বিড়ালেরও কি মন খারাপ হয়?

প্রফেসর ডঃ শফিকুর রহমান (মালয়েশিয়ার লঙ্কাউই ভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে) : লঙ্কাউইর সমুদ্রের ধারে মোটেলের পাশে বিড়ালটাকে দেখলাম। কাঠের টেবিলে শুয়ে আছে। গলায় মালা। চোখ দুটো সমুদ্রের মতো নয়। সমুদ্রের এত অপেক্ষা থাকে না।

আমি বললাম, ‘তোমার নাম কী?’

সে তাকিয়ে রইল। মিনি হতে পারে। পুষিও হতে পারে। হয়তো এমন কোনো মালয়েশীয় নাম, যার অর্থ আমি জানি না।

আমার কাছে খাবার ছিল না। পকেটে হাত দিয়ে শুধু হোটেলের চাবি পেলাম। চাবি দিয়ে দরজা খোলা যায়। ক্ষুধা মেটানো যায় না।

বিড়ালটা একটু নড়ে বসল। তারপর মাথা বাড়িয়ে দিল। হাত রাখলাম। চোখ বন্ধ করল সে। মনে হলো, অনেকক্ষণ ধরে এই সামান্য আদরটুকুর জন্য অপেক্ষা করছিল।

তার ক্ষুধা ছিল কি না বুঝলাম না। মানুষের কাছে আসার ইচ্ছেটা বুঝলাম।

কিছুক্ষণ পাশে বসে থাকলাম। সমুদ্রের বাতাস আসছিল। দূরে লোকজন হাসছিল। এই ছোট্ট প্রাণীটির কোনো তাড়া ছিল না। আমারও তখন কোথাও যেতে ইচ্ছে করছিল না।

ছবি তুললাম। ছবিতে তাকে রেখে দেওয়া সহজ। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া কঠিন।

হোটেলের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। কয়েক পা গিয়ে ফিরে তাকালাম। সে তখনও তাকিয়ে আছে। ডাকেনি। উঠে আসেনি। শুধু তাকিয়েছিল।

রাতে নরম বিছানায় শুয়ে তার কথা মনে হলো। আমার মাথার ওপর ছাদ। পাশে পানি। চাইলে খাবারও আসবে।

তার কাছে কি কেউ ফিরেছে?

জানালা খুলে সমুদ্রের শব্দ শুনলাম। অন্ধকারে বিড়ালটার চোখ মনে পড়ল।

বিড়ালদেরও কি মন খারাপ হয়?

হয়তো হয়। বলতে পারে না।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *