শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য, ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রনায়ক

আব্দুল্লাহ ইউসুফ শামীম – প্রতিষ্ঠাতা অস্ট্রেলিয়া বিএনপি: ভূমিকা: একটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিত্বের আগমন ঘটে, যাঁরা শুধু সমসাময়িক রাজনীতিকেই প্রভাবিত করেন না, বরং তাঁদের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও কর্মের মাধ্যমে গোটা জাতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করে দেন। আধুনিক বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমনি একজন কালজয়ী ও ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক হলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান (বীরউত্তম)। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি “শহীদ জিয়া” নামেই সমধিক পরিচিত।

আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে বা ইতিহাসের পাতায় তাঁকে কেবল একজন সেনাপতি বা রাষ্ট্রপতি হিসেবে মূল্যায়ন করলে ভুল হবে; তিনি ছিলেন একাধারে স্বাধীনতার বীর ঘোষক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং এক ঐতিহাসিক ন্যায়পরায়ণ ও জনদরদি শাসক যাঁর সততা ও সরলতা আজও দেশের মানুষের বুকে চিরভাস্বর। তাত্ত্বিক অর্থে রাজতন্ত্রের “বাদশা” না হলেও, প্রজাবৎসল, ন্যায়পরায়ণ এবং সততার দিক থেকে তিনি ছিলেন বাংলা ও বাঙালির হৃদয়ের এক মুকুটহীন সম্রাট।

পটভূমি এবং সংকটময় মুহূর্তে আগমন

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা লগ্নে যখন সমগ্র জাতি এক চরম অনিশ্চয়তা ও দিকভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত ছিল, ঠিক তখনই কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমানের বজ্রকণ্ঠের স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা বাঙালি জাতিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা জুগিয়েছিল। যুদ্ধক্ষেত্রে সম্মুখ সমরে বীরত্বের সাথে লড়াই করে তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাব লাভ করেন।

পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তন ও রাজনৈতিক চরম অস্থিতিশীলতার মধ্যে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে ৭ই নভেম্বর জিয়াউর রহমান দেশের শাসনভারের কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসেন। সে সময় বাংলাদেশ ছিল অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর, রাজনৈতিকভাবে চরম মেরুকৃত এবং আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে। এমন এক সংকটময় মুহূর্তে তিনি দেশের হাল ধরেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে এক নতুন, আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

ন্যায়পরায়ণতা ও সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

ইতিহাসে বহু শাসকের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে তাঁদের বিশাল সাম্রাজ্য বা জাঁকজমকের জন্য। কিন্তু জিয়াউর রহমান ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন তাঁর অনন্য সাধারণ সততা, ব্যক্তিগত ত্যাগের মানসিকতা এবং আপসহীন ন্যায়পরায়ণতার জন্য। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে থেকেও তিনি যে সাদামাটা ও বিলাসহীন জীবনযাপন করে গেছেন, তা সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল।

১. ব্যক্তিগত সততা ও সাধারণ জীবনযাপন

ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ-সম্পদ গড়ার কোনো মানসিকতা তাঁর ছিল না। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনও তিনি ঢাকার একটি অতি সাধারণ বাড়িতে (যার ছাদ দিয়ে পানি পড়ত) সপরিবারে বাস করতেন। তাঁর ছেঁড়া গেঞ্জি ও সাধারণ তালি দেওয়া সুটকেসের গল্প কোনো রূপকথা নয়, বরং তাঁর চরম সততার এক বাস্তব ঐতিহাসিক দলিল। তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের একটি পয়সাও নিজের বা পরিবারের বিলাসের জন্য ব্যয় করেননি।

২. স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে ন্যায়বিচার

শহীদ জিয়ার ন্যায়পরায়ণতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ছিল তাঁর প্রশাসনে স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান ছিল না। তিনি নিজের ভাই বা আত্মীয়-স্বজনদের কখনো রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে দেননি। মেধা এবং যোগ্যতাই ছিল তাঁর শাসনামলে মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর, তা সে যত বড়ই প্রভাবশালী হোক না কেন।

বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুত্থান এবং আইনের শাসন

১৯৭৫ সালের পূর্বে বাংলাদেশে যে একদলীয় শাসনব্যবস্থা (বাকশাল) কায়েম করা হয়েছিল, তা থেকে দেশকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন করেন জিয়াউর রহমান। তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি রাষ্ট্রের আসল শক্তি লুকিয়ে থাকে তার জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে।

  • গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি: তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন এবং সব রাজনৈতিক দলকে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন।
  • আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে ও ন্যায়সংগতভাবে বিচার পায়, তার জন্য তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ করেছিলেন।

১৯-দফা কর্মসূচি: অর্থনৈতিক মুক্তির মহাকাব্য

বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে জিয়াউর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ১৯-দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক ইশতেহার ছিল না, বরং ছিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির এক বাস্তবমুখী রূপরেখা।

ক্র: প্রধান খাত গৃহীত পদক্ষেপ ও দর্শন
কৃষি বিপ্লব খাল খনন কর্মসূচি, বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ, সেচ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ।
স্বনির্ভরতা বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি।
গণশিক্ষা নিরক্ষরতা দূরীকরণে নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন ও গণশিক্ষা আন্দোলন।
শিল্পায়ন বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করা এবং তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের সূচনা।

খাল খনন ও কৃষি বিপ্লব

শহীদ জিয়া বিশ্বাস করতেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”। তিনি নিজে কোদাল হাতে নেমে দেশব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে “খাল খনন কর্মসূচি” শুরু করেন। এর ফলে হাজার হাজার হেক্টর অনাবাদী জমি সেচের আওতায় আসে এবং বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে উদ্বৃত্ত খাদ্যের দেশে পরিণত হওয়ার গৌরব অর্জন করে। একজন রাষ্ট্রপ্রধান নিজে জনগণের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মাটিতে নেমে কাজ করছেন এমন দৃশ্য এ দেশের মানুষ আগে কখনো দেখেনি।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ: একতার মূলমন্ত্র

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের মানুষের আত্মপরিচয় নিয়ে যে ধোঁয়াশা বা বিভাজন তৈরি হয়েছিল, জিয়াউর রহমান তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে তার অবসান ঘটান। তিনি উপহার দেন “বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ”-এর অনন্য দর্শন।

“ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিকের একমাত্র পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশি।”

এই দর্শনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের অভ্যন্তরে বসবাসকারী বাঙালি, পাহাড়ী, ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে একটি সুদৃঢ় ঐক্যের সুতোয় বাঁধা। এই জাতীয়তাবাদী চেতনা তৎকালীন সময়ে বিভক্ত জাতিকে পুনর্গঠনে এবং একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ম্যাজিকের মতো কাজ করেছিল।

পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উত্থান

শহীদ জিয়ার পররাষ্ট্রনীতি ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং দূরদর্শী। তাঁর ঘোষিত নীতি ছিল: “সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়।” মুসলিম বিশ্ব, পাশ্চাত্য শক্তি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে তিনি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক দরবারে এক মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করেন।

১. সার্ক (SAARC)-এর স্বপ্নদ্রষ্টা

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, শান্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক জোট “সার্ক” (SAARC) গঠনের মূল পরিকল্পনাকারী এবং স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন জিয়াউর রহমান। যদিও তাঁর জীবদ্দশায় এটি পূর্ণতা পায়নি, তবে তাঁর এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে তাঁকে একজন দূরদর্শী বিশ্বনেতা হিসেবে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

২. মুসলিম বিশ্বের সাথে সুসম্পর্ক

তিনি ওআইসি (OIC)-সহ মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় করেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির যে বিশাল বাজার আজ আমরা দেখছি, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন স্বয়ং শহীদ জিয়া। এর ফলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

সামাজিক ও যুব উন্নয়ন: তারুণ্যের শক্তি জাগরণ

একটি দেশ তখনই উন্নত হতে পারে যখন তার যুবসমাজকে সঠিক পথে চালিত করা যায়। জিয়াউর রহমান যুবকদের কর্মসংস্থান ও দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে “যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়” এবং মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য “মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়” গঠন করেন। যুব সমাজকে মাদকমুক্ত ও উৎপাদনমুখী করতে তিনি বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং স্বনির্ভরতা প্রকল্পের সূচনা করেন। তাঁর এই দূরদর্শী পদক্ষেপের সুফল বাংলাদেশ আজও ভোগ করছে।

এক নির্মম ট্র্যাজেডি এবং জনগণের হৃদয়ে স্থান

১৯৮১ সালের ৩০শে মে, চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে ভারতীয় কূটকৌশলে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের নির্মম বুলেটের আঘাতে এই মহান নেতা শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে গোটা বাংলাদেশ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল, নেমে এসেছিল শোকের ছায়া।

ঢাকায় তাঁর জানাজায় শরিক হওয়া লাখ লাখ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ঢল প্রমাণ করেছিল, তিনি কোনো জোর করে চাপিয়ে দেওয়া শাসক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন জনগণের চোখের মণি। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রাজমুকুট না থাকলেও, তিনি তাঁর সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং জাদুকরী ব্যক্তিত্ব দিয়ে এ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের সিংহাসন জয় করেছিলেন।

এক ক্ষণজন্মা জননেতার বিদায় ও তাঁর উত্তরাধিকার

সেই ক্ষণজন্মা পুরুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কমলের বিদায় সমগ্র বিশ্বে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। তাঁর জানাজায় অংশ নিয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম মানবসমুদ্র, যা সংখ্যার ফ্রেমে বেঁধে রাখা অসম্ভব। বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় ও বরণীয় এই ‘কৃষক রাজা’ কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। যুগে যুগে মানুষ তাঁকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে স্মরণ করবে।

আজ তাঁরই সুযোগ্য সন্তান জনাব তারেক রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে মজলুমের মতো জীবন অতিবাহিত করার পর, বীরের বেশে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে তিনি আজ পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন। তাঁর অত্যন্ত সাদামাটা জীবনযাপন, তৃণমূলের যেকোনো অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, শিশু ও গরিব-দুঃখীদের পাশে দাঁড়ানো, আলেম-ওলামাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসনের সাথে সুসমন্বয় দেশবাসীকে মুগ্ধ করেছে। অল্প সময়ের মধ্যে ভঙ্গুর এই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে তিনি যেন একটি সুন্দর ‘বিনি সুতোর মালা’ গেঁথেছেন। দেশের উন্নয়নের জন্য তিনি এক সুদূরপ্রসারী রোডম্যাপ তৈরি করেছেন। প্রতিটি মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে মনিটরিং করার মাধ্যমে দেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে এই মজলুম নেতা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একজন প্রধানমন্ত্রীর জন্য যেসব রাষ্ট্রীয় অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ থাকে, তিনি তা নিচ্ছেন না। রাষ্ট্রীয় তহবিলের অর্থ দিয়ে বাহাদুরি প্রকাশ করতে তিনি নারাজ, আর এ যেন ঠিক তাঁর পিতারই প্রতিচ্ছবি।

দলের ভেতরের সুবিধাবাদী ও সুযোগসন্ধানীদের দৌরাত্ম্য

দুর্ভাগ্যবশত, দলের কিছু সুবিধাবাদী ও তথাকথিত নেতা ‘আওয়ামী স্টাইলে’ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করায় প্রধানমন্ত্রী তাদের কঠোর হস্তে দমন করেছেন। প্রবাসেও এমন কিছু অতিউৎসাহী সুযোগসন্ধানী রয়েছেন, যারা বিগত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের ১৬ বছরে আওয়ামী নেতাদের কাঁধে ভর দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত ছিলেন এবং তাদের সাথে আমোদ-প্রমোদে মেতে ছিলেন। বিগত ১৬ বছরে দলের জন্য যাদের বিন্দুমাত্র অবদান ছিল না, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়াতে যাদের কোনো রাজনৈতিক তৎপরতাই দেখা যায়নি, তারাই এখন দেশে গিয়ে ‘হালুয়া-রুটির’ আশায় বড় বড় কথা বলছেন।

শোনা যাচ্ছে, এদের অনেকেই নাকি দেশের অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অফিস খুলে বসেছেন। কাউকে একজন প্রশ্ন করা হয়েছিল, “এগুলো কিসের অফিস?” উত্তর এলো, “এগুলো আসলে ‘ধান্দা ডট কম’- এর অফিস!” প্রধানমন্ত্রীর সাথে তোলা ছবি ভাঙিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করা, চাঁদাবাজি, অর্থ আদায় কিংবা জমি দখল করার মতো সেই পুরোনো ঐতিহাসিক নোংরা সংস্কৃতিই তারা আবার ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া বিএনপির স্থবিরতা ও ক্ষোভ

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী চলে গেল, অথচ অস্ট্রেলিয়া বিএনপির দুটি পক্ষের কোনোটিরই খোঁজ পাওয়া গেল না। জানা গেছে, দলটির ভাঙা দুটি অংশের দুই সভাপতি (?) বর্তমানে দেশে গিয়ে অফিস খোলার ধান্দায় ব্যস্ত। অস্ট্রেলিয়া বিএনপিতে কোনো যোগ্য ও আদর্শিক উত্তরসূরি না থাকার কারণেই আজ এমন নেতৃত্বের শূন্যতা ও গ্যাপ তৈরি হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করুন। (আমিন) ।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক দিকপাল। তিনি এমন এক সময়ে দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন যখন চারদিকে শুধু হতাশা। সেখান থেকে তিনি জাতিকে দিয়েছেন আশা, দিয়েছেন একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য। তাঁর সততা ছিল প্রশ্নাতীত, তাঁর দেশপ্রেম ছিল অতুলনীয় এবং তাঁর ন্যায়পরায়ণতা ছিল ঐতিহাসিক রাজাবাদশাহদের গল্পের মতো বাস্তব ও দীপ্তিময়।

আজকের বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক ভিত্তি, বহির্বিশ্বে যে শ্রমবাজার, কৃষি ও পোশাকে যে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন তার সিংহভাগেরই সূচনা হয়েছিল তাঁর হাত ধরে। ইতিহাসের পাতা উল্টে যাবে, বহু শাসকের উত্থান-পতন ঘটবে, কিন্তু এই পলিমাটির বাংলাদেশে শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো চিরকাল জ্বলজ্বল করবে। তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন প্রতিটি মুক্তিকামী ও দেশপ্রেমিক বাংলাদেশির প্রেরণার উৎস।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *