেছি। আমি নিজে খেয়েছি এবং আমার পরিবারবর্গ ও প্রতিবেশীদেরকেও আহার করিয়েছি। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ওটা গোশ্ত খাবার বকরী ছাড়া আর কিছু হয়নি। আবূ বুরদাহ (রাঃ) বলেন, তবে আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা দুটো (গোশ্ত খাওয়ার) বকরীর চেয়ে ভাল। এটা কি আমার পক্ষে কুরবানীর জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে তোমার পরে অন্য কারো জন্য যথেষ্ট হবে না। (রেফারেন্স: হাদিস নং 983 সহিহ বুখারী)
হযরত ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : কুরবানীর দিনে আদাম সস্তানগণ এমন কোন কাজ করতে পারে না যা আল্লাহর নিকট রক্ত প্রবাহিত করার (অর্থাৎ কুরবানী করা) চেয়ে বেশী প্রিয় হতে পারে। কুরবানীর সকল পশুর শিং, পশম, এদের ক্ষুরসহ ক্বিয়ামাতের দিন (কুরবানীকারীর নেকীর পাল্লায়) এসে হাজির হবে। কুরবানীর পশুর রক্ত মাটি স্পর্শ করার পূর্বেই আল্লাহর নিকট মর্যাদাকর স্থানে পৌঁছে যায়। তাই তোমরা সানন্দে কুরবানী করবে। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ) হাসান বিন আলী (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে আদেশ করেছেন যে, (কুরবানীর দিনে) আমরা যেন যথাসাধ্য সবচেয়ে সুন্দর পোশাক পরি, যথাসাধ্য সবচেয়ে ভাল সুগন্ধি ব্যবহার করি, যথাসাধ্য সবচেয়ে মোটা-তাজা কুরবানী দিই—গরু সাতজনের পক্ষ থেকে এবং উট দশজনের পক্ষ থেকে। আর আমরা যেন ‘তকবীর’সশব্দে বলি এবং প্রশান্তি ও ভদ্রতা বজায় রাখি।’ (ত্বাবারানীর কাবীর ৩/১৫২, ২৬৯০, হাকেম ৪/২৫৬, ৭৫৬০, ত্বাহাবী ১৪/৩৩, শুআবুল ঈমান বাইহাক্বী ৩/৩৪২)
উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন : তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা রাখলে, যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশক শুরু হয়ে গেলে সে যেন নিজের চুল ও চামড়ার কোন কিছু না ধরে অর্থাৎ না কাটে। অন্য এক বর্ণনায় আছে, সে যেন কেশ স্পর্শ না করে ও নখ না কাটে। অপর এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি জিলহাজ্জ মনের নব চাঁদ দেখবে ও কুরবানী করার নিয়্যাত করবে সে যেন নিজের চুল ও নিজের নখগুলো কর্তন না করে। (মুসলিম)
‘আলী (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর (জানোয়ারের) চোখ, নাক ভালভাবে দেখে নেয়ার জন্য আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। যে পশুর কানের সম্মুখ ভাগ শেষের ভাগ কাটা গেছে। অথবা যে পশুর কান গোলাকারবাভে ছিদ্রিত হয়ে গেছে বা যার কান পাশের দিকে থেকে কেটে গিয়াছে সেসব পশু যেন কুরবানী না করি। (তিরমিযী, আবূ দাউদ, নাসায়ী; তবে দারিমী (আরবী) “কান” পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।) (হাদিস নং 1463 মিশকাতুল মাসাবিহ).
আয়িশাহ্ (রাঃ)বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আমার নিজ হাতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কুরবানীর পশু উটের মালা তৈরি করেছি। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা পশুদের গলায় পরিয়েছেন এবং এগুলোর কুঁজ ফেঁড়ে দিয়েছেন। তারপর এগুলোকে কুরবানীর পশু হিসেবে (বায়তুল্লাহয়) পাঠিয়েছেন। এতে তাঁর উপরে কোন জিনিস হারাম হয়নি, যা তাঁর জন্যে আগে হালাল করা হয়েছিল। (বুখারী ও মুসলিম)
আল্লাহর সমীপে আমাদের হিদায়েত কামনা করে সূরা আনামের দুটো আয়াত উপস্থাপন করে বিদায় নিলাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমরা প্রকাশ্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, (বেঁচে থাকো) তার গোপন অংশ থেকেও; নিঃসন্দেহে যারা কোনো গুনাহ অর্জন করবে, তাদের কৃতকর্মের যথাযথ ফল তাদের প্রদান করা হবে।
(যবাই এর সময়) যার ওপর আল্লাহ তায়ালার নাম নেয়া হয়নি, সে (জন্তুর গোশত) তোমরা কখনো খাবে না, (কেননা) তা হচ্ছে জঘন্য গুনাহের কাজ; শয়তানের (কাজই হচ্ছে) তার সংগী-সাথীদের মনে প্ররোচনা দেয়া, যেন তারা তোমাদের সাথে (এ নিয়ে) ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়, যদি তোমরা তাদের কথা মেনে চলো, তাহলে অবশ্যই তোমরা মুশরিক হয়ে পড়বে। (৬-আল-আনয়াম:১২০,১২১)