সুপ্রভাত সিডনি রিপোর্ট: গত ২৮ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার সিডনির লাকেম্বার দ্য বুলেভার্ড ও হ্যালডন স্ট্রিটের সংযোগস্থলে একটি গাড়ির ধাক্কায় ৬৪ বছর বয়সী বাংলাদেশি মাহবুবুল হক এবং ৪৩ বছর বয়সী এক ইন্দোনেশীয় নারী পথচারী গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর প্যারামেডিকরা দ্রুত তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত ইন্দোনেশীয় নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার পর মাহবুবুল হক (৬৪) গত ২৪ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটে সেন্ট জর্জ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
মাহবুবুল হক, যিনি ‘নোমান’ নামেও পরিচিত ছিলেন, অস্ট্রেলিয়ার কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজের গ্রাউন্ড স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রথম ১৯৭৯ সালে অস্ট্রেলিয়া সফর করেন এবং পরে ১৯৮১ সালে স্থায়ীভাবে এ দেশে আসেন। তাঁর পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন শিক্ষক। তিন ভাই ও চার বোনের পরিবারে বেড়ে ওঠা মাহবুবুল হক দীর্ঘদিন ধরে সিডনিতে বসবাস করছিলেন।
শান্ত, বিনয়ী, ভদ্র ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি হিসেবে তিনি কমিউনিটির সবার কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে ।
গত বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে লাকেম্বা বড় মসজিদে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে স্থানীয় রুকউড কবরস্থানে দাফন করা হয়। এতে কমিউনিটির বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের পাশাপাশি কোয়ান্টাস এয়ারলাইন্সে কর্মরত তাঁর বিভিন্ন ব্যাচের সহকর্মীরাও অংশ নেন।
ক্যান্টারবেরি–ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র বিলাল এল-হায়েক এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত একমাত্র বাংলা পত্রিকা ‘সুপ্রভাত সিডনি’র একটি প্রতিনিধিদলও জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মহান আল্লাহ উভয় মরহুমকে শহীদের মর্যাদা দান করুন, তাঁদের সব ভুলত্রুটি ক্ষমা করে বেহেশতের সর্বোচ্চ মাকাম নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করুন। আমিন।