নক্ষত্রের দূরত্ব: বিপুল চন্দ্র রায়

ওগো বিদেশিনী! তুমি হেঁটেছ অন্য কোনো ছায়াপথে,

আর আমি পুড়েছি বিরহের অন্তহীন দাবানলে।

তুমি ছিলে দূর আকাশের কোনো এক নক্ষত্র,

আর আমি পোড়ামাটির বুকে হেঁটে চলা দীর্ঘ পথসিন্ধু।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে রচিত হয়েছে যমুনার মতো দূরত্ব,

যেখানে মিলনের সেতু গড়ার আগেই নেমেছে সর্বগ্রাসী প্লাবন।

সেখানে এলোমেলো ঢেউয়ে ভেসে যায় যত স্মৃতির চাদর,

আমার একা শুধু পোড়ে অবুঝ নদীর তীরে শূন্য প্রান্তর।

তবে এই জন্মেই তোমায় সম্পূর্ণ ছোঁয়া হলো না,

তাই আর পুনর্জন্মের মিথ্যা সান্ত্বনায় বাঁধবো না বুক,

মহাজাগতিক এই প্রেমের জুয়া খেলায় নিঃসঙ্গ মন,

জীবনের কোলাহলে মুছে দিতে চাই জীবনের যত রঙ্গ।

পুনর্জন্মের মিথ্যা আশ্বাসে আর বিশ্বাস নেই আমার

স্বর্গীয় মায়ায় মুছে গেছে সব প্রতিশ্রুতি দেবদারু বনে।

মৃত্তিকার টানে বাঁধা পড়েছে যে অমলিন রক্তিম শৃঙ্খল,

তা আজ শূন্যতার অতলে নিভে গেছে কালান্তরে।

তোমায় এ জন্মেও পাওয়া হলো না, ছুঁয়ে দেখে হলো না,

এই অপূর্ণতার দীর্ঘ অধ্যায়ের দীর্ঘশ্বাস নিয়ে,

স্মৃতির আকাশে শুধু তোমারই ছবি যাই এঁকে।

একদিন মহাশূন্যের অসীমতায় মিশে যাবে এই প্রাণ,

তারাদের দেশে বেজে উঠবে আমাদের না-বলা প্রেমের গান।

আমাদের এই অপূর্ণতা প্রেমের উপাখ্যান নিয়ে বলবো তবুও

ওগো প্রিয়দর্শিনী! সুখে থেকো, ভালো থেকো…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *